সোমবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৪ ১৪২৯

জনবল সংকটে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষ

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২৩  

 

# ৩১ টির মাঝে ১১টিতে পদশুন্য
# আলীরটেকে ৭ বছর মেডিকেল অফিসার নেই

 

মানুষের পাচঁটি মৌলিক চাহিদার মাঝে অন্যতম হলো চিকিৎসা। এই চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষ সুস্থ্য থাকতে চায় তেমনি অসুস্থ্য হলে চিকিৎসকদের থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকে। পাশাপাশি মানুষ যখন অসুস্থ্য হয় তখন ডাক্তার থেকে চিকিৎসা গ্রহন করে থাকে। তার মাঝে যারা একটু নিম্ন আয়ের মানুষ তারা সরকারি হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কিন্তু গর্ভবতী নারীরা ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের থেকে ঔষধ সেবন করে থাকেন। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও অনেক গুলোতে এই পদ শুন্য রয়েছে।

 

জেলা স্বাস্থ্য পরিবার কল্যান কেন্দ্রের তথ্যমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ৩১ টি। তার মাঝে ২০ টিতে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছে। কিন্তু ১১ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নেই। আর এতে করে ওই এলাকার স্থানীয় অল্প আয়ের মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সাথে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরাও এই বিষয়ে কোন সুরাহা করতে পারছেন না। কেননা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলোতে জনবল সংকট নিরসনে তাদের তেমন কিছু করার নেই। এমনকি জেলার যিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান তিনিও এই পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারেন না। আর এতে করে শূন্য পদ গুলোও পূরণ হচ্ছে না।

 

কেননা এই পদ গুলো নিয়োগ হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান অধিদপ্তর থেকে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তর জেলা গুলো থেকে শুন্য পদের তালিকা নেন। সেই অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানযায়, জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের শুন্য পদগুলোতে বর্তমানে ফ্যামিলি ভিজিটর দিয়ে চলছে। তাদের মাঝে আবার কেউ কেউ দীর্ঘ দিন যাবত থাকতে থাকতে নিজেদের মত রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ঔষধ লুকিয়ে নিয়ে বাহিরের বিক্রির অভিযোগ তো আছেই।

 

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা আলীরটেক ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৭ বছর যাবত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নেই। এখানে সুলতানা নামের একজন নারী ফ্যামিলি ভিজিটর দীর্ঘদিন কোনরকমভাবে চালাচ্ছেন। তাকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে মানুষ সেবা নিতে গিয়ে ঠিকমত তাকে পান না। তাছাড়া এনায়েত নগর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘ দিন যাবত পানির নিচে পড়ে আছে। এটি সংস্কারের জন্য তেমন কোন উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। আর এখানে দীর্ঘ দিন পর মাস খানিক আগে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ হয়। এর আগে ৪ বছর যাবত এই পদ শুন্য ছিল। তখন এখানকার ফ্যামিলি ভিজিটর সালেহা সকল দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

 

শাহ জালাল নামে এক ব্যক্তি বলেন, এখানে পুরুষদের ঔষধ দেয়া হয় না। পুরুষ মেডিকেল অফিসার না থাকায় আমরাও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। তাছাড়া তাদের দুর্ব্যবহারতো আছেই। তার পরেও গ্রামে হওয়ায় নারীরা তাদের কাছে আসে। কেননা এখানে কোন হসপিটাল বা ক্লিনিক নেই। করোনার সময় বুঝা গেছে স্বাস্থ্য বিভাগ যে অকার্যকর হয়ে আছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেনা উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষরা। দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক ও চিকিৎসা উপকরণ সংকটে ভুগছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের এমন বেহাল অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র মানুষগুলো।

 

জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক স্বপন কুমার শর্মা জানান, এখানে ১১ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের উপ সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ শুন্য রয়েছে। এই শুন্য পদ গুলোতে আমরা নিয়োগ দিতে পারিনা। কেননা এই পদে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমি নারায়ণগঞ্জে আসার পর এখানে ৫৩ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছি। তারা প্রত্যেকেই নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা।  এবং এই ৫৩ জন গত নভেম্বর মাসে যোগদান করেছে। এই ৫৩ জন পরিবার পরিকল্পনা সহকারি, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবার কল্যান সহকারি এবং আয়া পদে নিয়োগ পেয়েছে। শুন্য পদ গুলোর তালিকাও আমরা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি।  

এস.এ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর