বুধবার   ১২ মে ২০২১   বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

খোরশেদের দস্যু রানী-চুন্নী-কলিজার টুকরা সব শিউলি

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২১  


# ‘এই ছবিটি কেবল আমার দস্যু রানী, আমার চুন্নী এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় টাউটের জন্য’ এই সংলাপ লিখে মেসেঞ্জারে শিউলিকে ছবি পাঠাতেন খোরশেদ।

 

‘এই ছবিটি কেবল আমার দস্যু রানী, আমার চুন্নী এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় টাউটের জন্য’ ফেসবুক  মেসেঞ্জারে হাজার হাজার ছবি পাঠিয়ে এভাবেই প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলেন  নাসিক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

 

মানুষ খালি চোখে যা দেখে তা সবসময় সত্য হয়না। মুখোশের অন্তরালে থাকে ভিন্ন রূপ। সম্প্রতি হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সাথে সোনারগাঁয়ে রিসোর্টে আসা নারী তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাসের ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে। অথচ এই মামুনুলকে মাস কয়েকআগেও ইসলামিক সুবক্তা হিসেবে মানুষ জানতো। মামুনুল কা- যেমন সারাদেশের মানুষকে নাড়া দিয়েছে তেমনি সম্প্রতি করোনা বীর হিসেবে খ্যাত কাউন্সিলর খোরশেদের ভেতরকার মুখোশ উন্মোচন হয়ে পড়ায় তাকে নিয়েও সারা নারায়ণগঞ্জে আলোচনা হচ্ছে।

 

এতোদিন প্রশ্ন না উঠলেও এখন প্রশ্ন উঠেছে ‘টিম খোরশেদ’ এর অর্থসংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন তিনি সরাসরি কোন অর্থগ্রহণ করেননা। কিন্তু তার দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত জটিলতায় ফাঁস হচ্ছে একের পর এক তথ্য। মাকছুদুল আলম খোরশেদের একটি লেখা বই ‘ছড়ায় ছড়ায় বাংলাদেশ’। সেখানে প্রথম স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনা’র জন্য দাবি করে ‘আদি প্রেমের নতুন সংস্করণ’ কবিতাটি লিখেছেন। যা খোরশেদের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা শিউলির জন্যই আসলে প্রযোজ্য।

 

কবিতাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো, সেখানে খোরশেদ লিখেছেন, পাইনা রাধা তোমার দেখা, এতোটাই তুমি দামী! পথের মোড়ে রোদে পুড়ে কৃষ্ণ হলাম আমি! আমার সাথে নগর পুড়ে, পুড়ে পলাশ শিমূল, তুমি যদি আসো আবার বৃষ্টি হবে তুমুল। তোমার জলে করবো শীতল, আমার পোড়া দেহ, বাঁধবে লড়াই খুনি হবো, কংস হলে দেহ। পোড়া বাঁশি বাজবে আবার তোমার প্রিয় সুরে, সব মাড়িয়ে আসবো কাছে থাকবো না আর দূরে।


সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তার স্ত্রী লুনাকে নিয়ে এসে লাইভে দাবি করেন এক নারী তার পুরো পরিবারের জীবনকে অতিষ্ট করে ফেলেছে। ওই নারী তার স্ত্রী ও সন্তানকে হুমকি দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে একথা বলার পর করোনা যোদ্ধা হিসেবে সহানুভূতি পান খোরশেদ। কিন্তু ওই নারীর সাথে তার কী সম্পর্ক এবং পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে ঢালাওভাবে একতরফা অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারতো।

 

তবে হঠাৎ রাজনীতির বাইরে থাকা ওই নারী আসেন দৃশ্যপটে। তিনি সূদূর দুবাই থেকে ফেসবুক লাইভে এসে জানান, খোরশেদের দ্বিতীয় স্ত্রী তিনি। খোরশেদ তাকে বিয়ে করেছেন, এসংক্রান্ত প্রমাণাদিও তার কাছে আছে। তিনি নন, বরং খোরশেদই তার জীবনকে এলোমেলো করে দিয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে বের হয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল।


সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সায়েদা শিউলি নামের ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট কাঁচপুরে শিউলির মালিকানাধীন এসএস সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সাথে কাজী নিয়ে গিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করেন খোরশেদ। মজার বিষয় হচ্ছে, গতবছর করোনার সময় ওই নারীর সাথে পরিচয় হয়েছে ফেসবুক লাইভে খোরশেদ এমন দাবি করলেও আসলে সায়েদা শিউলির গালর্স স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তাঁর ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্বের সুযোগে প্রেম হয়  খোরশেদের।

 

