সোমবার   ২৪ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১০ ১৪৩১

কাশি দিয়ে শহর ফাঁকা করার পাল্টা জবাবে যা বললেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩  


নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অনেকটাই উত্তপ্ত রয়েছে। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমানে আন্দোলন সংগ্রামে নাম শুনলেই ঝাঁপিয়ে পরছে। অপর দিকে সামনে দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে রাজপথমুখি হতে যাচ্ছে, বিএনপি ও রাখছে নানা প্রস্তুতি।

 

 

সেই নির্বাচনী ধারবাহিকতায় ১৬ সেপ্টেম্বর শহরে একটি জনসভার ডাক দিয়েছে নারায়ণঞ্জ-৪ সামনের এমপি শামীম ওসমান উনি বর্তমানে দফায় দফায় এই জনসভা সফলের লক্ষে কাজ সকল থানায় থানায় দিয়ে প্রস্তুতি মূলক সভা করছে। এদিকে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করেই উি তার সক বক্তব্যেগুলো দিয়ে যাচ্ছে।

 

 

গতকাল সোমবার( ১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁয়ে এক মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করবে এগুলো সহ্য করবো না। এগুলো মেনে নেওয়ার মত না। অন্তত আমরা মেনে নিতে পারবো না।

 

 

আমরা যারা ৭৫ এর পরে রাজনীতিতে এসেছি তারা শেখ হাসিনাকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখি। বিএনপি জামায়াত আমাদের মাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করবে, এটাতো আমরা মেনে নিব না। এমন কর্মকান্ড আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই মনে হয়েছে এবার ঘণ্টা বাজানোর সময় এসেছে। কারণ দেশের সবগুলো আন্দোলন শুরু হয়েছে এ নারায়ণগঞ্জ থেকে।

 

 

তাই নারায়ণগঞ্জেই আমাদের ঘণ্টা বাজাতে হবে। তিনি আরো বলেন সকালে ঠিকমত জোরে কাশি দিলে নারায়ণগঞ্জ শহর ফাঁকা হয়ে যাবে অর্ধেক। অথচ তারাই এখন কাঁচের ঘরে থেকে আমাদের নিয়ে নানা ধরনের কথা বলেন। আমাদের গালি দেক কোন সমস্যা নাই কিন্ত বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করবে এগুলো সহ্য করবো না।

 

 

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে এক জন আছে পলিটিক্যাল প্রস্টিটিউট। তিনি বলেছেন পুলিশ ছাড়া নামতে। আমি পুলিশের কাছে অনুরোধ করছি আপনাদের যত পুলিশ আছে, সব তাদের পক্ষে যান। সব নিয়ে ঘোষণা করেন পুলিশ আমাদের পক্ষে আছে, তারপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করে দিব।

 

 

এর আগে ও উনি (শনিবার ৯) সেপ্টেম্বর রাইফেল ক্লাবে এক প্রস্তুতি সভায় বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসম্মান করে কথা বললে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি-জামায়াতকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করবো। তার এমন বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

 


এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে জনপ্রতিনিধির মতোই হওয়া উচিত। যেহেতু উনি একজন বিনা ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যার কারণে তার মুখে এই ধরনের আবল-তাবল বক্তব্যে আসটা স্বাভাবিক। আর তার ইতিমধ্যে দফায় দফায় যে বক্তব্যে দিচ্ছে সেগুলো শুনে দেশের জনগন ও হাসে।

 

 

জনগণের মধ্যে তার এই ধরনের বক্তব্যে কোন প্রতিক্রিয়া হয় না। কারণ উনি এই ধরনের বক্তব্যে দিয়ে অবস্থ, দেশে যে গণতন্ত্র নাই একটি স্বৈরাতন্ত্র সরকার কায়েম হয়েছে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সেটাই প্রমানিত হয়। সে যে বক্তব্যে দিয়েছেন এটা পুরো অগণতান্ত্রিক বক্তব্যে।

 

 

