রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৮

এটিএম কামালেই চাঙা হবে মহানগর বিএনপি

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২১  

# মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জোরালো হাওয়া
# দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর সরব সাখাওয়াতও
#অসুস্থ্য অবস্থায়ও হাল ধরে রেখেছিলেন আবদুস সবুর সেন্টু


দীর্ঘ এক বছর পর অবশেষে সূদূর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজপথে বিএনপির নির্যাতিত নামে পরিচিত আলোচিত এটিএম কামাল। এটিএম কামাল দেশে ফিরাতে মহানগর বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে স্তত্বি ফিরেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জোড়ালো আন্দোলন মহানগর বিএনপি আরও জোড়ালো ভাবে করতে পারবে বলে মনে করছেন বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এক নির্যাতিত নেতার নাম এটিএম কামাল।

 

 বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তিনি। রাজনীতি করতে গিয়ে হামলা -মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো। অর্ধশতাধীক মামলার শিকার হয়ে বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছেন। এক বছরের অধীক সময়ের পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন তিনি। এটিএম কামালের নেতৃত্বে আবারও রাজপথ চাঙ্গা হবে। এটিএম কামাল বিহীন বিগত এক বছর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি রাজপথে তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি কোনোভাবে দায়সারা ভাবে পালন করেছে মহানগর বিএনপি। কারণ মহানগর বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি এড. আবুল কামাল দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে বাসায় অবস্থান করছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকেন না এড. আবুল কালাম।

 

 আর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টুকে দিয়ে এটিএম কামাল বিহীন গত এক বছর কর্মসূচি পালনে তেমন কোনো সুফল আসেনি। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়ে আব্দুস সবুর খান সেন্টু একাই  কর্মসূচি পালন করেন গুটি কয়েক নেতাকর্মী নিয়ে। যদিও আব্দুস সবুর খান সেন্টু নিজেও অসুস্থ। বেশ কিছুদিন আগে তিনিও স্ট্রোক করে শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। তারপরও মহানগর বিএনপির হাল ধরে রেখে মোটামুটি কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এবার পূর্বের মতো আবারও রাজপথে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নামবেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের আশা এটিএম কামালের মধ্যদিয়েই আবারও চাঙা হবে মহানগর বিএনপি।
তবে দীর্ঘ এক বছরের অধীক সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করা এটিএম কামালের অনুপস্থিতির সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড.সাাখাওয়াত হোসেন খান। 

 

বিএনপির সদস্য ফরম বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্বে মহানগর বিএনপি থেকে সরে গিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরী করে বিএনপির ব্যানারে কর্মসূচি পালন করতে থাকে সাখাওয়াত হোসেন। সেই সময়ে আপত্তি তোলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এক পর্যায়ে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে কেন্দ্র বিচারও দেন এবং তাকে দলীয় শৃংখলা ভঙের দায়ে বহিস্কারের দাবীতে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগও দেন। এরপর কিছুদিন পর সাখাওয়াতের অনুসারী বিএনপি নেতা গুলজার হোসেন খান মহানগর বিএনপির সীমানা জটিলতা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পিছনে সাখাওয়াতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ছিলো বিএনপির নেতাকর্মীদের। যদিও সাকাওয়াতের দাবিছিলো এই মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এনপর সাখাওয়াত হোসেন তার কর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ব্যানোরে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে থাকে।


এদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে বিএনপি। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও অংশ না করার ইঙ্গিত পেয়ে যান সাখাওয়াত হোসেন খান। এমন ইঙ্গিতে হঠাৎ করে বিএনপির দলীয় কর্মসূচি পালন থেকে বিতরণ হয়ে যান তিনি। কারণ তিনি এবার নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। সেই হিসেবে আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশীরভাগ নেতাকর্মীরাই তার বলয়ে কাজ করছেন। হঠাৎ করে তার নিরবতাকে ভালো চোখে দেখছেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু হঠাৎ করে গত সোমবার বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবীতে আবারও রাজপথে দেখা গেছে দীর্ঘদিন ধরে নিরব থাকা সাখাওয়াতকে। হঠাৎ করে আবারও রাজপথে সাখাওয়াত তার মানে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভবনা আছে। এমন গুঞ্জনেই আবারও বিএনপির কর্মসূচি পালন নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাখাওয়াত হোসেন খান এমনটাই মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরা।

এই বিভাগের আরো খবর