বুধবার   ১৯ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮

তল্লা বিস্ফোরণ : স্ত্রীর পর এবার মারা গেলেন স্বামী

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২১  

ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ১১ জনের মধ্যে স্ত্রী আলেয়া বেগম (৪২) এর মৃত্যুর একদিন পর স্বামী হাবিবুর রহমানও মৃত্যু বরণ করেছেন।

 

২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ৯টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যু বরণ করেন। এর আগে এর আগে ২৬ এপ্রিল মারা যায় তার স্ত্রী আলেয়া বেগম।

 

এনিয়ে ওই দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হলো। এখনও শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনজন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিহতের মেয়ের জামাতা বিপ্লব এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

তিনি জানান, ‘শুক্রবার দুর্ঘটনার পরই বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল দগ্ধদের। মঙ্গলবার দুপুরে আমার শ্বশুরের শাররিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সার্পোটে নেয়া হয়েছিল। এই অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। আগামীকাল তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।

 

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল সকাল ৬টায় ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা জামাই বাজার এলাকায় একটি ভবনের তিন তলার ফ্লাটে গ্যাস বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ ১১ জন দগ্ধ হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে গিয়ে পাশের দোতলা ভবনের ছাদে পড়ে। বিস্ফোরণে ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দরজা-জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এ ছাড়া পাশের দোতলা ভবনের দরজা-জানালা ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। বিস্ফোরণে দুইটি ভাড়াটিয়ার ২ পরিবারের ১১ জন দগ্ধ হন।

 

দগ্ধ হওয়া ১১জন হলেন হাবিবুর রহমান (মৃত), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (মৃত) তাদের ছেলে লিমন (২০), মেয়ে সাথী (২৫), তাবাসসুম মীম (২২), তার ৩ মাস বয়সী শিশুপুত্র মাহির, নিরাহার (৫৫), তার স্ত্রী শান্তা বেগম (৪০), তাদের ছেলে সামিউল (২৬), তার স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার (১৬)।

 

জানা গেছে, বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া আলেয়া বেগমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়েছিলো। তার স্বামী হাবিবুর রহমানের ৮৫ শতাংশ ও শাশুড়ি সান্তা বেগমের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।  এ ছাড়া সামিউলের শরীরের ১০ শতাংশ, তাবাসসুম মীমের শরীরের ২৫ শতাংশ, মীমের ৩ মাস বয়সী ছেলে মাহিরের ২০ শতাংশ, লিমনের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁরা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর