শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

কর্মী সভায় কর্মী নেই

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১  

# এমএ রশিদ, কাজিম উদ্দিন ও কাউন্সিলর সাগরও ছিলেন অনুপস্থিত


# হুট করে কর্মী সভা ডাকায় ভেতরে ভেতরে নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত


# দর্শক সারিতে অধিকাংশ চেয়ার ছিলো ফাঁকা


 
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। তিনি যেকোন সময়ে ডাক দিলে লাখো লোক জড়ো হওয়ার প্রবাদ রয়েছে। ইতিপূর্বে সেই স্বাক্ষরও রেখেছেন তিনি। কিন্তু এবার তার ডাকে কর্মীদের সারা মেলেনি! জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর শহরের রাইফেল ক্লাবে নিজ কর্মীদের নিয়ে একটি সভা করেন সাংসদ শামীম ওসমান। ওই সভায় শামীম ওসমান ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে কর্মী সভা করার ঘোষণা দেন। কর্মীসভা সফল করার জন্য তিনি তার কর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ অন্যান্যদের নির্দেশ দিয়েছেন।

 


নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল প্রথম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় নাসিক ১৯নং ওয়ার্ড টিক্কার মোড় এলাকায়। শামীম ওসমানের ঘোষিত ওই কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল। কিন্তু ওই কর্মী সভার দর্শক সারিতে অধিকাংশ চেয়ার ছিলো ফাঁকা। কর্মী শূন্য প্যান্ডেলে যুবক ও কিশোর বয়সি কতিপয় লোক উপস্থিত থাকলেও তারা আদৌ দলের কর্মী, নাকি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তাদের ম্যানেজ করে এনেছেন আয়োজকরা- তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

 

এদিকে, সাধারণ কর্মীতো দুরের কথা ওই কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন না বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধানসহ আওয়ামী লীগ নেতা ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মোহাম্মদ সাগরসহ অন্যান্য নেতারাও। ফলে কর্মসভাটি গুরুত্ব হারিয়েছে বহুগুণে। শামীম ওসমানের ঘোষিত কর্মী সভার এই হাল দেখে অনেকেই বিরুপ মন্তব্য করছেন। এদিকে, উপস্থিত না থাকার বিষয়ে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি।’

 

সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কাউন্সিলর সাগর তার অনুপস্থিতির বিষয়টি খোলাসা না করলেও ব্যক্তিগত কারণ বা অযুহাত দেখিয়েছেন। এদিকে, শামীম ওসমানের একাধিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘করোনার এই জটিল সময়ে শামীম ওসমান হুট করে কর্মী সভা ডাকায় ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। কিন্তু তারা মুখ ফুটে শামীম ওসমানকে তা কথা বলতে সাহস পান না। তাই মুখে কিছু না বললেও শেষ পর্যন্ত কর্মীরা সভায় না এসে তারা সেই বার্তাই দিতে চাচ্ছেন শামীম ওসমানকে।’ এদিকে শামীম ওসমানের নিন্দুকরা বলছেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নানা কারণেই জৌলুস হারিয়েছেন। তাই তিনি হুটহাট সভা-সমাবেশ ডাকলেও আগের মত লোক সমাগম হয় না। বরং তার কর্মীরাও তার প্রতি হন বিরক্ত।

 

গতকাল ১৯নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত সভাই এর জ্বলন্ত উদাহরণ। নগরবাসী বলছে, শামীম ওসমান যাকে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করছেন, সেই সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী জনপ্রীয়তা অর্জন করেছেন। আর শামীম ওসমানের ডাকা এই কর্মী সভা করার মূল উদ্দেশ্য মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগে শক্তিশালি বলয় তৈরী করা, যাতে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র আইভীকে হটানো যায়। বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক এবং নগরবাসীর মাঝে। এই কারণে শামীম ওসমানের ঘোষিত কর্মীসভা ছিলো কর্মী শূন্য- এমনটাই চাউর হচ্ছে নগরজুড়ে।

 

অন্যদিকে, ভিন্ন আলোচনাও শোনা যাচ্ছে নগরবাসীর মাঝে। একটি মহল বলছেন, আগামীতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বাধীন উত্তর মেরু বলয় থেকে মেয়র প্রার্থী দেয়ার ছক কষা হচ্ছে। যাদের নিয়ে ছক কষা হচ্ছে তাদের মধ্যে ভিপি বাদল অন্যতম। সেই বাদলের উপস্থিতিতেও কর্মীরা সভায় উপস্থিত না থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই তার জনপ্রীয়তা ও গ্রহণ যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।  

এই বিভাগের আরো খবর