শনিবার   ২৮ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

ঈদগাহ ভেঙে জাকিরের মার্কেট নির্মাণ

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২২  

আলিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাকির হোসেন। গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। যদিও তিনি আবার কটাক্ষ করে বলেছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি কম ভোট পেয়েছেন। তার এই কথাটিকে স্থানীয়রা বলছেন, নৌকা না হলে জাকির হোসেন নির্বাচনই করতে পারতো কি না সন্দেহ ছিল।

 

বিজয়ী হওয়ায় তার মুখে খই ফুটেছে। এবার তিনি ঈদগাঁ দখলে নেমেছেন। এবার তার লোকজন সরকারী সহায়তায় নির্মিত ডিক্রির চরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের চারপাশের দেয়াল রাতের অন্ধকারে বুল ডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। সেখানে চেয়ারম্যানের অনুগত লোকদের জন্য মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

শনিবার (৭ মে) রাতের অন্ধকারে চেয়ারম্যান জাকিরের নির্দেশে তার লোকজন বুলডোজার দিয়ে বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙে ফেলে। মোটকথা ঈদগাঁও দখলে নেমেছেন জাকির হোসেন। এদিকে ঈদগাঁয়ের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলায় আলীরটেকবাসী হতবাক। তাদের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিগত দুই যুগ ধরে হাজারো মানুষ পবিত্র ঈদের দিনে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন।

 

ঈদগাহ উন্নয়নে সরকার কর্তৃক ১০ লাখ টাকা অনুদানও দেয়া হয়। ঈদগায় দেয়া হয় বাউন্ডারি ওয়াল। কিন্তু চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সেই ঈদগাঁও দখল করে মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছেন। ইতিমধ্যে তার অফিসে বসে আলীরটেক ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আব্দুর রহমানকে দিয়ে দোকান বরাদ্ধের একটি তালিকাও করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রযেছে।

 

মুলত এবার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তিনি ঈদগাঁটি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেন।  মাত্র দুইমাস আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা মার্কাকে নিয়ে চেয়ারম্যান জাকিরের চরম অবজ্ঞা ও তিরস্কারমুলক একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যাতে বঙ্গবন্ধু প্রেমী, নৌকা প্রেমী জনতার হৃদয় ক্ষত বিক্ষত হয়। সোচ্চার হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 

এরপরে জাকিরসহ তিন চেয়ারম্যানকে অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন। এর পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তিন চেয়ারম্যানকে শোকজসহ জবাব চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়। সম্প্রতি চেয়ারম্যান জাকির নৌকাকে নিয়ে তার তিরস্কারমূলক বক্তব্যের কারণ জানিয়ে চিঠির জবাব জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন যা পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগে জমা দেয়া হবে।

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিঠির জবাব পর্যালোচনা করে চেয়ারম্যান জাকিরসহ তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন যা এখনও প্রক্রিয়াধীন।  এরকম একটি কান্ডের পর চেয়ারম্যান জাকিরের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এবার তার হাত থেকে রক্ষা পেলো না সরকার ঘোষিত ঈদগাঁ। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,

 

জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আলীরটেকের সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনেরা ডিক্রিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাটি দখলম্ক্তু করে এর মূলহোতা বিএনপি জামাতীদের মদদপুষ্ট চেয়ারম্যান জাকিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা তো ঈদগাঁ না।

 

এইটার ভেতর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নাচ-গান হয়, খেলা ধূলা হয়, আবার গরু ছাগল, বেড়া-বরকি, কুকুরও এর ভেতর বিচরন করে। আবার মাঝে মাঝে নামাজও হয়। আবার কিছু পণ্য আছে এখানে ভিজায়, শুকায়। আর এটা (ঈদগাঁ) সরকার অনুমোদিত না। পঞ্চায়েতেও না। সরকারী অনুদানও নাইকা। জাকির হোসেন দাবি করেন,

 

এটা শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে একটা ওয়ালের অনুদান আসছে। সেটা স্কুলে না দিয়ে এখানে করছে, এটাও একটা দুর্নীতি। আর আমরা চাচ্ছি এখানে একটা মার্কেট করলে একটা কমিউিনিটি সেন্টার করলে গ্রামবাসীর জন্য কিছু আয় হলো।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদগাঁয়ের দেয়াল ভাঙ্গার বিষয়টি আমার নলেজে আছে। তবে তিনি স্বীকার করেন ঈদগাঁয়ের জমিটি সরকারী। তাহলে আপনি দখল করে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন কেন?

 

এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। ওদিকে এলাকাবাসী জানায়, ঈদগাঁয়ে সব সময় নামাজ হয় না। সব ঈদগাঁয়েই বছরে দুই ঈদের নামাজ হয়। আর বাকী সময় খালিই থাকে। তাই বলে কেউ সেটাকে দখল করে নিবে এটা হতে পারে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এবং যাতে এই ঈদগাঁও কেউ দখল করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এই বিভাগের আরো খবর