রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

খানপুর হাসপাতালে টয়লেট বিড়ম্বনা

তানজিলা তিন্নি

প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২২  

নারায়ণগঞ্জ খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বেহাল দশা যেন কাটছেই না। হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানি অভাবের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এবার প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে। এখানে ভর্তি হওয়া রোগীদেরই নয়, এছাড়াও এখানে আসা বহির্বিভাগ, জরুরী বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে আসা রোগী ও স্বজনদেরই যেন হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে রয়েছে হতাশা। হাসপাতালের চার পাশের পরিবেশ নিয়ে তেমন একটা অভিযোগ না তুললেও এখানকার ওয়ার্ডগুলোর বাথরুমের পরিবেশ খুবই নোংরা বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

 

এখানকার বাথরুম বা ওয়াশ রুমের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়াই যেন মুশকিল। এতে করে এখানে রোগীদের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করে। চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা এখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের খাবারের সময় অনেকটা-ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এই গন্ধ শুধু আবাসিক ওয়ার্ডগুলেতেই নয়, চলে যাচ্ছে জরুরী বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটারের পাশেও। দুর্গন্ধে এসব জায়গায় সাধারণ মানুষেরও দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও এ বিষয়ে তারা তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে রোগীদের অভিযোগ।


 
রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় প্রসূতি বিভাগের সামনে, করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে এবং অপারেশন থিয়েটারের সামনের বাথরুম গুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষেই যেন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় তলার বাথরুম গুলোরও একই অবস্থা। একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের এমন চিত্র দেখে অপারেশন চলা এক রোগীর স্বজন বলেন, এখানে দাঁড়াতে খুব অসুবিধা হয়। এখানে বেশিক্ষণ থাকলে সুস্থ মানুষ ও অসুস্থ হয়ে পড়বে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টির কোন সুরাহা না করায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।


 
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের এক রোগী জানান, পাবলিক টয়লেটের থেকেও এখানকার ওয়াশ রুমের অবস্থা খারাপ। হাসপাতালের পরিবেশ যদি এমন অ-স্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে রোগীরা এমনিতেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ওয়াশ রুমে যাওয়াতো দুরের কথা, এখানকার বেডে বসে থাকাটাও মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ স্বস্তিতে হাটাচলাও করতে পারে না এ গন্ধের জন্য। প্রসূতি ওয়াডের এক মহিলা জানায়, আজ চার দিন হলো এখানে এসেছি আমার বোনের সাথে, কিন্তু একদিনও এখানের বাথরুম পরিষ্কার পাইনি। যখনই যাই একই রকম অবস্থায় থাকে। এই কারণে এই চারদিন যাবত আমি গোসল ও করতে পারছি না।


 
ডেঙ্গু রোগীর এক স্বজন জানায়, এখানে প্রথম যখন এসেছিলাম তখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল, বাথরুমে পানি জমে ছিল। বাথরুম ব্যবহার করার উপযুক্তই ছিল না। এখন সেখানকার পানি সরলেও বাথরুম গুলো স্বাস্থ্য-সম্মত নয়। পুরুষরা বাহিরে গিয়ে তাদের কাজ গুলো সম্পন্ন করতে পারলেও মহিলাদের জন্য খুবই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।


 
এ বিষয় খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. আবুল বাশার জানান, আমাদের রোগী যেখান থেকে আসে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা তারা যে পরিবার থেকে আসে তাদের মাথায় কিছুই নেই। যারা বাথরুম ব্যবহার করে তারা প্রয়োজন মতো পানি ব্যবহার করে না। তাদের মাথায় এইটুক জ্ঞান থাকে না যে, তার পর এটা আবার অন্য কেউ ব্যবহার করবে।

 

তিনি আরও জানান, এরা প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর আমাদের স্টাফরা তা পরিষ্কার করবে এটা তো সম্ভব না। আমাদের স্টাফ সকালে একবার পরিষ্কার করে আবার বেলা ২টার পর পরিষ্কার করে। এ সময় তিনি আরও বলেন হাসপাতালে অনেক অভিযোগ থাকবেই ,তবে আমরা চেষ্টা করছি এ অভিযোগগুলো কমিয়ে আনার।এসএম/জেসি 
 

এই বিভাগের আরো খবর