সোমবার   ১৪ জুন ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪২৮

নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাটে মাসে লাখ টাকার চাঁদাবাজি

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২১  

শহরের নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ গুদারাঘাটে অস্থায়ী হকার ও অবৈধ দোকানপাটে ভরে গেছে। অবৈধ দোকানপাটে ফের দখল হয়ে আছে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাট। একাধিক বার জেলা  প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে থেকে একাধিক বার অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা  বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে দোকানপাট ও নানা ধরনের স্থাপনা বসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

তথ্যসূত্রে, নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাটে অবৈধভাবে ফুটপাতে দোকানপাট বসিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। যে কারণে বার বার উচ্ছেদের পর পুনরায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান পাট ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠে। নবীগঞ্জ- হাজীগঞ্জ ঘাটে পান, ফলের দোকান, পোশাকের দোকান, বিভিন্ন রকমের অবৈধ প্রায় অর্ধ শতাধিক দোকানপাট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টাকা এবং মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার করে চাঁদা উঠায় স্থানীয় একটি চক্র। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই ঘাট দিয়ে পারাপার হয়। কিন্তু রাস্তার বেশির ভাগ অংশ দখল করে আছে অবৈধ দোকানপাট। এর কারনে রাস্তায় হাঁটার জায়গা অনেকটাই কমে গেছে। এসকল দোকানপাটের কারনে মানুষ গা- লাগিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারন মানুষ।

 

এছাড়াও রাস্তার দুই পাশে অবৈধ ভাবে বসে আছে চা-পান, ফলের দোকান, পোশাকের দোকান, বিভিন্ন খাবারের দোকানসহ নানা ধরনের দোকানের দৌরাত্ম্যের কারণে রাস্তায় চলাচল করতে বিপাকে পড়ছে সাধারন মানুষ। আর কাউ এসব নিয়ে কথা বল্লেই তাকে নাজাহাল হতে হয় এসকল দোকানদার হাতে। কারন, তাদের মদক দিচ্ছে একটি চক্র। একাধিক বার জেলা  প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে থেকে অবৈধ দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদ করা হলো আবারও গড়ে উঠে এসকল দোকনপাট গুলো। এই সকল দোকানপাট থেকে মাসে লাখ টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয় একটি চক্র নামে- বেনামে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে চাঁদা উঠানো হয়। এই টাকার ভাগ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল থেকে শুরু করে সিটি কর্রোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও এই টাকার ভাগ পায় বলে জানা গেছে। জানা যায়, বন্দরের মানুষের সাথে শহরের সেতু বন্ধন তৈরি করতে নবীগঞ্জ- হাজীগঞ্জ দিয়ে চালু করা হয়েছে ফেরি সার্ভিস। আর এত করে এই ঘাটটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়ে থাকে। শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী হওয়ায় গুদারা ঘাটটিকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাফেরার জন্য সৌন্দর্য বর্ধন করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। প্রতিদিন হাজার মানুষ তাদের পরিবার- পরিজন নিয়ে নদীর সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশ উভোগ করতে আসেন।

 

এছাড়াও ঘাটটি রাতের বেলা আরও সৌন্দর্য বর্ধন করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষে থেকে এলএডি লাইট স্থাপনা করা হয়। কিন্ত অবৈধভাবে দোকানপাটে ভরে গেছে ঘাটটি। ফলে নবীগঞ্জ- হাজীগঞ্জ ঘাটের যে সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশ এখন আর খুঁজে পাওয়া যায়। ঘাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্ছেদের পর আবারও দোকান বসাতে হলে স্থানীয় চাদাঁবাজদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে তাদের দোকানপাট বসাতে হয়। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও মাসে মাসে টাকা দিতে হয়। তানাহলে তারা উচ্ছেদ করে দিবে।

 

তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বেশ কয়েক বার  উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পরদিনই আবারও প্রভাবশালী মহল দোকানপাট ও স্থাপনা বসিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা করে দেয়। বিনিময়ে তারা প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টাকা আবার কোন কোন দোকান প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকা দিতে হয়। তা নাহলে বসতে দেয় না। আমরা অনেকটা নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে এই চাঁদা দিতে হয়। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজার মনিটারিং কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে থেকে নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতিদ্রæত এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
 

এই বিভাগের আরো খবর