বুধবার   ১২ মে ২০২১   বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

একটি খালে বদলে গেছে বাবুরাইল

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২১  

প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয় করে হচ্ছে মন্ডলপাড়া ব্রিজ হতে বাংলাবাজার আম বাগান পর্যন্ত বাবুরাইল খালের নির্মাণ কাজ। এই খালের কাজ করতে গিয়ে এরই মাঝে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হয়েছে। খালের উপর থেকে অপসারণ করা হয়েছে অন্তত অর্ধ শত ব্রিজ। আর এসব ব্রিজের কোনোটি ছিলো পাকা আবার কোনোটি ছিলো কাঠের তৈরি, বাশের সাঁকোও ছিলো আরো অর্ধশত। খাল থেকে অপসারণ করতে হয়েছে কয়েকশত দোকানপাট। আর এসব দোকানপাটের অনেকগুলিই ছিলো পাকা করা। আবার অনেকগুলো ছিলো কাঠের পাটাতন করা।

 

এছাড়া খালের মাঝে ছিলো গ্যাস লাইন, পানির পাইপ লাইন সহ বহু সুয়ারেজের পাইপ লাইন। এসব অপসারণ করতে হয়েছে। এক কথায় খালটিকে নির্মাণ করতে গিয়ে সিটি করপোরেশনকে অসাধ্য সাধন করতে হয়েছে বলেই স্থানীয়রা মনে করেন। তাই এই কাজ করতে গিয়ে প্রথম দিকে মেয়র আইভীকে হিমশিম খেতে হয়েছে। অনেকে বাঁধা দিয়েছেন। কেউ কেউ মামলা মোকদ্দমাও করেছেন। কিন্তু থামেনননি অদম্য মেয়র আইভী। তবে শুরু থেকেই এলাকার নব্বই শতাংশ মানুষ এই কাজে মেয়রকে সহযোগীতা করেছেন। এছাড়া স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা সার্বক্ষণিক কাজের তদারকি করেছেন। ফলে শেষ পর্যায়ে রয়েছে বাবুরাইল খালের কাজ।

 

গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খালের প্রায় আশি শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খালের দুই পাড় বাধাই করা হয়েছে। খালের উত্তর পাড়ের রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে এবং দক্ষিণ পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। খালের উপর বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজও নির্মাণ করা হয়েছে। এখন বাকী রয়েছে বাবুরাইল রাস্তাটির পিচ ঢালাইয়ের কাজ। শিগগিরই রাস্তাটিও ঢালাই দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক জাকির হোসেন।


এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হোসেন জানান, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দেয়া প্রায় দুইশ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হচ্ছে মন্ডল পাড়া থেকে কাশীপুর আমবাগান পর্যন্ত দীর্ঘ এই খালটি। আর এই দুইশ কোটি টাকা বাজেটের মধ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে জল্লারপাড়া লেকটিও।


অপরদিকে এ বিষয়ে জানতে এই কাজের ঠিকাদার জাকির হোসেনের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন এই খালের কাজটি বেশ দূরুহ একটি কাজ ছিলো। তবে আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানীতে মেয়রের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমরা এরই মাঝে বিশাল এই খালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এরই মাঝে প্রায় নব্বই শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকী কাজ শেষ হবে। আশা করি আগামী জুন মাসের মধ্যে সিটি করপোরেশনকে কাজ বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।


বাংলাবাজার আম বাগান এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি মনে করি আমরা সৌভাগ্যবান। কারণ এই খালপাড়েই আমার বাড়ি। কিন্তু আমরাতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা নই। তারপরেও মেয়র আইভী আমাদের এলাকায় কোটি কোটি টাকার কাজ করলেন। তিনি বলেন, এই খালটি ছিলো ময়লার বাগার। আমরা ঘর গৃহস্থলির সব ময়লা এনে এই খালে ফেলতাম। এছাড়া পূরো খালটিই অবৈধ দখলদারদের দখলে ছিলো। আর খাল পাড়াপাড় হতে যে যেমনি খুশি ব্রিজ, কাঠের পুল আর সাঁকো বানিয়ে রেখেছিলে। মেয়র এসব অপসারণ করে বেশ কয়েকটি সুন্দর ব্রিজ বানিয়ে দিয়েছেন। খালের দুই পাড় বাধাই করে দিয়েছেন। আর রাস্তাটিও প্রায় দ্বিগুণ প্রশস্ত করেছেন। তাই একেবারে পাল্টে গেছে আমাদের এলাকার চেহারা। গোটা এলাকাটিই একটি উন্নত এলাকায় পরিণত হয়েছে। তাই আমরা মেয়র আইভীর আরো সাফল্য কামনা করছি।


এ বিষয়ে মেয়র আইভীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বাবুরাইল খালের কাজটি সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে বড় একটি মেঘা প্রকল্পের কাজ। কাজটিতে হাত দিতে গিয়ে প্রথম দিকে কিছুটা বাধা আসলেও মানুষ যখন বুঝতে পেরেছে কাজটি সম্পন্ন হলে তাদেরই লাভ এবং যুগ যুগ ধরে এই কাজের সুফল ভোগ করবে খালের দুই পাড়ের মানুষ তখন সকলেই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এ কারণেই সময় মতো কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। আমি খালের দুই পাড়ের সকল মানুষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি খালটির নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করার জন্য। 

এই বিভাগের আরো খবর