পরে ওই নারীর পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। এনিয়ে ওই নারীর ভাইয়ের সাথেও বন্ধুত্বে বেঈমানি করেন খোরশেদ। দীর্ঘ তিনদশক পর ওই নারীকে খুঁজে বের করেন খোরশেদ। নানাবাহানায় ফুঁসলিয়ে ওই নারীকে পুরনো প্রেমের ফাঁদে কাছে টানেন। পিছ অব হার্ট অর্থাৎ কলিজার টুকরা বলে কাছে টানেন, এছাড়া দিনে হাজারো বার কখনো পাগলী, কখনো নিশু বলে জালে ফেলেন। সম্পর্কের ব্যাপ্তি এতোখানি ছড়ান সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ওই নারীর বাড়ির চতুপার্শের মানুষ তাকে খোরশেদের ছোট বউ হিসেবেই জানেন।

 

বিপত্তি বাধে যখন খোরশেদ ও ওই নারীর অস্থায়ী ড্রাইভার খোরশেদের প্রথম স্ত্রী লুনার কাছে সব বলে দেন। রাজনীতিবিদ খোরশেদ তখন রাজনীতির চাল দেয়া শুরু করেন সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ওই নারীকে নিয়ে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনা বীর খোরশেদের ভিন্ন আরেকটি রূপ রয়েছে। খোরশেদের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা আই-মা গ্রুপের এমডি সায়েদা শিউলি সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। তিনি এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ’র সদস্য। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সিএনজি অনার্স এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সভাপতি। দীর্ঘদিন উপেক্ষা করেও ওই নারী পার পাননি খোরশেদের হাত থেকে। জানা গেছে, সায়েদা শিউলির সাথে তার পরিবার ১৯৯৩ সালে এক ইঞ্জিনিয়ারের সাথে বিয়ে দেন। ২০১৫ সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। তাদের ঘরে তিন সন্তান রয়েছে।

 

সায়েদা শিউলি সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেননা। তার সন্তানদেরও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। বিপত্তি বাধে করোনার সময় অক্সিজেন সংকটে অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিলে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা করতে চান শিউলি। আর তখন তার মোবাইল নং সংগ্রহ করে পুরোনো প্রেমকে আবারো সচল করার কাজে লাগান খোরশেদ। যদিও দুপক্ষের মাঝেই দুই পরিবারের সন্তানদের কথা ভেবে গোপন রাখার কথা হয়। এটিকে কাজে লাগান খোরশেদ। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ফান্ড মেশিন হিসেবে কাজে লাগান ওই নারীকে।

 

জানা গেছে, অক্সিজেন সাপোর্টের যে ব্যবস্থা খোরশেদ করেছিলেন সেটির নেপথ্যের কারিগর ছিলেন ওই নারী। লিন্ডা নামক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনিই খোরশেদকে সেটি সরবরাহ করেন। ব্যবসায়িকবাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ওই নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে খোরশেদ আর্থিকভাবে কীভাবে লাভবান হয়েছিলো সেটিও সামনে আসছে ধীরে ধীরে। ব্যবসায়িককাজে মিটিংয়েও থাকতে পারতেননা ওই নারী। দিনে অন্তত ৫০ বার ভিডিও কল দিতেন খোরশেদ। কিন্তু পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কানাডা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে পাসপোর্ট করার কথা খোরশেদকে বলেন তখনই খোরশেদের টনক নড়ে।

 

নানা তালবাহানা করেও ওই নারীকে বোঝাতে না পেরে আসল রূপ বেরিয়ে আসতে থাকে খোরশেদের। ওই নারীর চরিত্র হননের ঘৃণ্যপথের কথা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন খোরশেদ। তবে সত্য তো কেউ চাপা দিয়ে রাখতে পারেনা। একের পর এক থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসছে খোরশেদের। প্রেমের ফাঁদ পেতে বিয়ে এবং বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর কাছে সাধু সাজা পুরো ঘটনাটিই অত্যন্ত কৌশলে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করেছিলেন খোরশেদ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ঘরের কথা বাইরে বলে দিয়ে নিজেই ধরা খেয়ে গেছেন।

 

অনুসন্ধানে করোনাবীর খ্যাত কাউন্সিলর খোরশেদের আরো অনেক ঘৃণ্যকাজের তথ্য বেরিয়ে আসছে। সূত্র জানিয়েছে, শুধু ওই নারী নন, এছাড়াও ত্রাণের সহায়তা নিতে এসে হেনস্থার এবং খোরশেদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে এমন ঘটনাও নেহাৎ কম নয়। যখনই তিনি পরিবারের কাছে ধরা খান, তখনই পরিবারের সদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে নানা অপবাদ দেন ভুক্তভোগীদের। তাদের চরিত্র হননে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে এবার তথ্যপ্রমাণাদি থাকায় তাতে কামিয়াবি হতে পারছেননা খোরশেদ।এঘটনায় খোরশেদের ভেতরকার মুখোশধারী চরিত্র উন্মোচন হয়ে পড়ছে। নিজের পরিবারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনীতিকরণ এবং একজন নারীকে হেয় করার অপচেষ্টায় সাধারণ মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে খোরশেদকে।

এই বিভাগের আরো খবর