রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

নারায়ণগঞ্জের ৬৪ শতাংশ বাসিন্দা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৪  

 


ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর শহরের একজন মানুষও বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটা দূরত্বের মধ্যে গণপরিবহন সেবা পান না। ঢাকায় নগরবাসীর বসবাসের ৩০০ মিটারের মধ্যে নেই কোনো নিরাপদ পরিবহন অবকাঠামো। এ ছাড়া এই তিন শহরের ৬৪ শতাংশ মানুষ মহাসড়কের কারণে দুর্ঘটনাসহ স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

 


তিন শহরের নগর পরিবহনের এমন চিত্র উঠে এসেছে বৈশ্বিক একটি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি বলছে, হাঁটা দূরত্বে নিরাপদ পরিবহনসেবা এ তিন শহরের কেউ পাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর শূন্য। টেকসই গণপরিবহন নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বৈশ্বিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসির এক প্রতিবেদনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের পরিবহনব্যবস্থার এমন দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গত ১২ মে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

 


একটা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের কত শতাংশ নিরাপদ পরিবহন অবকাঠামোর আওতায় আছে, আর সেটা কতটা যাতায়াতবান্ধব, তার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বৈশ্বিক সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বিশ্বের ১ হাজার ৯৫টি শহরের পরিবহনব্যবস্থার মধ্যে শূন্য স্কোর পেয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের যৌথভাবে অবস্থান ৮২৩।

 

 

প্রতিবেশী ভারতের মুম্বাই শহরের অবস্থান ২২৩। কলকাতার অবস্থান ৮১৩। নাগরিকদের জন্য উন্নত ও টেকসই পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এই শহরের স্কোর ৭৯।

 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর নগরবাসীর বসবাসের এলাকার ৩০০ মিটারের মধ্যে নিরাপদ কোনো গণপরিবহন অবকাঠামো নেই। এ ছাড়া এই তিন শহরের ৬৪ শতাংশ মানুষ মহাসড়কের ৫০০ মিটারের মধ্যে বসবাস করেন। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের বসবাসের এলাকায় মোট ৩৭৯ কিলোমিটার মহাসড়ক এ ঝুঁকি তৈরি করছে।

 


গণপরিবহনে উন্নত সেবা দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনে। পাশাপাশি যানজট ও দূষণ কমায়। উন্নত গণপরিবহনকে সাশ্রয়ী করে সেটার সুষ্ঠু তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইনস্টিটিউট অব ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি।

 


এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বৈশ্বিক এ প্রতিবেদন ভয়ানক, তবে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। ২০০৫ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, পুরো শহরে হাঁটা দূরত্বে গণপরিবহন নিশ্চিত করতে বাস সার্ভিসকে সহজলভ্য করা হবে। সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

 


এই অধ্যাপক বলেন, মেট্রোরেলের একটা লাইন চালু হয়েছে। এটা একটা গণপরিবহন। খুব সীমিত সংখ্যক লোক এটা ব্যবহার করেন। পুরো শহরের বাকিরা যে পরিবহন ব্যবহার করেন, সেগুলোর ফিটনেস কতটা আছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ঢাকা নগর পরিবহন এত দুর্বল যে মানসম্মত সার্ভিস দিতে পারছে না। নিরাপদ নগর পরিবহনের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বাড়াতে হবে গণপরিবহনে বিনিয়োগ।     এন. হুসেইন রনী  /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর