শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

জোড়াতালিতে চলছে ফতুল্লা

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  

# নির্বাচিত ১৩ জনের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু, একজনের অব্যাহতি


# চারজনকে নিয়ে কাজ করছেন স্বপন চেয়ারম্যান


# বাবার স্থলে ছেলেরা ভলেন্টিয়ার!


# নির্বাচন চায় ফতুল্লাবাসী ও বর্তমান পরিষদও  


 

ফতুল্লা ইউনিয়নের বর্তমান পরিষদের অবস্থা করুণ হয়ে পড়েছে। মামলা জটিলতায় দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছে না গুরুত্বপূর্ন এই ইউনিয়নটিতে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে পরিষদের মোট ৭জনই মৃত্যুবরণ করেছেন। এই সাতজনের মধ্যে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, পাঁচ জন ইউপি সদস্য এবং ১জন সংরক্ষিত নারী সদস্য।

 

এছাড়া ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য আমেনা বেগম বার্ধক্যজনিত কারণে ঘোষণা দিয়েই তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এতে পরিষদের ১৩ জনের মধ্যে ৮জনের চেয়ার খালি হয়ে আছে। বাকি পাঁচ জনের কাঁধে ভর করে আছে বর্তমান পরিষদ। তাদের নিয়েই পরিষদের সার্বিক কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন। বৃহৎ ও ঘনবসতি পূর্ণ এই ইউনিয়নে স্বল্প সংখ্যক প্রতিনিধি দ্বারা কার্য পরিচালনায় তিনিও হিমশিম খেয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে গুরুত্বপূর্ন এই ইউনিয়নটিতে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চাইছেন ফতুল্লাবাসী এবং বর্তমান পরিষদও। তবে, মামলা জটিলতায় কাঙ্খিত এই নির্বাচন এ যাবৎ হয়নি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তল্লা এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন। আর ইউপি সদস্যদের মধ্যে যথাক্রমে ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুর রশিদ, ২নং ওয়ার্ডে সনু মিয়া, ৩নং ওয়ার্ডে বরকত, ৪নং ওয়ার্ডে খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন, ৫নং ওয়ার্ডে মালেক প্রধান, ৬নং ওয়ার্ডে আলী আকবর, ৭নং ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম সেলিম, ৮নং ওয়ার্ডে আক্কাস এবং ৯নং ওয়ার্ডে ইউসুফ আলী মোল্লা। এর মধ্যে নূর হোসেন চেয়ারম্যান, ১নং ওয়ার্ডের আব্দুর রশিদ, ২নং ওয়ার্ডের সনু মিয়া, ৩নং ওয়ার্ডের বরকত, ৫নং ওয়ার্ডের মালেক প্রধান, ৮নং ওয়ার্ডের আক্কাস এবং ১, ২ ৩নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্যসহ ৭জন মৃত্যু বরণ করেছেন।

 

এদিকে, লোকবল সংকটের মধ্যেও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়েছে যাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন। তিনি ফতুল্লা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। ইউনিয়নটির নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর ২০১১ সালের ১৬ মে সদর উপজেলার তৎকালিন নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোতাহার হোসেনের তত্বাবধানে ও তৎকালিণ সাংসদের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্যগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মালেক মেম্বারকে হারিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন। সেই থেকেই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলমান রেখেছেন তিনি। এদিকে, ইউপি সদস্য শূন্য ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ১, ২, ৩ ও ৫নং ওয়ার্ডে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করছেন প্রয়াত ইউপি সদস্যদের সন্তানরা। তন্মধ্যে ১নং ওয়ার্ডে রশিদ মেম্বারের ছেলে হাসমত এবং তার সাথে খা’বাড়ি এলাকার যুবলীগ নেতা পাপন সরকার উভয়ে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করছেন।

 

২নং ওয়ার্ডে প্রয়াত সনু মিয়ার ছেলে রাসেল, ৩নং ওয়ার্ডে প্রয়াত বরকত মেম্বারের ছেলে পরশ এবং ৫নং ওয়ার্ডে প্রয়াত মালেক মেম্বারের ছেলে বাসেত প্রধান ভলেন্টিয়ার হিসেবে আছেন। আর ৮নং ওয়ার্ডে প্রয়াত আক্কাস মেম্বারের স্থলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করছেন ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম সেলিম। এমন জোড়াতালি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে গুরুত্বপূর্ন ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। তাই ইউনিয়নটিতে নির্বাচনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন ভোটার ও বর্তমান পরিষদও। জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান স্বপন দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, শুনেছি মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। এবার নির্বাচন হতে পারে। আমি চাই যথা সময়ের মধ্যে নির্বাচন হোক। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেই গ্যাপ তৈরী হয়েছে, নির্বাচন হলে তা থাকবে না।’

 

তিনি বলেন, ‘স্বল্প সংখ্যক প্রতিনিধি দিয়েই আমি ইউনিয়ন পরিষদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষের দাঁড়প্রান্তে সরকারের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। নাগরিক সুবিধাও শতভাগ নিশ্চিত করছি। আমি চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন হোক। আর আমাদের নেতা সাংসদ শামীম ওসমান ভাই যদি আমাকে নির্বাচন করতে বলে এবং নৌকার প্রতীক দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করবো। নয়তো না।’ ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আকবর বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পক্ষে। এভাবে একটি ইউনিয়ন পরিষদ চলতে পারে না। নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। তাহলে সব ওয়ার্ডেই জনপ্রতিনিধি থাকবে। আর নির্বাচন হলে আমি পূনরায় ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করবো।’ ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভাবে শুনেছি যে, মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এই বছর নির্বাচন হতে পারে।

 

তবে, আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের উচিৎ নির্বাচন দেয়া। নির্বাচন হলে আমি আশাবাদি, কারণ আমি আমার ওয়ার্ডে মানুষের জন্য কাজ করেছি।’ এদিকে, ফতুল্লাবাসীও চাইছেন সকল জটিলতা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হোক কাঙ্খিত নির্বাচন। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে যা হয়নি কথিত মামলা জটিলতায়।
 

এই বিভাগের আরো খবর