শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১০ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু এখন পরিত্যক্ত ডোবা!

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি পায় এই স্টেডিয়াম। তবে রক্ষণাবেক্ষণ আর সংস্কারের অভাবে এটি এখন একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। স্টেডিয়ামটির ১ নম্বর গেটের সামনে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। যতদূর পর্যন্ত চোখ যায় শুধু দুর্গন্ধযুক্ত কোমর সমান কালো পানি।


 
সরেজমিন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই স্টেডিয়ামের এমন করুণ অবস্থা দেখা যায়। স্টেডিয়ামটি এখন এতটাই বেহাল, যা দেখে যে কেউই এটাকে পুকুর বা পরিত্যক্ত খাল ভাবতে পারেন। স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট দিয়ে বাইরের ময়লা পানি তীব্র স্রোতে গ্যালারি পর্যন্ত গিয়ে মিশছে। ২০০৬ সালের ৯-১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয় বাংলাদেশের টেস্টের ইতিহাস। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০-১৪ জুন বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এই স্টেডিয়ামে। এখনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এ মাঠে গড়ায়নি। বছর খানেক আগেও মাঠটিতে দুয়েকটি ক্লাব ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টের খেলা ছাড়া আর কোনো খেলা হয়নি।


 
২৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম ২০০৬ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ ও কেনিয়ার ওডিআই দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এক মাস পর ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের ওডিআই ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হয় এই স্টেডিয়ামের ওডিআই পর্ব। ২০০৬ সালের ৯-১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হয় টেস্টের ইতিহাস।


 
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত স্টেডিয়ামের পাশে ময়লা অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন করা হোক। ফলে জায়গাটি হয়ে উঠবে খেলোয়াড়-দর্শক ও জনসাধারণে অন্যতম প্রিয় এলাকা। এখানে শিশু-কিশোর ও তরুণরা যেমন সানন্দে খেলায় মেতে উঠতে পারবে, তেমনি বয়স্করাও প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে পারবেন।


 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেটের সামনে যে আবর্জনার স্তূপ দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশ করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ব্যবহার করা বালিশ-তোষক। এ ছাড়া সামনে যে বালির স্তূপ সেটার কোলঘেঁষে থাকা জায়গাটি ট্রাক মেরামতে ব্যবহার হয়ে আসছে।


 
সাইনবোর্ড এলাকা থেকে স্টেডিয়ামটিতে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত খেলতে যেত কিশোর আদিব হাসান। সে জানায়, এখন স্টেডিয়ামের ভেতরেও পানি, বাইরেও পানি। পাশাপাশি কচুরিপানা আর ময়লা পানি তো আছেই। কয়েক মাস আগে লকডাউন চলাকালে গেটের একপাশে আমরা বন্ধুরা খেলাধুলা করতাম। এখন আর তেমন যাওয়া হয় না।
 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্টেডিয়ামের একজন নিরাপত্তারক্ষী বলেন, চোখের সামনে এই স্টেডিয়ামটির ধ্বংস হওয়া দেখছি। প্রবেশপথগুলো পানি আর আবর্জনার স্তূপ হয়ে গেছে। আমি নিজে সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে বিষয়গুলো দেখিয়েছি। আগে মাঠের ভেতরে এলাকার ছেলেরা খেলা করতে আসত। এখন তো মাঠের ভেতরেও একেক জায়গায় হাঁটুপানি।


 
নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু বলেন, ফতুল্লা খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামটি আমাদের নারায়ণগঞ্জের অধীনে নয়। এটি ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে। জলাবদ্ধতার ব্যাপারটি নিয়ে তারা কাজ করছেন। পাশাপাশি আমরা স্থানীয়ভাবে অসংখ্যবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এটা তুলে ধরেছি। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি যেন শিগগির আন্তর্জাতিক মানের এই ক্রিকেট ভেন্যুটি সংস্কার করা হয়।


 
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামটি আমরা ব্যবহার করি। তবে এই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জ আছে। স্টেডিয়ামের আশপাশের অনেক জায়গা থেকে পানি ঢুকে এটা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে আমরা নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে পারি না। সেজন্য আমরা বুয়েটকে দায়িত্ব দিয়েছি। আবার কীভাবে স্টেডিয়ামটিতে প্রাণ ফেরানো যায় সেজন্য বুয়েটই কাজ করছে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এটা নিয়ে দৃশ্যমান কাজ শুরু করার।
 

এই বিভাগের আরো খবর