বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২   আশ্বিন ২০ ১৪২৯

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো ও শ্রমিক ছাঁটাই, মামলা-হয়রানি বন্ধ করাসহ শ্রমিক বিরোধী আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ণের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা দুলাল সাহা, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দাস, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সভাপতি আঃ হাই শরীফ, সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, সদস্য জাকির হোসেন ও প্যারাডাইজ কেবল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রাসেল প্রমুখ।

 

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে, পরিবহন ভাড়া ও ঘর ভাড়া বেড়েছে। এতে জনজীবনের ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ ফলে শ্রমিকরা চরম সংকটে দিনাতিপাত করছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে শ্রমিকরা যে মজুরি পায় তা দিয়ে তাদের দুবেলা দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে জীবন ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আধপেটা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমিকদের তিন বেলার খাবার ও ঘর ভাড়াসহ পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে এখন অতিরিক্ত কাজের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

 

তাদের এই সংকটের সুযোগ নিয়ে শিল্প কারখানার মালিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের পরিবর্তে শ্রমিকদের দিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তারা আরও বলেন, শুধু তাই নয় সাপ্তাতাহিক ছুটির দিনেও শ্রমিকদের বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। জোরজবরদস্তি ওভারটাইম ডিউটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে শ্রমিকরা মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

 

মালিকরা কালা-কানুনের অপব্যবহার করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে করছে। কেও কোন কথা বললে চাকুরি থাকে না। মামলা হয়রানি করে তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না। শ্রমিকের জীবন-জীবিকা ও অধিকার রক্ষায় তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে মালিকদের সকল জুলুম অত্যাচারের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।

 


নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পোশাক শিল্পে অর্ডার বেড়েছে ফলে শ্রমিকদের উপর কাজের চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ। ইতিমধ্যে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনাম’কে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। শ্রমিকের শ্রমে ঘামে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে জিডিবি বাড়ছে সরকারের হিসেব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় বেড়েছে কিন্তু সেই শিল্পের শ্রমিকদের আয় বাড়ে নাই। সারাদেশের শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলেছে কিন্তু সরকার তা বিবেচনায় না নিয়ে মালিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে। এই ক্ষোম বিক্ষোভে রূপ নিলে সামাল দেয়া যাবে না।

 

অনাকাঙ্খিত কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই শ্রমিক বিরোধী আইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, শ্রমিক ছাঁটাই, মামলা-হয়রানি বন্ধ করাসহ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

এই বিভাগের আরো খবর