মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

আনোয়ার গুরু, সেলিম ওসমান ডিজিটাল গুরু

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৪  


নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, অনেকের অনেক চাহিদা আছে, চাহিদার কোন শেষ নেই। অনেকের সাথে অনেকের ঝগড়া আছে। ঝগড়ারও শেষ নেই। তার সাথে অনেক সম্পর্কই আছে। এর মধ্যে একটা হল উনি আমার দুলাভাই। নির্বাচনের সময় অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে, ঝগড়া হয়েছে। এগুলো হয়, হবেই।

 

 

তিনি বলেন, যেকোন ভাবে হারাম খাওয়া, জমি দখল করা এসকল অপকর্মের বিচার এখানেই হবে। আনোয়ার ভাইকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার বাবার সহকর্মী ছিলেন। তার কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তাকে আমি গুরু বলতাম এখন তিনি আমাকে বলে ডিজিটাল গুরু। গতকাল শনিবার (৮ জুন) মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

 


শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনা করলে পুলিশের অপেক্ষা করবে না। রাস্তায় বের হয়ে যাবে। ওদের জুতাপেটা করবে। তোমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকলে কোন সমস্যার সমাধান হবে না। আমি জানি না, বারবার বলার পরেও প্রশাসন এটা দেখছে না। এটা পুলিশের কাজ, আমাদের না।

 

 

বাচ্চাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পুলিশের। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এসপি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করবো এই বাচ্চাদের আপনারা উদ্ধার করুন। আমরা প্রয়োজনে এই নিরাপত্তার জন্য দাঁড়াব। প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাবো, আমাদের বাচ্চার যেন অসুবিধায় না পড়ে। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, আনোয়ার সাহেবের সাথে একসময় আমার সুসম্পর্ক ছিল।

 

 

তাকে আমি গুরু বলতাম। আজ তাকে গুরু বলতে ইচ্ছে করছে। এই চারতলা ভবন আজ আট তলা হয়ে গেছে। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবো প্রয়োজনে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। এই বিল্ডিংটাকে আমরা আট তলা করবো। সদর থানা ও মেয়র আইভীকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আমি আমার মেয়রের কাছে অনুরোধ করবো এখানে যারা বসে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। বিশেষ করে গার্লস স্কুলের সামনের জায়গাটুকু। আর সদর থানাকে অনুরোধ করবো স্কুল শুরু ও ছুটির সময় আপনারা পেট্রোল করুন। বাচ্চাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন। স্কুলের সামনে গার্ড বসানোর ব্যবস্থা করুন।

 


নষ্ট জেনারেটরের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এখানে জেনারেটর আছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এটা ঠিক না করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটা বন্ধ করে দেয়া হবে। আমি কমিটির কাছে অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে জেনারেটর পরিবর্তন করুন। আমি ও আমার ব্যাবসায়ীরা সহায়তা করবো। বাজেটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট হচ্ছে। আমাদের ব্যাবসায়ীদের জীবন যায় যায় অবস্থা। এই বাচ্চাদের আমি আমার নাতি নাতনির মত ভালবাসি। তোমরা ভাল হলে তোমরাই পারবে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সেনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।

 


স্কুল কমিটির প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, আমাদের বদ অভ্যাস। আমরা একে অপরের পেছনে লেগে থাকি। ইদানীং স্কুল কমিটির জন্য অনেকে মামলা করে। আমরা ভাল লোক দিলে মামলা করে। আপনি যেই হন, স্কুলের কমিটিতে যাওয়ার কথা যদি ভাবেন সেটা আপনার ইচ্ছায় হবে না। আমাদের সাথে বসুন। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। আমি আনোয়ার ভাইয়ের বাসায় যেতাম। আনেয়ার ভাইও আমার বাসায় আসত।

 

 

তিনি আমাকে বললেন সেলিম ভাই সময় দিতে পারবেন। আমি বললাম শনিবার করেন, ওইদিন সংসদ বন্ধ থাকবে। আগামী শনিবার চলবে। যেকোন ভাবে বাজেট করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষায় অনেক অনুদান ও ভর্তুকি দিচ্ছেন। আমি যেকোন উপায়ে হোক, মর্গ্যান স্কুলকে আমি ভাল জায়গায় আনবো। আমার রেজাল্ট কিন্তু ভাল লাগেনি। আমি অনুরোধ করবো ভাল ছাত্রীদের এই বন্ধেও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করুন।

 

 

