সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

অর্থ ছাড় না হওয়ায় ডিএনডি প্রকল্পে স্থবিরতা

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২১  

বরাদ্দের অর্থ নিয়মিত ছাড় না হওয়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এসেছে। প্রকল্পের ৫০ শতাংশেরও বেশি ভৌত অগ্রগতি হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বরাদ্দের টাকা ছাড় নিয়মিত করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠিও দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

 

এখন পর্যন্ত নতুন করে অর্থ ছাড় না হলেও শীঘ্রই তা হবে বলে আশাবাদী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা মিলিয়ে ডিএনডি। দীর্ঘ বছর ডিএনডি এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহান। ব্যতিক্রম ঘটেনি এ বছরও। তবে এই দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। একনেক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। প্রথম দফায় এই প্রকল্পের ব্যয় ৫৫৮ কোটি ধরা হয়।

 

২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে ১৩শ’ কোটি টাকা করা হয়। সময় বেড়ে ২০২৩ সালের জুন মাস নির্ধারণ করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ডিএনডি এলাকায় প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার খালের সীমানা পিলার স্থাপন করার পাশাপাশি প্রায় ৯৪ কিলোমিটার খাল নিষ্কাশন ও বর্জ্য অপসারণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পুনঃখননের মাটি দিয়ে ৯৪ কিলোমিটার খালের তীর উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়।

 

এছাড়া ৩২ হাজার ৫০০ ঘনমিটার অতিরিক্ত সংযোগ খাল পুণঃখনন, প্রায় ৯৪ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল পুণঃখনন এবং ৫২টি সেতু ও কালভার্ট মেরামত করার প্রস্তাব রাখা হয়। ডিএনডি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় দফায় অর্থ ও কাজের মেয়াদ বাড়ার পর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা করা হয়। তবে ওই অর্থবছরে মাত্র ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডিএনডি প্রকল্পের কাজ দ্রæত ও সুষ্ঠভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই অর্থবছরে আরও প্রায় ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল। যদিও পরবর্তীতে আরও প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশেরও বেশি কিন্তু আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বরাদ্দের অর্থ ছাড় নিয়মিত না হওয়ায় এই প্রকল্পের সম্পন্নকৃত ৯ দশমিক ১০ শতাংশ কাজের ১১৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না। কোভিড-১৯ এর কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদাররা বিল না পেয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন না। ফলে ডিএনডির অধিকাংশ চলমান কাজে স্থবিরতা চলে এসেছে।

 

এছাড়া তিতাস গ্যাস ও ওয়াসার পাইপলাইনসহ আন্যান্য উপযোগ স্থানান্তর খাতেও কোনো প্রকার অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পে বিদ্যমান উপযোগসমূহ স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। এতে খাল পুনঃখননসহ আরসিসি ব্রিজ, আরসিসি কালভার্ট ও ক্রস ড্রেনের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে ডিএনডির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে ভয়ানক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট বরাদ্দের ১৩শ’ কোটি টাকার মধ্যে ৫৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এই সমস্যা নিরসনে দ্রততার ভিত্তিতে বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থ ছাড় প্রয়োজন।

 

অর্থ চাহিদার কথা জানিয়ে গত ১৬ মে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আহসানূত তাকবিম চৌধুরী। জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আহসানূত তাকবিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের হাতে অল্প সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই মানুষকে জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে চাই। অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে স¤প্রতি কথা হয়েছে। শীঘ্রই অর্থের বিষয়ে সমাধান হবে বলে আশা করি।’