মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ২১ ১৪২৯

ডিসি‘র ডাম্পিং-অবৈধ ক্লিনিক-ছোট লঞ্চ সমাচার

করীম রেজা

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২২  

 এক;‘যানজটমুক্ত শহর নারায়ণগঞ্জ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে যুগের চিন্তা একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ৫ ই জুন ২০২২ তারিখে। যানজট নিয়ন্ত্রণ-নিরসনে মুখ্য অংশীজন ট্রাফিক পুলিশের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত হতে পারেননি। তাদের ভাষায় শতভাগ ইচ্ছে-আগ্রহ থাকলেও পরিস্থিতির কারণে অপারগ ছিলেন। 

 

যাহোক আজকের স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসণের উদ্যোগের কথা ফলাও করে ছাপা হয়েছে। আশার কথা শুনিয়েছেন জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জবাসীকে। শহরে যানজটের অন্যতম উপাদান ইজি বাইক শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

 

 অবৈধ-বাস চালাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জানানো হয়েছে অবৈধ এবং রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী যানসমূহ ডাম্পিং করা হবে। পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধির প্রতি জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন কারো প্রভাবে বা পরিচয়ের সূত্রে আইনের বরখেলাপ করা হবে না। ট্রাফিক ইনচার্জ খুব সহজ করে সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

 

 পরিবহন মালিকদের মধ্যে আছেন সাংবাদিক,পুলিশ তাদের প্রভাবের কারণে রাস্তায় যানজটের নিয়ন্ত্রণ শৃঙ্খলা বা বিধি প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রত্যুত্তরে জেলা প্রশাসক যথেষ্ট দৃঢ়তার সঙ্গে তার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার কথা বলেছেন। আগামী রোববারে শুরু হতে যাচ্ছে অভিযান। শহরবাসী আগ্রহের সঙ্গে প্রতীক্ষায় থাকবে স্বাস্তিতে সড়কে চলাফেরার আকাঙ্খিত সুযোগের।


দুই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৬ মে তারিখে ৭২ ঘন্টার মধ্যে দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয়। নারায়ণগঞ্জ শহরের সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠে নামেন। স্থানীয় দৈনিকের প্রতিদিনের খবরেই জানা যায়,অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ হয়নি। কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে ভেতরে কার্যক্রম চালিয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটে, ঘটছে এবং ঘটেছে।

 

 অভিযানের আগে এসব কার্যক্রম চালু থাকলেও কেউ গা করেনি। সম্প্রতি একটি ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসায় মারা যায় রোগী। ক্লিনিক মালিক বিভিন্ন অংশীজনসহ ভূক্তভোগী পরিবারকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে বলে খবরে প্রকাশ। সিভিল সার্জন কয়েকটি ক্লিনিককে জরিমানা করেছেন এ পর্যন্ত। কিছু প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দিয়েছেন। 

 

তিনি মাত্র সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করেন। মূলত: অভিযান তার দৈনিক কাজের অংশ হওয়া উচিত। কেননা প্রতিদিনই রোগী ভোগান্তির শিকার হয়। অভিযান চলাকালে একদিন এক নবজাতক ও প্রসূতি মাতাকে তালাবদ্ধ করে ক্লিনিকের সবাই পালিয়ে যায়। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। একদিন অভিযানে শত শত অবৈধ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। তাছাড়া বাকি ছয়দিন এদের অনিয়ম,দৌরাত্ম, চিকিৎসার নামে হয়রানি, লুন্ঠন কে দেখবে? 

তিন

বর্ষার ঘনঘটা শুরু হয়েছে। ক্ষীণতোয়া শীতলক্ষ্যায় বেড়েছে জল প্রবাহ। দূর হয়েছে দূষিত জলে দূর্গন্ধ অল্প কিছুদিনের জন্য। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু এখনও চালু হতে কয়েক মাস বাকী। জলের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে সেতুর নীচে নৌযান দূর্ঘটনার আশঙ্কা। ভয় রয়েছে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির। কয়েকটি হন্তারক দূর্ঘটনার ফলে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়।

 

 কর্তৃপক্ষ মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরসহ অন্যান্য জলপথে যাতায়াতকারী ছোট ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার সেই যানগুলোর চলাচল শুরু হয়। যদিও নৌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে পুরনো আমলের দূর্ঘটনা-প্রবণ নৌযানগুলো যা বর্তমানে অচল, তা কোনও ভাবেই চালাবার অনুমতি দেয়া হবে না। কিন্তু মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সেগুলোই আবার আগের মতই চলছে।

 

 অন্যদিকে দূর্ঘটনাকারী অভিযুক্ত নৌযানগুলো কয়েকদিন আটক থাকার পর মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যদিও বি আই ডব্লিউ টি, এ, বাদী পক্ষ হয়েও এ সম্পর্কে কিছু জানে না বলে পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জনস্বার্থে এখনও সময়োপযোগী কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়ার আলামত দেখা যাচ্ছে না। আরেকটি দূর্ঘটনার জন্য হয়ত জনগণকে অপেক্ষা করতে হবে। তারপরেই নিরাপদ নৌযান চলাচলের ন্যূনতম ব্যবস্থা গৃহীত হবে।এসএম/জেসি 

এই বিভাগের আরো খবর