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ যদি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হয়ে থাকে তাহলে শামীম ওসমানের এই বক্তব্যের জন্য আওয়ামী লীগের উচিত তাকে কারণ দশানো। কারণ এই ধরনের বক্তব্যে দিয়ে দেশে বিএনপি না শুধু জনগনের কাছে আওয়ামী লীগকে হাস্যকর দলে পরিনত করছে এবং নিজেকে ও একজন হাস্যকর নেতায় পরিনত করছে।

 


এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপি মেহেনতি মানুষের দল, দেশের সাধারন খেটে দাওয়া মানুষ যারা দিন এনে দিন খায়, পরিশ্র করে চলে তারাই বিএনিপকে সার্পোট করে। এখন যদি একজন এমপি দেশের জনগনের বিপক্ষে হয়ে কথা বলে তাহলে তো এটা মানান সই না।

 

 

অপর দিকে উনি একজন জনপ্রতিনিধি উনার দরকার দেশের সকলের সাথে সমন্বয় হয়ে কাজ করা কিন্ত উনি এখন জনগণের উর্ধ্বে গিয়ে কাজ করতে চাচ্ছে। আমি বলতে চাই উনার এগুলো পলিটিক্যাল বক্তব্যে কোন রাজনৈতিক বক্তিতা অন্য দলকে ছোট করে বলা হতে পারে না।

 


মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে এমপি শামীম ওসমান সাহেব একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি কিন্তু তার ভাষা কোন রাজনৈতিকবীদের ভাষায় নয়, এটা গডফাদারের ভাষা, কোন সন্ত্রাসীদের ভাষা, কোন চলচ্চিত্রের ভিলেনদের ভাষা।

 

 

আমরা জানি এলজন রাজনৈতিকবীদ কখনো ভিলেনের ভাষায় কথা বলতে পারে না। আমরা জানতাম উনি একজন রাজনৈতিকবীদ কিন্তু উনার কথাবার্তা শুনে বুঝা যায় উনি একজন সন্ত্রাসীদের গডফাদার, উনি একজন সন্ত্রাসী, উনি একজন চলচ্চিত্র জগতের ভিলেন।

 

 

তিনি আরো বলেন, উনি যে বলছে ২৪ ঘন্টা নারায়ণগঞ্জ থেকে বিএনপিকে প্রতিহত করবে, আমি বলতে চাই উনি ২৪শ' বছরেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাড়াতে পারবে না। আবার উনি বলে উনি জোরে কাশি দিলে দিলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাবে, আমরা চাই না উনি জোরপ কাশি দিয়ে উনার পাছা দিয়ে উনার ধম বেড় হয়ে যাক।

 

 

উনার সকল কথাবার্তা অশ্লীল কথাবার্তা। আমি বলতে চাই অতীতে তার বিরুদ্ধে অনেক রেকর্ড আছে ওই রেকর্ড থেকে উনি ফিরে আসবেন ও সন্ত্রাসী আর গডফাদারদের মত কথা বলবেন না। নারায়ণগঞ্জের জনগণ বিএনপির সাথে আছে, উনি যে কথা বলে সকালে কাশি দিলে নারায়ণগঞ্জ ফাঁকা হয়ে যাবে উনি ওই অবৈধ অস্ত্রগুলো আর উনার লাইসেন্স করা অস্ত্রগুলো ও উনার প্রসাশনের লোক রাইখা মাঠে আসুক।

 

 

ক্ষমতার দাপটে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে, আগে মাঠে আসুক পরে দেখা যাবে কে শহর খালি করতে পারে। উনি যানে এখন দেশে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে উনি আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে না। যার কারণে উনি এখন আবল-তাবল বকাবকি শুরু করছে, কারণ বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখনই উনারা শহরে ছেড়ে,দেশ ছড়ে পালিয়ে গেছেন।

 

 

কিন্তু আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসলে বিএনপির কোন নেতাকর্মী শহর ছেড়ে, দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এটার কোন নজির নাই। আর উনি যেহেতু রাজনৈতিক আশা করি উনি সামনে থেকে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলবে। হুমকি দমকি দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো জয় কিন্তু হুমকি দুমকি দিয়ে কখনো জনগণের মন জয় করা যায় না।

 

 

