মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

আন্দোলনে উধাও গিয়াস-খোকন

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২৩  

 

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বর্তমানে ১ দফা দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে থাকলে ও রাজপথে নেই বিএনপির মূল মূল নেতাকর্মীরা। বর্তমানে বিএনপির কঠোর আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে অবরোধ-হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দলীয় হাইকমান্ড থেকে দেওয়া হলে ও হাজারো নাশকতা মামলায় জর্জরিত হয়ে রাজপথে নামতে পারছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

এছাড়া ও কিছু কিছু নেতাকর্মী আত্মগোপনে থেকে রাজপথে আসলে ও তাদের যাচাই বাছাই করে গ্রেফতারের তীব্রতা আরো বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি জানিয়েছে বিএনপি যার কারণে রাজপথ থেকে অনেকটাই পা পিছিয়ে রেখেছেন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আন্দোলনে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে পূর্নাঙ্গ কমিটি না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়েই চলছিলো জেলা বিএনপির রাজনীতি।

 

গিয়াস-খোকনে দলীয় আন্দোলনে দফায় দফায় রাজপথে চমক প্রদর্শন করেছেন। যার কারণে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির আস্থা ছিলো গিয়াস-খোকনে। কিন্তু গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পশু হওয়ার পর থেকেই আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে না গিয়াস-খোকনকে যার কারণে নেতাকর্মীরা বর্তমানে বিচলিত হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে মহাসমাবেশের পর থেকে প্রায় পাঁচ দফায় অবরোধ ও সর্বশেষ তফসিলকে প্রত্যাখ্যান করে হরতালে ও গিয়াস-খোকনের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।

 

তারপরেও ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানায় অবরোধ ও হরতালকে ঘিরে ১৭-১৮টি নাশকতা মামলায় মূল আসামী দেওয়া হয়েছে এই গিয়াস-খোকনকে। কিন্তু এখনো রাজপথে দেখা নেই এই দুই নেতার। তা ছাড়া বর্তমানে জেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ না থাকায় রশাতলে জেলা বিএনপির রাজনীতি। এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, গিয়াস ও খোকনের সাথে নেতাকর্মীরা কোনভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না।

 

দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, এছাড়া ও যেহেতু কঠোর আন্দোলন চলমান আর তারা দুইজন ছাড়া জেলা বিএনপিতে কেউ নেই যার কারণে তাদের দিক নির্দেশনা জানার প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু তারা কোথায় মামলায় আত্মগোপনে ঘাপটি মেরে বসে আছেন এটা কাউর জানা নেই যার কারণে নেতৃত্ব শূণ্য থাকায় অবরোধ ও হরতালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন জোরদার ভূমিকা নেই বললেই চলে।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে হামলা, হত্যা, গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং সরকার পতনের এক দফা দাবিতে এর আগে ২৯ অক্টোবর হরতাল এর পর থেকে দফায় দফায় অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয় কিন্তু এই কর্মসূচি পালনে ঢিলেঢালা ভূমিকা ছিলো নারায়ণগঞ্জের। মূল দল নয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কোন রকম ঝটিকা মিছিল বের করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আত্মসম্মান রেখেছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে হরতাল ও অবরোধের কোন প্রভাব পরছে না বললেই চলে।

 

সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও শুধু দূর পাল্লার বাসের দেখা কম মিলে তা ছাড়া বাকি সব স্বাভাবিক বলা চলে। এদিকে আন্দোলনের সফলতা না পাওয়ার পিছনে নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে ধুশছেন নেতাকর্মীরা। তাছাড়া বিএনপির বর্তমানে দূর সময় এমন অবস্থায় সংগঠনটিকে নেতৃত্ব না দিয়ে তারা হঠাৎ আন্দোলনে উধাও হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিএনপির একাধিক সূত্র।

 

জানা গেছে, এর আগে গত ১৮ তারিখ ঢাকায় যুব সমাবেশ থেকে মহাসমাবেশের ঘোষণা করার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজ বাসভবনে থাকতে পারছেন না। যার কারণ হলো নিয়মিত পুলিশ ও ডিবির তল্লাশীর কারণে এমনকি বিভিন্ন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ও রয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের দাবি, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে ফিরে পুলিশি হয়রানির চাপ আরো বৃদ্ধি হয় সেখান থেকে বাঁচতে, মামলা ও গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন যাবৎ কেউ আর বাড়িতে থাকছেন না।

 

তারপরে ও কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হরতাল-অবরোধ আবারো হরতাল কর্মসূচি আসছে কিন্তু কোন ভূমিকা নেই নারায়ণগঞ্জে। এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে গিয়াস ও খোকনের সাথে সর্বশেষ ২৮ তারিখ ঢাকার মহাসমাবেশে শোডাউনে দেখা হয়েছিলো তারপর থেকে যখন আন্দোলন আরো কঠোর হলো তারা ও নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলো। এখন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অঙ্গসংগঠনের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী রাজপথে ঝটিকা মিছিল করে আসছে। এস.এ/জেসি
 

এই বিভাগের আরো খবর