Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নতুন ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ

Icon

আল আমিন তুষার

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৩ এএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নতুন ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ

গতকাল রূপগঞ্জে মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি তুলেছেন আলআমিন তুষার।

Swapno

গতকাল থেকে নতুন ঠিকানায় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এখন থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজন করা হয় এই মেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনভবন থেকে সকাল ১১ টা ২০ মিনিটে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে মাসব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে গবেষণার উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান কূটনীতি হবে বাণিজ্য ও অর্থ সংক্রান্ত। বিশ্বে নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখতে গবেষণা করতে হবে উদ্যোক্তাদের। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তির উন্নয়নে এ উদ্যোগ রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদেরকেই নেয়ারও তাগিদ দেন তিনি।


মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রী জনাব টিপু মুন্সী তার বক্তব্যে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল ২ বছর আগেই অর্জন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এদেশে এখন ব্যবসায়ের জন্যে বিদেশিদের আরো বেশি আগ্রহী করতে নানান পদক্ষেপ এর কথা জানান।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এবছদের আইসিটি পণ্য এবং সেবাকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এর নানার খাতে উন্নয়ন কে তুলে ধরা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্য মন্ত্রী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য অতিথিরা ঘুরে ঘুরে মেলা পরিদর্শন করেন।


মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত করা হয়েছে এবার মেলার পরিসর। ছোটবড় মিলিয়ে ২২৫ টি স্টল-প্যাভিলিয়ন দিয়ে সাজানো হচ্ছে মেলা; যেখানে ২০২০ সালে ছিল ৪৫০ টি। আগের মতো এবারওে টিকেটের দাম রাখা হচ্ছে শিশুদের জন্য ২০ টাকা এবং বড়দের জন্য ৪০ টাকা। এবারের মেলার চমক হচ্ছে আগের মতো খোলা আকাশের নিচে এবারের মেলা হচ্ছে না। প্রদর্শনী কেন্দ্রের স্থায়ী অবকাঠামোর ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে এবারের মেলা সাজানো হয়েছে। স্থায়ী অবকাঠামো হওয়ার কারণে এবারের মেলায় শিশুপার্ক কিংবা শিশুদের বিনোদন কেন্দ্র রাখা হয়নি। তবে বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকছে। ছোট ফুড কোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য খাবার দোকান থাকবে। মেলা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিআরটিসির ৩০ টি বাস পূর্বাচলে যাতায়াত করবে।


করোনার প্রভাবে কমেছে বিদেশি স্টল মেলা। কেবল তুরস্ক, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি কোম্পানি স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নিচ্ছে। ১৯৯৫ সাল থেকে শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পূর্বাচলে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হলেও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা আর মাঠে গড়ায়নি। এবার ২৬ তম আসর পূর্বাচলেই বসছে।


পূর্বাচলে কাঞ্চন ব্রিজের কাছে ৪ নম্বর সেক্টরে ২০ একর জমির উপর এই বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর মেলার অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি ইপিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে ৯ বর্গফুট আয়তনের ৮০০টি স্টল রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে ছয় একর খোলা জায়গা। চাইলে সেখানেও অস্থায়ী স্টল বসানো যাবে। প্রদর্শনী কেন্দ্রের মোট ফ্লোর স্পেস ৩৩ হাজার বর্গমিটার। ভবনের মোট ফ্লোর স্পেস ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলের মোট আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার। দোতলা পার্কিং ভবনে ৭ হাজার ৯১২ বর্গ মিটার জায়গায় রাখা যাবে ৫০০ গাড়ি। এছাড়া এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের সামনে খোলা জায়গায় আরও এক হাজার গাড়ি রাখা যাবে।


নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আমির খসরু জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নির্বিঘ্নে আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সার্বিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ৯শ’ এরও বেশি পুলিশ সদস্য মেলা প্রাঙ্গণে মোতায়েন থাকবেন। দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাথের্ থাকবেন ট্রাফিক। র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও আনসার ছাড়াও সাদা পোশাকে সব বাহিনীর লোক এখানে কাজ করবেন। নিরাপত্তার জন্য পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।


ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ঢাকা জোন-৩ এর কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার অগ্নি নির্বাপনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তা ও ফায়ারম্যান মিলে ৩০ জন ২৪ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করবেন। অগ্নি নির্বাপনের জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।


মেলায় আসা এক দর্শনার্থী তাজিন আহমেদ বলেন, "প্রথম দিন বলেই আসা তবে এখনও পুরোদমে শুরু হয় নি। পুরোপুরি সব গুলো স্টল সাজানো হলে অবার আসবো আরো ভালো লাগবে, এখন থেকে আমাদের নারায়ণগঞ্জ এ হবে সেটা আমাদের জন্যে গর্বের।"


মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অভিবাসন মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমেদ ,নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রকাশক মস্তাইন বিল্লাহ , পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডি এস বি) সফিউল ইসলাম , বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বৃন্দ , ব্যবসায়ী নেতা , নারী উদ্যোক্তা সহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন