মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

তৈমূরের সিদ্ধান্ত ‘ভুল’ দাবি মহানগর বিএনপির বিদ্রোহীদের

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

 

# এই সিদ্ধান্ত কেন নিল এটা আমার মাথায় আসছে না : মুকুল
# বিশ্বাসঘাতক হিসাবে চিহ্নিত করা হবে : সেন্টু
# বিএনপির মাধ্যমে তার অনেক লাভ হয়েছে লস হয়নি কখনো : ফারুক
# উনি বিএনপির বাইরে তাকে নিয়ে মাথাব্যথা নেই : শিপলু

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের দলত্যাগ তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করা নিয়ে বর্তমানে একের পর এক আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনৈতিক মহলে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃণমূল বিএনপির প্রথম কাউন্সিল। এই কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নামের সঙ্গে মিল থাকা তৃণমূল বিএনপিতে নতুন চমক থাকছে।

 

দলটির শীর্ষ দুই পদে (চেয়ারম্যান ও মহাসচিব) আসতে যাচ্ছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য (বহিষ্কৃত) এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকার। শুধু তারা নয়, পর্যায়ক্রমে বিএনপি থেকে বিভিন্ন সময় বাদ পড়া এবং নিজ থেকে ছেড়ে দেওয়া নেতারাও এ দলে যোগ দেবেন। সেই তালিকায় বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তারও আছেন।

 

যা নিয়ে বর্তমানে যারা তৈমূর বলয়ের নিজস্ব নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিলো তারাই আজকে বলছে তৈমূরে সিদ্ধান্ত এই দূসময়ে ভূল সিদ্ধান্ত। বর্তমানে মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা যারা এতো দিন তার সাথেই ছিল তারা আজকে তার থেকে পিছপা হয়ে আসছেন।

 

সূত্রে মতে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির গঠনের পরের দিনই এই তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করে তার বাসায় একটি মিটিংয়ের মাধ্যমেই মহানগর বিএনপির সাথে বিদ্রোহী তারা কমিটিতে স্থান পাওয়া ১৫ জন নেতৃবন্দ তারা হলেন, ১নং যুগ্ম-আহ্বায়ক এড. জাকির হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নুরুদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা।

 

এবং সদস্য আওলাদ হোসেন, হান্নান সরকার অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, আলমগীর হোসেন, ফারুক হোসেন, শহীদুল ইসলাম রিপন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, আমিনুর ইসলাম মিঠু, মো. ফারুক হোসেন ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু। এদের মধ্যে ১নং যুগ্ম-আহ্বায়ক এড. জাকির হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নুরুদ্দিন দলের কাজের স্বার্থে আহ্বায়ক সাখাওয়াত ও টিপুর সাথে মহানগর বিএনপিতে একাত্মতা প্রকাশ করে।

 

আর বাকি ১৩ জন এখন ও বিদ্রোহী হয়ে তৈমূর ও মুকুলের সাথেই রাজনীতিতে রাজপথে সক্রিয়তা ছিলেন। কিন্তু এবার দলের দূর সময়ে তৈমূর দলত্যাগ করছেন যা নিয়ে নেতাকর্মীরা ও প্রশ্ন তুলছে এবার মহানগর বিএনপির বিদ্রোহীদের কি হবে। এদিকে বিদ্রোহীরা ও তৈমূরের এই কর্মকান্ডে এক মত নয় তারা ও মনে করছে এটা তার ভূল সিদ্ধান্ত।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিদ্রোহী নেতা আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেন, দলে তার কোনো পদ পদবী নাই, অনেকদিন যাবৎ দল তাকে পদায়ন করছে না। সেই রাগে অভিমানে হয়তো নিয়ে কাজটা করছে। তার ধৈর্য ধরার দরকার ছিল, আমরাও তো বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাথে বিদ্রোহিতা করছি এখন আমরা কি দল ছেড়ে পালিয়ে গেছি। দলের সকল কাজের সক্রিয় রয়েছি। কিন্তু হঠাৎ উনি এই সিদ্ধান্ত কেন নিল এটা আমার মাথায় আসছে না। আমি মনে করি এটা তার ভুল সিদ্ধান্ত।

 

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সবুর খান সেন্টু বলেন, আজকের বিভিন্ন পত্রিকার মারফত জানতে পারলাম' "তৃণমূল বিএনপিতে'' নারায়ণগঞ্জের এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের যোগদান। আমরা সকলেই জানি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জীবিত থাকাকালীন আঁতুর ঘরে মৃত তৃণমূল বিএনপি ''সেই সময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে কবর রচনা হয়েছিল। ব্যারিস্টার  নাজমুল হুদা  শাসকদলের প্রধান শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন।

 

বাংলাদেশের জনগণ ভালো করে জানে এই তৃণমূল-বিএনপি বর্তমান শাসক শেখ হাসিনার গদিকে চিরস্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁদের মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এই মুহূর্তে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে যারা" তৃণমূল বিএনপিতে "যোগ দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশে নীল নকশা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তাঁদেরকে বাংলাদেশে রাজনীতির অঙ্গনে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে চিহ্নিত করা হবে।

 

যাঁরা আগামীকাল ১৯ শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ বিএনপি'র কোন নেতাকর্মী "তৃণমূল বিএনপি'র" দলের ঢাকায় '"তৃণমূল বিএনপি'র "সম্মেলনে গোপনে ও প্রকাশ্যে যোগদান করবে তাঁদেরকে চিহ্নিত করে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে বহিষ্কার করারজন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি দপ্তরে আমাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হবে। আমার জানামতে বিএনপি'র কোন নেতাও কর্মী দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তৃণমূলবিএনপি দলে যোগ দিতে পারে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতা কর্মীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের সংগ্রামে আছে ও থাকবে।

 

কোন ব্যক্তির দলত্যাগে কখনোই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট ও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই। আমার জানা মতে অতীতেও যাঁরা দল ত্যাগ করেছে তারা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে যাঁরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাচ্ছে, তাঁদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকাধীন নেতাও কর্মীরা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতিপূর্ণ আস্থাশীল। বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা জনাব তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় আমরা পরিচালিত।

 

আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান। আমরা সকলেই তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতিপূর্ণ আস্থাশীল। তারেক রহমানের আহব্বানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে "আমার ভোট আমি দিবো "এই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। জনতার এক দফা শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি  বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। জেল-জুলুম নির্যাতন করে আমাদেরকে দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের আহ্বানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন ও সংগ্রাম থেকে বিরত রাখা যাবে না। মুক্তি চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

 

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা সকলেরই গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, যার যা ভাল মনে হয় সে তাই করবে। এখানে আমার কোন কিছু বলার নেই, শুধু জাতীয়তাবাদী দলের নগণ্য কর্মী হিসেবে একটু বলতে চাই তৈমূর আলম খন্দকার সাহেব বর্তমানে যেহেতু বহিষ্কৃত আছে। এভাবেই দলের একটা কর্মী হয়ে কাজ করা তার দরকার ছিল। আর তিনি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এটা কতটুকু ভুল আর কতটুকু সঠিক এটা আমার থেকে ভালো উনি বোঝেন। তিনি, আরো বলেন, বর্তমান বিএনপি'র ক্রাইসিস সময়ে উনি যদি কোন পদ পদবী ছাড়াই বিএনপিকে ভালোবেসে বিএনপির সাথে থাকে তাহলে দল উপকৃত হবে।

 

মহানগর বিএনপির সদস্য ফারুক হোসেন এই তৈমুর আলম খন্দকার সাহেব দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপি করছে। বিএনপির মাধ্যমে তার অনেক লাভ হয়েছে লস হয়নি কখনো। এখন তিনি যদি দল ছেড়ে তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করেন এটা তার মস্ত বড় ভূল মনে করি আমি। কারণ যদি সারা বাংলাদেশে তাকে চিনে থাকে বিএনপি নেতা হিসেবেই চিনে। যদি উনি যোগদান দিয়ে ফেলেন আমি মনে করব তিনি মস্তবড় ভূল করছেন।

 

মহানগর বিএনপির সদস্য আওলাদ হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, তৈমূর আলম খন্দকার সাহেব বর্তমানে বিএনপি'র বহিষ্কৃত নেতা, উনি এখন বিএনপি'র কিছু না। এখন উনি যদি দল পরিবর্তন করতে চায় তাহলে তো এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আর এখনো উনি তৃণমূল-বিএনপিতে যোগদান করেন।

 

মহানগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু যুগের চিন্তাকে বলেন, দেড় বছর যাবৎ কোনো পদ পদবীতে নেই তৈমূর আলম খন্দকার সাহেব। বিএনপিও তাকে ডাকে নাই কোন সময় যার কারণে হয়তো উনি মনে করেছে বিএনপিতে তার কোন দরকার নেই। তাই হয়তো তার এই সিদ্ধান্ত আমরা বিএনপি করি, ধানের শীষের সাথেই সকল সময় থাকবো এটাই আমাদের মূল সিদ্ধান্ত। আর এখন উনি বিএনপির বাইরে কি করলো এটা নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যথা নাই। এস.এ/জেসি

এই বিভাগের আরো খবর