শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২   মাঘ ৮ ১৪২৮

অস্তিত্ব রক্ষায় মাঠে নামার ঘোষণা দিলেন শামীম ওসমান

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২২  

গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। ছবি : মেহেদি হাসান।

গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। ছবি : মেহেদি হাসান।

# ‘টু বি অনেষ্ট, আমি কিন্তু এখনো নৌকার পক্ষে নামি নাই, আজ থেকে নামবো’

# ব্রাদার-ফাদার-গডফাদার ওসব কেয়ার করিনা

# আইভীর জন্য গত নির্বাচনে শাড়ি, এবার দিয়েছেন দোয়া

# ‘গরীবের বউ যেমন সবার ভাবী হয়ে যায়, আমার অবস্থাও তেমন

# সাংবাদিকের প্রশ্ন; আপনার মুখের কথা আর অন্তুরের কথা ভিন্ন

 

 নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। তিনি বললেন, ‘কে নৌকার প্রার্থী, হু কেয়ার। কলাগাছ না আমগাছ। আমাদের দেখার বিষয়না। আমাদের দেখার বিষয় এটা আমার স্বাধীনতার নৌকা। নৌকাকে বিজয়ী করে আনতে হবে। ১৬ তারিখ খেলা হবে। এই খেলায় নৌকাকে বিজয়ী করব’। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন শামীম ওসমান। তারই প্ররোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তৈমূর আলম খন্দকার নৌকার বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনার পরও নৌকার প্রার্থীর পক্ষে শামীম ওসমান ও তার অনুগতরা কেউ নামেননি। এমনকি শামীম ওসমানের বড় ভাই সেলিম ওসমান তার অনুগত চেয়ারম্যানদের বিএপির তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে নামিয়ে ভোট চাইয়েছেন। এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতারা প্রকাশ্য সমাবেশে শামীম ওসমানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, আপনাকে ছাড় দেবোনা, আমরা বেঁচে থাকতে আগামীতে নৌকা পাবেননা। নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী অভিযোগ করেন, শামীম ওসমান বিএনপি নেতা তৈমূর আলমকে প্রার্থী করেছেন। মাঠ পর্যায়ে যে গোয়েন্দারা কাজ করেন তারাও কেন্দ্রকে সতর্ক করে বলেছেন, নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ওসমান শিবির কাজ করছেনা। বরং তারা নৌকাকে ডোবাতে সক্রিয় রয়েছেন। শামীম ওসমানকে নিয়ে যখন এতো আলোচনা-সমালোচনা, খোদ আওয়ামী লীগে তার উপর যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন শামীম ওসমান। গতকাল দুপুরে বাধন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে আসেন। তিনি বলেন, এতোদিন আমি ওভাবে নামিনি, তবে আজ থেকে আমি নৌকার পক্ষে কাজ করবো।

 

শামীম ওসমান বলেন, আমি মাঝে মাঝে বিস্মিত ও অবাক হই, আমি কেন সাবজেক্ট ম্যাটার হব? এটা আমার প্রশ্ন, আমি কেন সাবজেক্ট হই।নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন একটা ছোট সিটি করপোরেশন। মাত্র ৫ লাখ ১৯ হাজার ভোট। আমার প্রেসকনফারেন্স করার কথা না। আমার নির্বাচনী এলাকায় সিটির ১০টা ওয়ার্ড পড়ে। এরপাশে ফতুল্লার তিনটা ইউনিয়নে ৬ লাখ ভোটারের এলাকা। এখানেও কয়দিন আগে নির্বাচন হল, কেউ টেরও পেলনা, আমিও গেলামনা, কথাও বললাম না। কিন্তু সিটি নির্বাচনটা আসলেই যেন সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। ‘গরীবের বউ যেমন সবার ভাবী হয়ে যায়, আমার অবস্থাও তেমন।’ কেউ বলে আমি উনার, উনি বলে আমি উনার। দুইজন দুইদিকে নিয়ে যেতে চায়, আমি জানিনা। বিষয় হচ্ছে, আমি সত্য কথা বলতে পছন্দ করি। সব সত্য আমি বলতে পারবো না বিধায় আমি আমার বিবেকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

 

শামীম ওসমান বলেন, আমি এই কয়দিন চুপ ছিলাম, কারণ এটা আমার কাজনা। এখন যেভাবে আমার চুপ থাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে এবং আমার দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ দলের উল্টো দিকে থেকে ক্ষতি করছে, কেউ দলের সাথে হেঁটে ক্ষতি করছে। সে কারণেই ভাবলাম আমার কথা বলাটা উচিৎ।

