শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮

করোনাকে অবজ্ঞা, ভয়াবহতাকে বৃদ্ধিঙ্গুলি 

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২১  

# নমূনা সংগ্রহের প্রতি তিন জনে এক জনেরও বেশী আক্রান্ত- ডা. আবুল বাশার


# ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহতা জনগণকে মাথায় রাখতে হবে- সিভিল সার্জন

 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং জনগণ যেভাবে এই মহামারিকে অবজ্ঞা করে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছে তাতে মনে হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ভয়ই সত্য হতে চলেছে।

 

গত ১৪ জুলাই বুধবার সদর উপজেলায় পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় সাংসদ শামীম ওসমান বলেছিলেন, লকডাউন শিথিল হওয়ায় আমার ভয় হচ্ছে। কোরবানির হাট বসেছে। মানুষের মুখে মাস্ক নেই। কেউ নিয়ম-কানুন মানছে না। আপনার অসুখ হলে আপনারা বাপ-চাচাকে কে দেখবে। নিজেকে রক্ষা করুন এবং আপনার আশপাশের লোকজনকে সচেতন করুন।


 
তার পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয়ায় করোনা সংক্রমণ নিয়ে এই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সে সময় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও অনুরোধ জানিয়েছেন। শহরের রাস্তাঘাট, ফুটপাত, শপিংমল থেকে শুরু করে গরুর হাট, কাঁচাবাজার এমনকি নদী পারাপারসহ সর্বত্র দেখা যাচ্ছে মানুষের বেপরোয়া ও উদাসীন চলাফেরা। যা মহামারির এই সংকটপূর্ণ মুহুর্তে মোটেই বাঞ্চনীয় না।

 

শহর সংলগ্ন সেন্ট্রাল খেয়াঘাট (বন্দর খেয়াঘাট), হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ফেরী ঘাট, গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরী এলাকা, চৌধুরীবাড়ি এলাকা, নবীগঞ্জ ঘাটে অবস্থিত নাসিকের বিনোদন এলাকা শহরের কালীর বাজার, চাষাঢ়া থেকে ডিআইটির উভয় পাশের ফুটপাত ও শপিং মলসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে জনগণের বেপরোয়া চলাফেরা। সম্প্রতি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের করোনার ভয়াবহতা কিংবা পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার চিত্র শুধু সাংসদ শামীম ওসমান কেন আমাদের সকলের মনে ভয় সৃষ্টি হওয়ার কথা। গরুর হাটসহ এসব জনসমাগমের মধ্যেও দেখা যায় কিছু লোকের মাস্কবিহীন ঔদ্ধত্যপূর্ণ চলাফেরা, যা শুধু দেশের ভয়াবহতাই বাড়াবে।


 
খানপুর তিনশত শয্যা হাসপাতালের তত্ত¡বধায়ক ডা. মো. আবুল বাশার যুগের চিন্তাকে জানান, প্রত্যেকটা মানুষেরই উচিৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। প্রয়োজনের খাতিরে হয়তো এখন সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন কিন্তু জনগণকে তাদের স্বার্থেই সতর্ক থাকা উচিৎ। বিনা প্রয়োজনে বাহিরে বের হওয়া উচিৎ না এবং প্রয়োজনে বের হলেও তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই প্রতেক্যের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে নমুনা সংগ্রহের প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি তিন জনে এক জনেরও বেশী লোক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, দায়িত্বটা শুধু সরকার, প্রশাসন কিংবা কারো একার নয়। এখানে জনগণের দায়িত্ব কিংবা ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এরকম অবাধ চলাফেরা করলে সাথে সাথে এর ক্ষতিটা বুঝা যাবে না, ৪/৫দিন পার হলে বুঝা যাবে এর ভয়াবহতা। প্রত্যেকে সচেতন না হলে আমরা ভবিষ্যতে শঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে যাব। তখন আর কারো কিছু করার থাকবে না। দেশের করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ক্রমেই শঙ্কার দিকে যাচ্ছে।


 
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সরকার জনগণের কথা চিন্তা করে বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন। কিন্তু বিধিনিষেধ না মেনে চলতে বলেননি। জনগণকে আরো সতর্ক হতে হবে। জনগণকে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, কেনাকাটার অনুমতি দিয়েছেন এ সময় জনগণ যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে জনগণেরই লাভ হবে, আর না মেনে চললে জনগণেরই ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, ভারতের করোনা পরিস্থিতি, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান যে ভয়াবহ অবস্থা তা জনগণকে মাথায় রাখতে হবে। সরকার এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। ঈদের পর একটা সিদ্ধান্ত হয়তো আসবে। এ সময় তিনি জনগণকে অবশ্যই করোনার ভয়াবহতার কথা বিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান।’ 
 

এই বিভাগের আরো খবর