রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১   চৈত্র ২৭ ১৪২৭

ঊর্ধ্বমুখি আলু, কাঁচা লঙ্কার দাম বেশি 

তুষার আহমেদ

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০২০  

গত সপ্তাহের তুলনায় নারায়ণগঞ্জে তরিতরকারীর দাম কিছুটা কমেছে। একই সাথে দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগীরও। ঈদুল আযহায় কোরবানীর মাংসের ভিড়ে সবজি ও ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় এবং আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এর দামও কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে, কাঁচা মরিচ, টমাটো ও আলুর দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখি। আর গত সপ্তাহের তুলনায় মসলার বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে চাল-ডালের বাজারও।  

গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের দ্বিগুবাবুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদুল আযহার প্রাক্কালে নারায়ণগঞ্জে ব্রয়লার মুরগী কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা করে। কিন্তু বর্তমানে ব্রয়লার মুরগীর দাম কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ফলে ঈদের আগে কেজিপ্রতি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া শসা বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে ৩৫-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পটল বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়।

হাইব্রিড উচ্ছে কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আকারে ছোট দেশিয় উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে গত সপ্তাহে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধনেপাতা এখন ৫০ টাকায় নেমেছে।

গত সপ্তাহে কাঁচা পেপে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল দ্বিগুবাবুর বাজারে ২০টাকা দরে তা বিক্রি হয়েছে। কেজীতে ১০ টাকা কমে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে ৭০ টাকায় উঠা লুব্যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কহির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পাঁকা টমাটোর দাম অপরিবর্তিত থেকে আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে। এছাড়া ঈদ পরবর্তী সময়ে তুলনামূলক চাহিদা কম থাকায় পুঁই শাক, লাল শাক, লাউ শাক ও অন্যান্য সবজি কেজি প্রতি অন্তত ১০টাকা করে কমেছে।

অন্যদিকে, প্রায় একমাস যাবৎ ডাবল সেঞ্চুরিতেই রয়েছে দেশিয় কাঁচা মরিচ। তা বিক্রি হচ্ছে ২শ টাকায়। আর ভারত থেকে আমদানীকৃত লম্বা আকৃতির কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করে। তবে দেশিও কাঁচা মরিচের তুলনায় কম দামে বিক্রি হওয়া এই ভিনদেশী মরিচের ঝাঁলও তুলনামূলক কম! 

জানতে চাইলে সবজি ব্যবসায়ী ইসমাঈল দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন- দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় দেশীয় মরিচ উৎপাদনের উপর বিরুপ প্রভাব পরেছে। তাই মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আপাতত মরিচের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। সামনে বাড়তেও পারে।  

দ্বিগুবাবুর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ওমর ফারুক ও জামাল দৈনিক যুগের চিন্তা’কে তারা বলেন- “কাঁচা বাজারের কোন নিশ্চয়তা নাই। সকালে একদাম তো বিকালে আরেক দাম। মাল বেশি আইলে দাম কমে, আর কম আইলে দাম বাড়ে। এইটাই নিয়ম।

মানুষের ঘরে ঘরে কোরবানীর মাংস থাকায় এখন শাক-সবজির চাহিদা অনেকটা কম। আর অনেকেই হয়তো গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসে নাই। তাই ক্রেতাও কম।

ক্রেতার তুলনায় সবজি বেশি আছে। তাই দামও কম। আবার সবজির চাহিদা বাড়লে কিংবা সবজি উৎপাদন অথবা আমদানী কম হলে আবারও দাম বেড়ে যেতে পারে।”

এদিকে, নারায়ণগঞ্জে আলুর বাজার এখনও উর্ধ্বমুখি। কেজী প্রতি ৩০টাকা দরে বিক্রি হওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যটি গত বছরের এই সময়ে বিক্রি হয়েছিলো ১৪ থেকে ১৫ টাকায়।

কিন্তু এবছর আলুর দাম দ্বিগুণ হওয়ায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রেতারা। তবে, আগামীতে আলুর দাম আরো বৃদ্ধি পাবে বলে শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে আসা মাহাবুব নামে একজন ক্রেতা দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন- “ঈদের আগের তুলনায় সবজি বাজার এখন কিছুটা স্বাভাবিক আছে। তবে, কাঁচা মরিচ, টমাটো ও আলুর দাম এখনও অস্বাভাবিক।

এখন যেহেতু টমাটোর মৌসুম নয়, সেহেতু টমাটোর দাম বৃদ্ধি হতে পারে, কিন্তু আলু ও কাঁচা মরিচের দাম বাড়াটা যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের দেশে আলুর ফলন ভালো হয়ে থাকে।”

জানতে চাইলে দ্বিগুবাবুর বাজারের আলু ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন- গোল আলু এমন একটি পণ্য যা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার ডাল জাতিয় পণ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সব ধরনের মাছ, মাংস ও সবজি রান্নার ক্ষেত্রেও গোল আলু ব্যবহার হয়।

ফলে সারা বছর গোল আলুর চাহিদা থাকে। কিন্তু বছরব্যাপী চাষ হয় না। গোল আলু এখন আর চাষিদের কাছে নেই। সব বড় বড় ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের কাছে চলে গেছে।

এসব ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের ওপরই এখন গোল আলুর দাম নির্ভর করছে। তারা চাইলেই বাজারে সংকট তৈরি করতে পারেন। বাজারে এখন আলুর যে পরিমাণ চাহিদা আছে, সরবরাহ তার তুলনায় কম। এ কারণে দাম বাড়ছে।”

নিত্যচাহিদা সম্পন্ন এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে কি না তা জানতে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ বাজার মনিটরিং কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ সুমন খন্দকার দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন- “বাজার মনিটরিং আমাদের নিয়মিত কাজ।

তবে, আমাদের অফিস প্রধান এখান থেকে বদলি হওয়ায় নতুন যিনি রয়েছেন তিনি এখনও যোগদান করেননি। আগামী রোববার থেকে তার যোগদানের কথা রয়েছে। তিনি আসলে আমাদের কার্যক্রম পূনরায় চালু করা হবে।”

এদিকে, চলতি আগস্ট জুড়ে বন্যাপরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকার জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে কিছু অঞ্চলে এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হলেও হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদগণ।

ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের কৃষিরাজ্যখ্যাত বক্তাবলী, আলীরটেক ও কাশিপুরের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় তলিয়ে গেছে। বিপৎসীমা অতিক্রম করে হু হু করে বাড়ছে শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি।

ফলে তলিয়েছে ফসলি জমিগুলোও। তাই আগামীতে সবজি বাজারের অস্থিরা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 

এই বিভাগের আরো খবর