সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

ইজারা ছাড়াই চলছে আল-মামুনের অবৈধ হাট

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২১  

নারায়ণগঞ্জে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। এই অবস্থায় কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশন থেকে ৬টি হাটের দরপত্র আহবান করলেও সিটির বাইরে তথা উপজেলাগুলোতে এখনো হাটের কার্যক্রম শুরু করেনি জেলা প্রশাসন। করোনার সংক্রমণকে মাথায় রেখে উপজেলা পর্যায়ে কোরবানির পশুর হাটের বিষয়ে পরবর্তীতে নির্দেশনা দিবে জেলা প্রশাসন।  

 

তবে, জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা পর্যায়ে পশুর হাটের বিষয়ে এখনো কোন নির্দেশনা না আসলেও গত পরশু থেকে সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের গোপচর আল-সাবার বালুর মাঠে কোরবানীর পশুর হাট বসিয়েছেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন ও তার সহযোগিরা। তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।

 

জানা গেছে, আল-মামুনের সাথে রয়েছে কথিত যুবলীগ নেতা সাহিদ রহমান। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান জলিল সরদারের ছেলে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন- জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের অনুমতি বা ইজারা পক্রিয়া ছাড়াই করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কোন খুটির বলে কোরবানির হাট পরিচালনা করছেন আল-মামুন ও তার সহযোগিরা? এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনই বা নিরব ভূমিকায় কেন?  

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ-জামান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘হাট চালানোর বিষয়টি আমরা অবগত নই। তবে, কেউ যদি অবৈধ ভাবে হাট বসিয়ে থাকে, তাহলে উপজেলা প্রশাসন আছে, আমি আছি আমরা বিষয়টি দেখবো। অবৈধ ভাবে কোন হাট পরিচালনা করতে দেয়া হবে না।’

 

গোগনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর হোসেন সওদাগর দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘হাট ইজারা নেয়ার জন্য অনেকেই দৌড়ঝাপ করছে। এখনো হাটের ইজারা কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমি আশা করছি সবাই নিয়ম মেনেই হাট চালাবে। তবে, হাট ইজারা পাওয়ার আগেই যদি কেউ পরিচালনা করে তাহলে এটা অবশ্যই অন্যায়। বিষয়টি যেহেতু জানতে পেরেছি, সেহেতু তাদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবো যে, তারা কিভাবে হাট চালাচ্ছে।’

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা সদর উপজেলার মধ্যে যেই কয়টি স্থান থেকে হাটের আবেদন পেয়েছি, সেই তালিকা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠিয়েছি। এসব হাটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর আমরা পক্রিয়ায় যাবো। টেন্ডার পক্রিয়া ছাড়া হাট পরিচালনা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। কেউ যদি এটা করে থাকে, তাহলে ওই হাট অবৈধ বলে গন্য হবে। আর কেউ আবেদন করলেই যে সে হাট পেয়ে যাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। এখনো আমরা হাউকে হাটের বিষয়ে কার্যাদেষ দেইনি। গোপচরের আল সাবার মাঠেও হাট পরিচালনার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। বিষয়টি এখনই জানতে পারলাম। এই বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

এদিকে, গোগনগরে অবৈধ ভাবে হাট পরিচালনা করা সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন দাবী করেন, ‘হাটের ইজারা পাওয়ার পর কাজ শুরু করার সময় পাবো না। তাই আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। বাশ গেড়ে রেখেছিলাম, বেপারীরা গরু এনে রেখেছে। আমি হাটের জন্য আবেদন করেছি। ইজারার পরই তা বৈধ হয়ে যাবে।’ ইজারা যে আপনিই পাবেন, তার নিশ্চয়তা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ আছে, তারা যেই ব্যবস্থা নেয়ার নেবে।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, গত পরশু থেকে পরিচালনা করে আসা আল-মামুনের ওই অবৈধ হাটে ইতিমধ্যে ৪০টির মত গরু উঠানো হয়েছে। ফলে করোনার এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে হাটে ভীর জমাচ্ছেন উৎসুখ মানুষ। অনেকের মুখেই ছিলো না মাস্ক। ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিও বিদ্যমান অনুমতি বিহীন আল-মামুনের ওই পশুর হাটে।  
 

এই বিভাগের আরো খবর