শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

আলীরটেক আওয়ামীলীগ বিভক্ত নেপথ্যে বাদল ও মামুন

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১  

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুুরুজ্জামান সরকার ইন্তেকালের পর ওই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ অনেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পরে। এর আগে এই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলী আকবর সরকার না ফেরার দেশে চলে যান।

 

দলের দুই কর্ণধারকে হারিয়ে আলীরটেক আওয়ামীলীগ অভিভাবক শুন্য হয়ে পরে। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর এখানে নতুন কমিটিতে সভাপতি সেক্রেটারি যারা আসতে চায় তাদের দিখন্ডিত করতে একটি চক্র নয়া মিশন নিয়ে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মিশনের নেপথ্যে কাজ করছে সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এবং জেলার সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।

 


এদিকে আলীরটেক আওয়ামীলীগের নুরুজ্জামান সরকারের স্মরণে শনিবার আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভা নিয়ে দলের নেতাদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে। এই সভাকে কেন্দ্র করে দলের মাঝে বিভক্ত তৈরী হয়েছে। একটি পক্ষ বলছে আলীনুর মোল্লার টাকা দিয়ে এই সভা হচ্ছে। আরেকটি পক্ষ বলছে দলের এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা না করে এই সভার আয়োজন করা হয়। যার জন্য অনেকে এই সভাকে বয়কট করবে বলে জানান। সভার আয়োজন কারী এক নেতা বলেন, এই স্বরণ সভাকে বাতিল করার জন্য আল মামুন সদর থানায় বসে কলকাটি নারছে। একই সাথে কয়েকজন ব্যক্তিকে দিয়ে এই সভা পন্ড করার জন্য বাধা তৈরী করছে। আলীরটেক আওয়ামীলীগকে দুটি ভাগে বিভক্ত করছে। যা নিন্দনীয় ঘটনা। এই সভা নিয়ে নেতাদের মাঝে ক্ষোভ দেখা যায়।

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, হাইব্রিড আওয়ামীলীগাররা দলীয় ঐক্য নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাঁদের প্রতিহত করতে হবে। হাইব্রিড আওয়ামীলীগাররা বিএনপি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দলে অনুপ্রবেশ করেছে। তাঁরা দলীয় ঐক্য নষ্ট করতে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। আওয়ামীলীগ কারো টাকায় চলে না। কেউ যদি মনে করে দুই একজন নেতাকে টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে সে বড় নেতা হয়ে যাবে তাহলে তিনি ভূলের মাঝে আছে। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র আছে। তার বাইরে কেউ যেতে পারবে না।

 


তারা আরও জানান, গোগনগর ইউনিয়নের পর এবার আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে বিভক্ত তৈরী হয়েছে। ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দূরত্ব হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে দলের ভেতর ও বাইরের কিছু নাধারী নেতা বনে যাওয়া ব্যক্তি। যার প্রভাব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর পরেছে। আর পেছনে কলাকঠি নারছেন সদর থানার সেক্রেটারি আল মামুন এবং জেলার সেক্রেটারি ভিপি বাদল। এই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান সরকারের স্বরনে আলোচনা সভা হবে অথচ তৃনমূল নেতারা তা জানেন না। এটা সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে সভাটি কার উচিৎ ছিল বলে মনে করেন সচেতন রাজনীতিবিদ।

 


উল্লেখ্য ২০০৩ সনে আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে আলী আকবর সরকার সভাপতি এবং নুরুজ্জামান সরকার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কয়েক বছর পর আলী আকবর সরকারের ইন্তেকালের পর কমিটির সহ সভাপতি শাহাব উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। তবে তিনি শারিরিক অসুস্থ্যতার জন্য দলের কার্যক্রম পরিচালনায় অংশ নিতে পারেন না। এতোদিন যাবৎ নুরুজ্জামান সরকার আলীরটেক আওয়ামীলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর দল মাঝে অভিভাবকহীন হয়ে পরে। এজন্য দলের তৃনমূল নেতাদের মাঝে হতাশা তৈরী হয়েছে। তৃনমূল একটি শক্তিশালি কমিটি চায়। যার মাধ্যমে দল সু সংগঠিত হবে।

 


আলীরটেক আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাব উদ্দিন জানান, আমি অসুস্থ্য। আমার কাছে শহীদুল্লা পাটোয়ারি শুধু একটি সই নিছে আর বলছে শুক্রবার একটা সভা হবে, কি বিষয়ে সভা হবে তা আমি জানিনা। মনে হয় সভাটি আজ হয় নাই।

এই বিভাগের আরো খবর