 

শামীম ওসমান নিজেকে মানসিকভাবে শকড উল্লেখ করে বলেন, একটি কারণে আমি মানসিকভাবে শকড। আওয়ামী লীগের কিছু তেলবাজ, হাইব্রীডদের কারণে ৯৯ ভাগ ত্যাগী আওয়ামী লীগ কর্মীদের মনে রক্তক্ষরণ হয়। আমি ভেবেছিলাম, খুব খুলি মনে একটা প্রেসকনফারেন্স করবো, খুব খুশি মনে ঝাঁপিয়ে পড়বো আমাদের প্রার্থীর পক্ষে। কে কোন রিপোর্ট দিল, কে কোন সংস্থা কোন রিপোর্ট দিল ওই সংস্থা ফংস্থার রিপোর্টে বিশ্বাস করে যারা রাজনীতিতে উপর থেকে নীচে পড়েছে। আমাদের শিকড় মাটির তল থেকে উঠে আসা শিকড়। আমরা মাটিতে হাত দিলে বুঝতে পারি এই মাটি কী কথা বলতে চায়। মানুষের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি সে কী বলতে চায়। আমি একটা কথা বলতে চাই, আমি কাউকে ব্ল্যাইম (দোষারোপ) করি নাই, কবরকে শ্মশানের মাটি দিয় ঢেকে দেয়া হয়েছে। আমি বলছি শুধু এটা ইবলিস শয়তানের কাজ। আমাকে একটা মহিলার নাম ধরে প্রশ্ন করেছিল, আপনি কী তাকে দায়ী করেন? আমি তাকে ধমক দিয়ে বলেছি, তার নাম কেন বলছেন আপনারা। সেটি সাবজেক্ট না। কিন্তু একটা প্রেসরিলিজ আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। আমি সবাইকে বলেছি, তাকে আল্লাহর কাছে গোপনে হোক, প্রকাশ্যে হোক ক্ষমা চাইতে বলেন। আমি এখনও সেইটাই চাই।

 

শামীম ওসমান দাবি করেন, নৌকা নিয়ে অনেকেই সাথে চলছেন আবার নৌকাকে আন্ডার মাইন্ড করছেন। তার পাশে আতেল মানুষ, নাস্তিক মানুষ এমন এমন কথা বলছেন, লিপস্টিকওয়ালাদের বলতে চাই, নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি। নারায়ণগঞ্জ বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ঘাঁটি। এখানে অন্য খেলা খেলার চেষ্টা করবেননা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমরা একটা কথা বলতে চাই, বিএনপি-জামাত বলবে, বলবে। কিন্তু তার সাথে থেকে যারা বলবে, এটা কিন্তু দলের জন্য ক্ষতিকর। এটা প্রার্থীর জন্য ক্ষতিকর, নৌকার জন্য ক্ষতিকর। কে নৌকার প্রার্থী, হু কেয়ার। কলাগাছ না আমগাছ। আমাদের দেখার বিষয়না। আমাদের দেখার বিষয় এটা আমার স্বাধীনতার নৌকা।

 

তিনি বলেন, অনেক কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে বলছি। অনুরোধ করে বলবো, আমার কথা চিন্তা করে নয়, সৃষ্টিকর্তার কথা চিন্তা করে আল্লাহর কাছে মাফ চান। তাহলে অন্তুত আমি অন্তুত শান্তি পেতে পারি, ওকে ফাইন। আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে তো আর কিছু থাকেনা। মানুষ ভুল করবেই, শয়তান আর ফেরেস্তা ভুল করেনা।

 

শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বক্তব্যে দাবি করেন, আমি কিন্তু কাজ আগে থেকেই করছি। পরক্ষণে তিনি বলেন, টু বি অনেষ্ট, আমি কিন্তু এখনো নৌকার পক্ষে নামি নাই। কারণ মনের মধ্যে কষ্ট ছিল। কিন্তু নৌকার প্রার্থীর মধ্যে যুব মহিলা লীগ প্রোগ্রাম করেছে,তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা আমি করেছি, যুবলীগ প্রোগ্রাম করেছে, আপ্যায়নের ব্যবস্থা আমি করেছি। তারা আমার অতিথি, তাদের আপ্যায়ন করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু আমার যেভাবে নাম উচিৎ, সেভাবে নামতে পারিনি। আজকে থেকে আমি সেইভাবে নামলাম। আমার অনুরোধ থাকবে, আমার এতো বড় কষ্ট, আমি এটা কেন করবো প্রশ্ন করেছি। আমার বড় বোন, আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান গিয়ে আমার সাথে কথা বলেছে। তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার আগে আমাদের তিনভাইয়ের হাত আপার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। নৌকা আপার। ব্যস। বাকিটা আপার উপর ছেড়ে দাও। তিনি আমাদের অভিভাবক। তাই কেউ যদি মনে করে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের কথায় কিংবা বোমে ক্ষতবিক্ষত করবেন, করতে থাকেন কিন্তু শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর পরিবার, আদর্শ থেকে এক চুল বিচ্যুত হওয়ার আগে যাতে আমাদের মৃত্যু হয়।  

 

শামীম ওসমান বলেন, নির্বাচন ভালবাসা দিয়ে করতে হয়, নির্বাচন ধমক দিয়ে হয়না। জয় আমাদের হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি। এটা নৌকার ঘাঁটি। আমার মনে হয় জনগণের কাছে আমাদের যাওয়া উচিৎ। মিছিলে মিটিংয়ে পোষ্টারে ভোট আসেনা। মানুষের কাছে যেতে হবে, বলতে হবে। অপরকে দোষারোপ করে ভোট পাওয়া যায়না। আমি কী করবো, আমার ব্যর্থতা থেকে থাকলে আমি আগামী দিতে ওই ব্যর্থতা ওভারকাম করবো।

 

শামীম ওসমান বলেন, আওয়ামী লীগ বড় পরিবার। রাগ-অভিমান থাকবে। সমস্ত রাগ অভিমান ছেড়ে দিয়ে গালি-মামলা (আমার ডানে বায়ে মামলা খাওয়া আসামি আছে)। আমিও তো মানুষ। আমি তো রোবট না। আমারও খারাপ লাগতে পারে। ওটা তো আমার বাবা, ওটা আমার মা, ওটা আমার ভাই। বাদ দেন। তিনি ভাষাসৈনিক ছিলেন। তিনি এমপি ছিলেন। বাদ দেন। নাসিম ওসমান এমপি ছিল। বাদ দেন আমার মা ভাষাসৈনিক ছিল। বাদ দেন তার দুইটা ছেলে এমপি। অন্তুত একটা তদন্ত কমিটি করতেন। করলেননা কেন? শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের আপা। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা যদি এতো কষ্ট সহ্য করতে পারে তবে আমরা এটুকু পারবোনা।

 

বিএনপির তৈমূর আলম খন্দকারকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, আপনি আপনার মতো করেন আমাদের কোন আপত্তি নাই। হাতি দিয়ে নৌকা ডুবাই দিবেন। আমার মনে হয়না, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামাতের ওই ক্ষমতা আছে যে নৌকা ডুবায় দেয়ার ক্ষমতা আছে। হাতির সাইজ বড় হতে পারে। হাতির সাইজ বড় হইলে আমরা হাতি কান্ধে নিয়াই দৌঁড় দিমু। হাতিকে নৌকায় উঠতে দিমুনা। আমরা যখন জাগবো, অনেকে তখন ঘুমাবেন। যখন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জেগে উঠে তখন স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিরা আস্ফালন দেখানোর জায়গা পায়না। জয় বাংলা স্লোগান শুনলে অনেকের মনে কেঁপে উঠে।

 

আপনি কোন চাপে পড়ে প্রেসকনফারেন্স করছেন কী না এমন প্রশ্নে শামীম ওসমান বলেন, ভাগ্য যোদ্ধাকে বলছে, তুমি ঝড়ের সামনে দাঁড়াতে পারবেনা। যোদ্ধা ভাগ্যকে বলছে, আমি নিজেই ঝড়। এই ঝড়কে চাপ দেয়ার কোন ক্ষমতা কারো নাই। আমার মাথা থেকে রাজনীতি করিনা, মনের আবেগ থেকে রাজনীতি করি।

 

আপনাকে গডফাদার বলা হয় কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, এটা যে বলে তাকে জিজ্ঞাসা করা উচিৎ। এখন যদি কারও ইচ্ছা হয়, আজ গডফাদার বলতে, বলবে। দুইদিন আগে কারও ইচ্ছা হয়েছে ব্রাদার বলতে, বলেছে। কারও মনে হয়, আজকে তোমাকে ব্রাদার বলবো, কালকে তোমাকে ফাদার বলবো, পরশু তোমাকে গডফাদার বলবো। ভাই যাই বলেন, বলেন; কিন্তু গডমাদার বইলেননা। কে কি বলবো, আমি ওসব কেয়ার করিনা। বলাবলিতে কিছু যায় আসেনা। গালি খেতে খেতে, আজ থেকে ৫ বছর আগে একটা শিক্ষা পেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নীলকণ্ঠী। তাহলে তাকে অনুসরণ করে আমরাও নীলকণ্ঠ হলাম। হজম করলাম। কেউ শান্তি পেলে পাক না।

 

তৈমূর শামীম ওসমান-সেলিম ওসমানের প্রার্থী আইভীর এমন দাবি প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তরে শামীম ওসমান বলেন, তিনি প্রার্থী। নির্বাচন করতে গেলে অনেক সময় মাথার স্ক্রু-টিস্ক্রু ঢিলা হয়। এটা উনার ব্যাপার। শোয়া ৫ লাখ লোকের একটা ইলেকশন। যারা নির্বাচনটা কষ্ট করে পরিচালনা করছেন। জাতীয় পর্যায়ের ডাকসাইটের নেতারা নারায়ণগঞ্জে এসে নির্বাচন করছেন। একেক জনের একেক রকম বর্ণাঢ্য জীবন।যারা বলছেন, এই নির্বাচন বিএনপি-জামাতের কৌশল। আমি কারটাকে সঠিক বলবো। আমি তার প্রশ্নেরও উত্তর দিতে চাইনা। এটা নির্বাচনে এফেক্ট পড়বে। নৌকা ১৬ তারিখের বিজয়ী হওয়ার পর আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিব। খেলা অবশ্যই হবে ১৬ তারিখে। আমরা জিতব।

 

গত সিটি নির্বাচনে আইভী নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর আইভকে শাড়ি উপহার দিয়েছেন এবার কী উপহার দেবেন এমন প্রশ্নে শামীম ওসমান বলেন, এবার দিব দোয়া। যাতে আল্লাহ তাকে হেদায়েত করেন।

 

আইভী-শামীমের দ্বন্দ্ব আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কিনা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা যখন নারায়ণগঞ্জে এসে বলেন আপনি, সিংহপুরুষ রাজনীতির পেছনে ষড়যন্ত্র করছেন, আপনার মুখের কথা অন্তরের কথা ভিন্ন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শামীম ওসমান বলেন, যখন খুনি পরিবার, এই পরিবার ওই পরিবার কনটিনিউয়াসলি বলে যাচ্ছে, রাজাকারের ছেলে। যদি এনিমিটিই থাকতো, হতো আমি ওই পর্যায়ের নেতা না, যে এনিমিটি করবো। এটা যুবলীগর সভাপতি সাজনু হতে পারে। আমি ভেবেছি নারায়ণগঞ্জে এতো কাজ করেছি, নারায়ণগঞ্জে যেমন চাই তেমন হয় নাই। ধর্মীয় কারণ ৫০ পারসেন্ট। ৫০ পারস্টেন্ট পলিটিক্যাল কারণে। ধর্মীয় কারণে চাচী মারা যাওয়ার পর কবরস্থানে গিয়েছে, রাজনৈতিক কারণে গেছি বাসায়। তাদের মিলাদের দাওয়াত আমি দিয়েছি। আমি যদি দাওয়াত দিতে পারি আমি কি এক্সপেক্স করতে পারিনা সিটি করপোরেশনের আন্ডারে যেই কবরস্থান , আমার জীবনে আমি এতো কাঁদি নাই। আমার ক্ষমতা আছে ২ ঘন্টার মধ্যে লাখ লোক জড়ো করার। আমি ডাকি নাই। উল্টা আমার নামে প্রেসবিজ্ঞপ্তি। এটা তিনি কেউ করে নাই, তাকে দিয়ে কেউ করিয়েছে। এই করিয়েছেরাই কিন্তু এখন লিফলেট বিলি করছে, প্রার্থীর ছবি আছে, নৌকার ছবি নাই। কেন্দ্র চেষ্টা করেছে। তাদের কাছে আমার একটা কথাই ছিল, আল্লাহর কাছে যাতে একটা দুঃখপ্রকাশ করে। কেন্দ্র আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু এর মধ্যে আবার কিছু লোক আছে তারা নির্বাচন করছে কম, পার্টি অফিসে বসে থাকছেন বেশি। মুখ থাকছে কেন্দ্রীয় নেতাদের কানের সামনে বেশি। উনি আবার উনার ভবিষ্যত চিন্তা করছেন। কোন কমিটিটা ভাঙবো, কোন কমিটিতে আবার উনি যাবেন। সমস্ত ব্যাপার স্যাপার মিলিয়ে শেখ হাসিনার নৌকাকে পাশ করাতে হবে, করাবোই।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর যুব লীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর