রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৮

আয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে কাটছাট করতে হচ্ছে বাজার তালিকা

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২১  

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে আলুর দাম। গত সপ্তাহে যে আলু বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা কেজি। সপ্তাহ ঘুরতেই ৫ টাকা কেজিতে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি, ব্রয়লার মুরগি, কক মুরগি, ডিম কোন পণ্যেরই দাম কমেনি। গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় বাজারে কোন পণ্যেরই কমতি ছিল না। কিন্তু অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারন মানুষ। আজকে বাড়ছে চালের দাম কাল বাড়ছে তেলের দাম। ডাল, পেঁয়াজ, আটা, ময়দা, মরিচ, আদা, চিনি কোন পণ্যের দাম স্থির নেই। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে।  

 

গতকাল নগরীর দ্বিগবাবুর বাজারে কথা হয় মামুন মিয়ার সাথে তিনি জানান, বর্তমানে জীবনের নুন্যতম চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে কাছাট করতে হচ্ছে প্রতিদিনের বাজার তালিকা। এভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লে বেঁচে থাকা দায়। তাদের দাবী বাজার ব্যবস্থার উপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, আবহাওয়ার উপর দ্রব্যমূল্যর দাম বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করে।  


 
ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি পণ্যের দাম বাড়লে আর কমে না। এভাবে একের পর এক পণ্যের মূল্য বাড়লে বাঁচা দায় হয়ে পড়বে। নিত্যমূল্যের চড়া দামে দিশে হারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।তারা জানান, নিত্যমূল্যে দাম বাড়লে মানুষের জীবনমানের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় মানুষকে সঞ্চয় ভেঙে জীবন চালাতে হয়।  



এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আবারও ডিমের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহের চেয়ে ডিমের হালিতে দুই টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর অস্বাবাভিক ভাবে বাড়ছে  ব্রয়লার মুরগির দাম। গরিবের পণ্যে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে কক বিক্রি ২৯০-৩২০ টাকা কেজি। তবে কোন কোন বাজারে দামের হেরফের রয়েছে।
এদিকে শীত উঁকি দিতেই বাজারে আসতে শুরু করেছে শাক-সবব্জি। এসব কোন কোন শাক-সবব্জির দাম ১’শ ছুঁই ছুঁই। আলু, পটল, বেগুন, বরবটি, কাকরল, কচুর গাটি, দারা, করল্লা, উস্তা, টমেটো আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হতে দেখাগেছে। তবে শীতকালীন কিছু সবজি বাজারে এলেও দাম ঊর্ধ্বমূখী। শীত কালীন সবজি শীম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। আর দেশী টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। বিদেশী টমেটো ১০০ টাকা।  

 


বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৫০, ঝিঙ্গা ৪০, কাঁচা পেঁপে ৩০, দেশী ধনিয়া পাতা ১৫০, লাউ মাঝারী ৬০, শশা চিকন ৫০, ছোট লেবু প্রতি হালি ২৪, বড় সাইজ ৪০, চাল কুমড়া পিছ ৫০, করল্লা ৬০, বরবটি ৬০, বেগুন ৪০, পটল ৪০, পুঁইশাক ৩০, লালশাক ৩০, উস্তে ৬০ ঢেড়স ৪০ গাজর ১২০ মুলা ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

 


অন্যদিকে প্রতি কেজি কাঁচকি মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষ করা কৈ ১৫০ থেকে ২০০, মাজারী সাইজের চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০, শিং ৫০০ থেকে ৬০০, পুঁটি ৩০০ থেকে ৩৫০, বড় সাইজের শোল ৮০০ থেকে ৯০০, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৩০, বোয়াল, রুই, কাতলাসহ অন্যান্য মাছের দাম কিছুটা কমতির দিকে। তবে পূর্বের চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা।
 

এই বিভাগের আরো খবর