মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ২১ ১৪২৯

ই-বুক এবং কাগজে মুদ্রিত বই

করীম রেজা

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২  

এক, নতুন কিছু সহজে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নানা রকম সংশোধন, পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে সমাজে ব্যবহার যোগ্যতা লাভ করে। ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমের ই-বুক আত্মপ্রকাশের সময় ধারণা করা হয়েছিল মুদ্রিত বইয়ের দিন বুঝি শেষ হতে চলল। করোনাকালেও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ই বুকের অপ্রতিহত জনপ্রিয়তা সৃষ্টির বা অঢেল গ্রাহক, ব্যবহারকারী বৃদ্ধির। কিন্ত সাম্প্রতিক জরিপ, পত্রপত্রিকার খবরাখবর থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন ও চিন্তার উদ্রেক করে।


মুদ্রিত বই হচ্ছে ছাপানো অক্ষর বা ছবি-বিশিষ্ট কাগজ বা অন্য কোনো মাধ্যমের তৈরি পাতলা শিট বা মুদ্রিত পৃষ্ঠার সমষ্টি, যা এক ধারে আঠা কিংবা সেলাই করে বাঁধা এবং মলাটের ভেতরে রক্ষিত থাকে। আগে হাতে লেখা বই ছিল। প্রাচীনকালে গাছের পাতা, বাকল, পোড়ামাটির ফলক, পশুর চামড়া ইত্যাদি লেখার মাধ্যম ছিল। আধুনিক রূপ মুদ্রণ। বইয়ের প্রতিশব্দ হিসেবে আমরা পাই পুস্তক, গ্রন্থ, পুঁথি ইত্যাদি।

 


অন্যদিকে ই-বুক অতি সাম্প্রতিক আবিষ্কার। ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেখা এবং ক¤িপউটার, ক¤িপউটার সদৃশ যন্ত্র, ই-বুক রিডার অথবা ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোন দিয়ে পাঠ করা যায়। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, ই-বুক একটি ইলেক্ট্রনিক বুক, যাকে ই-বুুক, ডিজিটাল বুক বা ই-সংস্করণও বলা হয়। যাতে সাধারণ বইয়ের মতোই লেখা, ছবি, চিত্রলেখ ইত্যাদি থাকে এবং এগুলো ক¤িপউটার বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রে পড়া যায়,দেখা যায়। ছাপানো বইয়েরও ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ হতে পারে, আবার অনেক ই-বই আছে মুদ্রিত রূপ ছাড়া। বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত করা এবং বিক্রিত ই-বই সাধারণত ই-রিডারে পড়ার উপযোগী করে তৈরি হয়। 

 


বর্তমান সময়ের মতো অতীতের ঘটনাবলী আবিষ্কার সুনির্দিষ্ট করে লিখিত ছিল না, তাই অনেক কিছুই প্রত্ন আবিষ্কারের উপাদান থেকে গবেষণা করে নির্ধারণ করতে হয়। সে হিসেবে প্রথম মুদ্রিত বইয়ের কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা পুস্তকের নাম ইতিহাসে পাওয়া যায় না। তবে গবেষকরা অনুমান করেন, জোহান গুটেইনবার্গ ১৪৫৫ মতান্তরে ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে বাইবেলের ৪২টি লাইন ছাপার মাধ্যমে মুদ্রিত বইয়ের সূচনা করেন।

 

 মূলত তিনি চলমান একটি মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই যন্ত্রই আসলে ছাপার জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। তাছাড়া কোরিয়ান এবং চায়নিজরা দাবি করেন তারও আগে তাদের দেশে লিখিত বইয়ের প্রচলন ছিল। ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় এযাবৎ কাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড-এর বাংলা ব্যাকরণ বইটি প্রথম মুদ্রিত বই বলে গবেষণায় স্বীকৃতি মিলেছে।

 


ই-বুক প্রথম আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়া হয় মাইকেল এইচ হার্টকে। প্রজেক্ট গুটেইনবার্গ নামে ১৯৭১ সালে ‘ইউএস ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স’ ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করেন। তার আগে যে সব প্রাথমিক গবেষণা, প্রয়োগ, পদ্ধতি এই ক্ষেত্রে ছিল তা সুনির্দিষ্ট নয় বলে এই উদ্যোগই প্রথম ই-বুক প্রকাশের মর্যাদা পেয়েছে। 

 

মনে রাখা যায় ১৯৭১ সালেই দুইটি মেইনফ্রেম ক¤িপউটারের মধ্যে সর্বপ্রথম ই-মেইল আদান-প্রদান হয়। ১৯৮৫ সালে ভয়েজার কো¤পানি, যাদেরকে সিডি রম প্রযুক্তির পাইওনিয়ার মনে করা হয় তারা এক্সপান্ডেড বুকস, জুরাসিক পার্কসহ কয়েকটি বই ডিজিটাল ফরমেটে সিডিতে প্রকাশ করে। ১৯৯৩ সালে ডিজিটাল বুক ইনকর্পোরেটেড প্রথমবারের মতো ৫০টি ডিজিটাল বই ফ্লপি ডিস্কে প্রকাশ করে। চলবে..এসএম/জেসি 
 

এই বিভাগের আরো খবর