মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

এনায়েত নগরের অভিশাপ এখন কালিয়ানী খাল ও জলাবদ্ধতা

সাইমুন ইসলাম

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৪  

 

যে খাল আশির্বাদ হয়ে এসেছিলো এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত জনপদ ও আশেপাশের অঞ্চলের জন্য, কালের বিবর্তনে সেই খাল এখন অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার কারণে সীমাহীন দূর্ভোগে ভোগে এনায়েত নগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। আর এই অবর্ননীয় ভোগান্তীর নেপথ্যে রয়েছে এই কালিয়ানী খাল। দখল দূষনে এই খালটি স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়েছে বহু আগেই । তবে মৃতপ্রায় এই খালটি এখন রয়েছে অস্তিত্ব সংকটে।

 

তথ্যমতে, সদর উপজেলার এই অঞ্চলে একসময়ে বিস্তৃত ছিলো কালিয়ানী বিল। পরবর্তীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ৭০ ফুট প্রশস্থের এই খালটি রেখে বাকি জায়গার উপর গড়ে তোলা হয় বিসিক। এই খাল দিয়ে একসময় পন্যবোঝাই নৌকা চলাচল করতো। এই খালের পানি ছিলো এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অন্যতম মাধ্যম।এই খাল দিয়ে বৃহত্তর মাসদাইর, শাসনগাঁও বিসিক, শাসনগাও, হরিহরপাড়া, পঞ্চবটী, ফাজেলপুর, জামতলা, গলাচিপাসহ বহু এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু অতিগুরুত্বপূর্ন এই খালটি দখল দূষনে মৃতপ্রায়।

 

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটির দুইপাশেই রয়েছে বহু দখলদার। খালের জায়গা দখল করে তারা নির্মান করেছে নানা স্থাপনা। এর ফলে সুপ্রশস্থ এই খালটি কার্যত নালায় পরিনত হয়েছে। যারা এই দখলদারিত্বের সাথে যুক্ত তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হলেও তারা অতি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা উদ্ধার অভিযানও হয়নি।

 

শুধু যে দখল হয়ে আছে খালটি তা কিন্তু নয়। খাল নামক নালাটি তীব্র দূষনের কবলে জর্জরিত। এ খালটির কোল ঘেষে গড়ে উঠা শত শত কারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্য সরাসরি এই খালে এসে পড়ে। যার কারনে মারাত্নক পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় এই খালের দিকে চোখ রাখলে চোখে পড়বে নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাষ্টিকের বোতল এর মহাসমারোহ। কিছু কিছু জায়গায় দখল আর দূষণ এতটাই তীব্র আকার ধারন করেছে যে এটা খাল নাকি সমতল ভূমি বোঝাই দায় হয়ে পড়েছে।

 

এর ফলে এনায়েতনগর ইউনিয়ন সহ আশেপাশের এলাকার পানি এই খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হতে না পেরে বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, ভারী বৃষ্টিতে হয় অর্বননীয় দূর্ভোগ। আর এ পরিস্থিতি কাটাতে লেগে যায় কয়েকমাস। শুধু যে এনায়েতনগর ইউনিয়নেই এই জলাবদ্ধতা হয় তা নয়, এই খালের এমন করুন দশার কারণে সিটি কর্পোরেশন এর কয়েকটি ওয়ার্ডেও সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

 

সামনে আসছে বর্ষা। এনায়েত নগরবাসীসহ অন্যন্য অঞ্চলের বাসীন্দারাও যেনো জলাবদ্ধতার নির্মম ভোগান্তী বরণ করে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। অর্থাৎ এই কালিয়ানী খাল ও এর ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা যেনো চোখ রাঙাচ্ছে এনায়েতনগর ইউনিয়নবাসীকে।

 

তবে এর যেনো কোনো সমাধান নেই। এমন করুন পরিস্থিতি মেনে নিয়েই বছরেরর পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। সূত্র বলছে, অবৈধ দখলকারীদের দখলদারিত্বের সাম্রাজ্য জদি গুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং এই আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান যদি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তবেই এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরন সম্ভব। তবে এলাকাবাসীর দাবি যেভাবেই হোক তাদের এমন অতি মানবেতর জীবন যাপন থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এস.এ/জেসি 

এই বিভাগের আরো খবর