অতি উনি হুমকি-দমকির কারণে উনি সন্ত্রাসী, গডফাদার টাইটেল পেয়েছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই। কারণ এই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা নির্বাচিত হতে পারবে না।

 

 

যার কারণে এই শামীম ওসমান এখন আবল-তাবল বকছে আমি বলােত চাই যদি এইভাবেই বিএনপিকে নিয়ে এমন অশ্লীল সন্ত্রাসী-গডফাদার টাইপের কথা বার্তা বলে তাহলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ও আর বসে থাকবে না, তারা ও দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবে।

 


জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব যুগের চিন্তাকে বলেন, এটা শামীম ওসমান সাহেবের একক রাজনৈতিক বক্তব্যে উনি এটা সব সময় দিয়ে থাকেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে এই ধরনের বক্তব্যে কাম্য করে না দেশের সাধারন জনগণ।

 

 

বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিকদল। আর আওয়ামী লীগ বর্তমানে ক্ষমতার জোরে এই ধরেনর বক্তব্যে দিয়ে থাকে। আমরা এগুলো মাথায় নেই না কার ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে এমন অনেক বক্তব্যে দেওয়া যায়।

 


মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুগের চিন্তাকে বলেন, উনি তো একজন বিনা ভোটের জনপ্রতিনিধি যার কারণে দেশের সাধারন জনগণের চাওয়া পাওয়া উনি বুঝে না। বর্তমানে বিএনপি দেশের জনগণের হয়ে কাজ করছে যার কারণে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরা তা সহ্য করতে পারছে না, কারণ তারা তো দেশের ক্ষতি চায়।

 

 

বর্তমানে বিএনপি রাজপথে আন্দোলণ সংগ্রাম করে যাচ্ছে ভোটে অধিকারসহ দেশের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। যার কারণে দেশের জনগণ এখ বিএনপির পক্ষে যার কারণে এখন এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই তারা আবল-তাবল বকাবকি শুরু করে দিয়েছে। তার এই ধরনের বক্তব্যে বিএনপি কিছুই মনে করে না।

 

 

তিনি আরো বলেন, এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশ ছেড়ে পালানোর নজির রয়েছে কিন্তু ক্ষমতায় না আসতে পারলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালায় এমন কোন নজির নাই। আমি বলতে চাই। উনি একজন সাংসদ সদস্য রাজনৈতি ব্যক্তিত যার কারণে উনার সকল বক্তব্যেই যাতে রাজনৈতিক বক্তব্যে হয় অন্য কোন দলকে ছোট করে যাতে না হয়।

 


জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, এই শামীম ওসমান সাহেব দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ নানা হুমিক দমিক দিয়ে আসছেন। আর আমরা বিরেধী দল হয়ে ও কিন্তু এই পর্যন্ত দেশের মাটিতে থেকেই এই রাজনীতি পালন করে আসছি। আর আমাদের সকল কর্মসূচিতেই কিন্তু আওয়ামী রীগ বাধা দেয়।

 

 

কিš কোনভাবে তারা এই কর্মসূচি বাঞ্চাল বা বাধাগ্রস্থ করতে পরে না। বিএনপির যারা বর্তমানে দায়িত্বে আছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা বিএনপিতে সকল নেতাকর্মী কিন্তু দক্ষ কিভাবে এই আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে হবে। সব কিছু বিবেচনা করেই কিন্তু আমরা মাঠে নামি যার জন্য কিন্তু আমরা যখন মাঠে নামি সে সময় আওয়ামী লীগকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

 

 

আমি বলতে চাই উনার যে বক্তব্যে এটা হলো তার মনগড়া বক্তব্যে এই বক্তব্যে দিয়ে তিনি তার নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে চায়। উনি জানে সামনে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকছেন না। যে কোন সময় এই শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ থেকে বিতরিত হবে। যার কারণে তার নেতাকর্মীরা যাতে চাঙ্গা থাকে নেতাকর্মীরা যাতে তার থেকে বিমুখ না হয়। সেই নেতাকর্মীদের ধরে রাখার জন্যই তার এই ধরনের বক্তব্যে।   এন.হুসেইন রনী /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর