শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

করোনা হাসপাতালে মোট মৃত্যু ৫৩৪, পালিয়েছে ৬০ জন

নূরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

নারায়ণগঞ্জ কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে গত ১৪ এপ্রিল ২০২০ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং মোট ৩ হাজার ৫ পাঁচ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ২৪৫২ জন এর শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পরে। অপর দিকে ২২২ জনের শরীরে নেগেটিভ শনাক্ত হয়। আর ৩৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। 

 

অপর দিকে এই হাসপাতাল থেকে ২৯৭০ জন রোগীকে ছারপত্র দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২২১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৬০ জন রোগী পালিয়ে গেছেন। পালানো রোগীর মধ্যে ১৭ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস ছিল। ১ জন ছিল নেগেটিভ রোগী। বাকি ৪২ জন রোগী ছিল সন্দেহজনক। এছাড়া ৩৬৬ জন রোগীকে ঢাকাসহ অন্যত্র রেফারড করা হয়। ওই রোগীর মধ্যে ১১৮ জন পজেটিভ ছিল। ৯৩ জন নেগেটিভ ও ১৫৩ জন সন্ধেহজনক রোগী ছিল। 

 

এছাড়া ৩২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে ১৬৯ জন এর শরীরে করোনা ভাইরাস ছিল। ৭২ জন নেগেটিভ ও ৮৬ সন্দেহজনক নিয়ে মারা যায়। হাসপাতাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী আরো ৩৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ২০ জন এর শরীরে পজেটিভ ছিল, ৪ জন নেগেটিভ। বাকি ১১ জন রোগী সন্ধেহজনক। গতকাল হাসপাতাল থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

 

আইসিইউ : নিবির পরিচর্জা পর্যবেক্ষন কেন্দ্র (আইসিইউ) তে ৩৯৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০৭ জন রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এরমধ্যে ১২০ জন করোনা পজেটিভ, ৫১ জন নেগেটিভ, বাকি ৩৬ জন সন্ধেহজনক নিয়ে মারা যায়। এছাড়া ১৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৪৪ জন রোগীকে রের্ফাড করা হয়েছে। অপর দিকে আরো ৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে ৪ জন মহিলা ও ৩ জন পুরুষ। এদেরমধ্যে ৫ জন পজেটিভ ১ জন নেগেটিভ, ১ জন সন্ধেহজনক ছিল।

 

ট্রায়াজ সেন্টার : গত দেড় বৎসরে ট্রায়াজ সেন্টারে ৮০৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছে। এরমধ্যে ৫০৫৬ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। বাকি ৩০০৫ জন আইসোলেসনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

 

পিসিআর টেস্ট : উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ৯৫৫৮৪ জনকে পরিক্ষা করে ১৩৪৭১ জন এর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ১৩৩৮১ জনকে নতুন করে এই পরিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া আরো ৮৪ জনকে এই পরিক্ষা করা হয়েছে।

 

এন্টিজেন রেপিড পরিক্ষা :


মোট ১৬৮৪ জনকে এন্টিজেন রেপিড পরিক্ষা হয়েছে। ২৭৭ জন এর শরিরে পজেটিভ ধরা পরে। বাকি ১৪০৮ জন এর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

 

দীর্ঘ এই এক বৎসর ৬ মাস ৮ দিন করোনা ভাইরাস মোকাবেলার অভিজ্ঞতার লক্ষে কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায় ডা. আবুল বাসার বলেন, প্রথম যখন নারায়ণগঞ্জে করোনা রোগী সনাক্ত হলো তখন এই জেলাবাসীকে অন্য চোখে দেখতো। পরবর্তিতে এই অজানা রোগের চিকিৎসার জন্য ৩শ’ শয্যা এই বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে রুপান্তরিত করা হয়। তখন এই রোগের রোগী চিকিৎসা দিতে গিয়ে অত্র হাসপাতালের নার্স, ব্রাদার, স্টাফসহ চিকিৎসক আক্রান্ত হয়।

 

তবে আমরা আমার স্টাফ স্হ সবাই মানবিক হিসাবেই সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি। আর যাদের অবদান ভুলার না মাননীয় সংসদ সহোদ্বয়, মেয়র মহোদ্বয়, ডিসি মহোদ্বয় সহ অনেকেই রোগীদের অক্সিজেন স্টাফদের জন্য খাবারের ব্যাবস্থা করেছেন। তবে এখন আর এই হাসপাতালে অক্সিজেনের সমস্যা নেই। তবে প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপ এ রোগীদের বেশী সেবা দিতে পেরেছি। এখন আমার স্টাফসহ নার্স, ব্রাদার, চিকিৎসাক অনেক অভিজ্ঞ। আল্লাহ না করুক করোনার ঢেউ এলেও চিকিৎসা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। এই কোভিড-১৯ হাসপাতাল আরো উন্নত সেবা দিতে তৈরী। 
 

এই বিভাগের আরো খবর