বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২   আশ্বিন ২০ ১৪২৯

না.গঞ্জে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কেন্দ্রীয় ফুড রেফারেন্স গবেষ

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২২  

দেশের মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নারায়ণগঞ্জে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কেন্দ্রীয় ফুড রেফারেন্স গবেষণাগার। যেখানে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রশিক্ষণ একাডেমিও। এটি বাস্তবায়ন হলে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।গবেষণাগার বাস্তবায়নে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে পাঁচ একর জমির প্রাতিষ্ঠানিক একটি প্লট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। 

 

শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবদুল কাইউম সরকার বলেন, ‘দেশে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কেন্দ্রীয় ফুড রেফারেন্স গবেষণাগার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেখানে প্রশিক্ষণ একাডেমিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এই গবেষণাগারের জন্য পূর্বাচলে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ চেয়ে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি খাদ্য মন্ত্রণালয়কে। জানা গেছে, দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়েছে। তবে, পূরণ করা সম্ভব হয়নি নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা।

 

জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও দূষণমুক্ত নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর এ আইনের অধীনে সরকার ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে। গঠিত হওয়ার পর প্রেষণে নিয়োজিত স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয় এবং বিধি প্রবিধানমালা প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে মূলত এর কার্যক্রম সীমিত থাকে। 

 

বর্তমানে তিন শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি ৬৪ জেলার মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সরকারের রূপকল্প-২০৪১, এসডিজি-২০৩০ ও ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা। এ জন্য দেশে আন্তর্জাতিক মানের খাদ্য পরীক্ষাগার ও ল্যাবরেটরিগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রেডিটেশনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার। এ কারণে উন্নত সুযোগ-সুবিধা, যন্ত্রপাতি ও জনবলসহ বিশ্বমানের একটি কেন্দ্রীয় ফুড টেস্টিং রেফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপন করা জরুরি, যেখানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদর দফতর হবে। পাশাপাশি সব ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। 

 

এ জন্য রাজধানীর নিকটবর্তী উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সংবলিত স্থান প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে খাদ্যপণ্য পরীক্ষার সমস্যা দূর করতে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরিসহ আট বিভাগে গবেষণাগার স্থাপনের নির্দেশ দেন। ওই বছরের ৩১ জুলাই এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপের অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা দেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে পূর্বাচলে পাঁচ একর জমি প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। নিরাপদ খাদ্য র্কর্তৃপক্ষের এই অবকাঠামো উন্নয়নে জাইকা অর্থায়ন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।