বুধবার   ১৯ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮

কে এই সাহেদা শিউলি?

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২১  

সম্প্রতি সাহেদা শিউলি নামে এক নারী করোনা বীর কাউন্সিলর খোরশেদের স্ত্রী দাবি করেছেন। ওই নারী  আই-মা গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বাংলাদেশ সিএনজি অনার্স এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জের সভাপতি।

তিনি ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিবিসিআই এবং বিজিএমইএ’র সদস্য।মুন্সিগঞ্জে বাবার আদি বাসস্থান হলেও সাহেদা শিউলি ফতুল্লার ১৫নং মধ্য ইসদাইর এলাকার মৃত জহিরুল হকের মেয়ে। এলাকায় তাকে খুকু মনি হিসেবে চেনেন। এখন ওই বাড়িতে তার এক ভাই থাকেন।  বর্তমানে ওই নারী চানমারী এলাকায় শফি ডাক্তারের গলির সামনে একটি বাড়ির ফ্ল্যাট কিনে বসবাস করে আসছেন।

তবে কাউন্সিলর খোরশেদ ও ওই নারী ফেসবুক লাইভে এসে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়ার পরে এখন ইসদাইর ও চাঁনমারীতে আলোচনায় মূল বিষয়বস্তু খোরশেদ ও শিউলির সম্পর্ক। ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় শিউলির বড় বোন পারভীন তার তিন ছেলেমেয়েকে দেখাশোনা করতো। ২০ এপ্রিল তিনি ৫৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।  সূত্র জানিয়েছে, সাহেদা শিউলি এবং কাউন্সিলর খোরশেদের দুই মেয়ে নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলে একই ক্লাসে পড়েন। তবে তারা এসব বিষয়ে অবগত ছিলেননা। এখন দুই বান্ধবীর মধ্যেও সম্পর্কে ফাটল।

 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,  কাউন্সিলর হওয়ার অনেক আগে থেকেই ইসদাইরের বাসায় আসা-যাওয়া করতো খোরশেদ। সাহেদা শিউলির এক ভাই মামুন খোরশেদের বন্ধু হওয়ায় মামুনের ইসদাইরের বাসায় তিনি অবাধ যাতায়াত করতো। সেখানে ওই বাড়ির ছাদে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেও দেখতেন বলে জানান ওই এলাকার মুরুব্বিরা। ওই সময় খোরশেদের সাথে তাদের বন্ধু মিলন, হারুন আসতো। 


ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এর নারীর ভাই শামীমের সাথে ৭/৮ বছর আগে আমার একটা গ্যাঞ্জাম হয়েছিল। ওই নারীর এক স্বামী সৌদীআরবে মারা গেছেন। শামীমের সাথে একটা গ্যাঞ্জাম হয়েছিলো। ওই নারীর এক ভাই মামুন অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলো। মামুন এখন অস্ট্রেলিয়া থাকেন। আর এই মামুন হচ্ছে খোরশেদের বন্ধু। ফেসবুক লাইভে যখন খোরশেদ এই নারীকে বক্তব্য দেন তখন এলাকাবাসীর বিষয়টিতে নজর আসে। মামুনের বাসায় যখন খোরশেদ আসতো তখন তার বন্ধু হিসেবেই সবাই জানতো। চানমারীতে ওই  নারী যেখানে থাকেন সেখানেও সবাই খোরশেদ আর ওই নারীর সম্পর্কের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। ফেসবুক লাইভে দুইজনের ভিডিও দেখার পর থেকে আলোচনা আরো বেড়ে গেছে।

 
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম বলেন, ‘অনেকদিন আগে ইসদাইরের একটি ঘটনা নিয়ে ওই নারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে পারিবারিক একটি ঝামেলার বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসে। আমি এলাকার মুরুব্বিদের বলেছি সমাধান করে দিতে কিন্তু পরবর্তীতে খোরশেদের বিষয়টি নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোরগোল হওয়ার পরে আমি জানতে পারি ওই নারীই সেই নারী। খোরশেদ ভালো মানুষ তবে খোরশেদ যদি নিজের ভুলে কিংবা নিজের অজান্তে ইমোশনালি কোন ভুল করে থাকে তবে আমার মনে হয় এজিনিসগুলো খোরশেদের ক্লিয়ার করা উচিৎ।’

 
এদিকে সাহেদা শিউলিও স্বীকার করেছেন, ‘১৯৯০ সালের দিকে যখন তিনি গভর্মেন্ট গার্লস স্কুলে পড়তেন তখন থেকেই কাউন্সিলর খোরশেদকে চিনতেন তিনি। তার ভাই কাউন্সিলর খোরশেদের বন্ধু ছিলেন। দীর্ঘদিন গ্যাপ থাকলেও  গতবছর বারবার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ এবং করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কাউন্সিলর খোরশেদের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ে। এবং পরে গত ২ আগস্ট কাঁচপুরে এসএস ফিলিং স্টেশনে  তাদের বিয়ে হয়। যেখানে কাজী নিয়ে গিয়েছিলেন কাউন্সিলর খোরশেদ। দাবি করেছেন সাহেদা শিউলি। 


গতবছরের আগে ওই নারী পূর্বপরিচিতা কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি।
 

এই বিভাগের আরো খবর