হাই স্কুলের মত মর্গ্যান স্কুলেও যেন জিপিএ বাড়ে। নয়ত আমাকে আর খুঁজবেন না। আমাদের চারটা ছাদ। এখানে আমরা ভালমত ছাদ বাগান করলে অর্ধেক স্কুলের খরচ এখান থেকেই চলে আসবে। এটা জানতে হবে। একটা বাচ্চা পাঁচটা মুরগী পালন করলে তিনটা ডিম পাবে। আমরা সরকারি অনুদান নিয়ে ওদের সহযোগিতা করতে পারি। আমি ক্ষমা চাই। আমার অবস্থা অনেক খারাপ। আমার বাম পা দুইবার ভেঙে গেছে।

 

 

আল্লাহ রহমত করেছে। আমার কাছে ও সরকারের কাছে চাওয়ার কিছু নেই। ভাল কাজ হবে ভাল ফাইনান্স আসবে। শুরু করলেই হবে। তোমরা ছাদ বাগান করো। তোমরা টিফিনের কথা বলেছো। তোমাদের ব্যাবসা শিখতে হবে। তোমরা বানিয়ে নিয়ে আসো খাবার। তোমরাই ব্যাবসায়ী হয়ে যাবে। আরেকজন লোক আসলে মাসে বিশ পঁচিশ হাজার টাকা নিয়ে যাবে। তোমরা চেষ্টা করলেই পারবে।

 

 

আমাদের চাহিদা একটাই। তোমাদের ভাল রেজাল্ট চাই। আমি প্রধান শিক্ষককে বলতে চাই কে কমিটিতে থাকবে এটা আপনাদের ব্যাপার না। আপনারা ভাল রেজাল্ট আনুন। কমিটি যেটা আছে সেটাই থাকবে আমি যদি বেঁচে থাকি। আনোয়ার ভাই থাকবে হাবীব থাকবে আরও যারা ছিল তারাও থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যদি পনেরো বছর থাকতে পারে আনোয়ার ভাই প্রয়োজনে আজীবন থাকবে।

 

 

তোমাদের বাবা মাকে বলবে নির্বাচন করলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে যেন করে। আমাকে এখানে আসা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের বলব আমার ব্যাপারে কিছু বললে সরাসরি বলুন। আমি উত্তর দেব। আমার পেছনে কথা বলবে, আমার বাবা মা তুলে গালি দিবে ওরা শয়তান। যারা ভাল মানুষ তারা আমার সামনে এসে কথা বলবে। আমাদের মিলনমেলা হয়েছে।

 

 

আমাদের মেয়রকে নিয়ে আমরা একসাথে বসেছি। কোরবানির ঈদ পর্যন্ত যেভাবেই হোক আমরা যানজট কমাতে পেরেছি, ফুটপাত থেকে দোকান সরাতে পেরেছি। ঈদের পরে আমরা এই বাচ্চাদের যে অভিযোগ ডিস্টার্বের আমরা এটারও সমাধান করবো। আমি আনোয়ার ভাইকে বলব, আপনারা একটা দল করেন। তার নাম আওয়ামী লীগ, তার সাথে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ। আপনারা এত বড় একটা দল।

 

 

আপনারা কখনও একসাথে হন না। আমাদের মাঝে ভুলক্রটি হবেই। সেই ভুল থেকে আমাদের সমাধানে আসতে হবে। যা ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার হয়েছে। কালকে সকাল থেকে যেন এগুলো না থাকে। আমরা এক হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমরা লালন করতে পারবো। আমরা যেন ঝগড়া না করি সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকদের বলতে চাই খারাপ করলে খারাপটা লিখুন।

 

 

তবে বানিয়ে লিখবেন না। আমরা তিনটা সংস্থা একসাথে কাজ করছি।  প্রেসক্লাব, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার ও নারায়ণগঞ্জ বার। আমরা যদি এক থাকি আমার মেয়র যদি এক থাকে এই কলেজ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কলেজ হবে। আমি অনুরোধ করবো আমি যাওয়ার পরে এখানে যেন কেউ ইভটিজিং না করে।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি দুলাল, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য এস এম আহসান হাবিব।

 

 

১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. রুমন রেজা, স্কুলের অভিভাবক কমিটির সদস্য হুমায়ূন কবির, মোশাররফ হোসেন জনি, জানে আলম জানু, সহকারী প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তার, শিক্ষক প্রতিনিধি বিনোদ কুমার দেবনাথ, হাজেরা আক্তার, শাহনুর আলম প্রমুখ।     এন. হুসেইন রনী  /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর