মঙ্গলবার   ০৪ অক্টোবর ২০২২   আশ্বিন ১৯ ১৪২৯

নারায়ণগঞ্জ উদীচী’র রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  

 

বন্দীরে দিয়ে গেছ মুক্তির সুধা, তোমাদের স্মরি সত্যের বরমালে সাজালে বসুধা তোমাদের স্মরি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলা সাহিত্যের তিন শক্তিমান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য ত্রঁয়ের জয়ন্তী উদযাপন করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদ। শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের আয়োজনে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের পরীক্ষণ হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী’।

 

নারায়ণগঞ্জ উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মাসুম সেকান্দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ উদীচী’র নৃত্য বিভাগের বন্ধুদের পরিবেশনায় মনোমুদ্ধকর নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। নৃত্য বিভাগের বন্ধু পান্না দে এর নির্দেশনায় কারিমা আহমেদ নম্রতা, আদ্রতা আহমেদ, অর্পিতা বণিক, বিন্দু বিশ্বাস, জুয়েনা বিশ্বাস উপমা, বিদুসী সাহা ও ছোয়া নৃত্য পরিবেশন করে। অত:পর নারায়ণগঞ্জ উদীচীর আবৃত্তি বিভাগের বন্ধুদের পরিবেশনায় তিন মহান কবির উপর নারায়ণগঞ্জ উদীচীর সহ-সভাপতি ডলি বণিক এর পরিচালনায় গুচ্ছ আবৃত্তি উপস্থাপন করা হয়। গুচ্ছ আবৃত্তিতে অংশ গ্রহণ করেন আবৃত্তি বিভাগের বন্ধু- চঞ্চলা গুহ, তাসমিয়া, কৃপা সাহা, বিশাল সরকার, তন্ময় দাস তুর্য, অরিত্র সাহা, নাফিজ আহমেদ।

 

অন্তে নারায়ণগঞ্জ উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বাংলা সাহিত্যের তিন মহিরুহ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্য ত্রঁয়ের আদর্শ ও দর্শনের উপর দীর্ঘ বিস্তর আলোচনা করেন।

 

আলোচনার পর শুরু হয় সংগীত বিভাগের দলীয় সংগীত পরিবেশনা। এ পর্বের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না, দু বেলা মরার আগে মরব না, গানটি দিয়ে দলীয় সংগীত শুরু হয়। তারপর রবীন্দ্র সংগীত ‘ সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান, সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রয়িমাণ’, একে একে নজরুল সংগীত- ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম, মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল, মোরা বিধাতার মত নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মত সচ্ছল’ ও ‘কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট’ এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের- ‘হে সাথী, আজকে স্বপ্নের দিন গোনা ব্যর্থ নয় তো, বিপুল সম্ভাবনা দিকে দিকে উদ্যাপন করছে লগ্ন’ ও ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে, সে কোলাহলে রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে, পৃথিবী সূর্য-তপস্যাতেই মগ্ন’ গান সমূহ পরিবেশন করা হয়।

 

দলীয় সংগীতে অংশ গ্রহণ করে- ফাল্গুনী রাখী, ঝুমা সাহা, মনিষা পিউ, প্রিয়ন্তী আমীন, সাথী, বিশাল সরকার, মৃদুল, তন্ময় দাস তুর্য, অরিত্র সাহা, নাফিজ আহমেদ, জুলহাস সরকার ও মাসুম সেকান্দার। ছিল একক আবৃত্তি ও একক গান পরিবেশন। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন- ডলি বণিক ও ভবানী শংকর রায় এবং একক সংগীত পরিবেশন করেন- ঝুমা সাহা, মনিষা পিউ ও প্রিয়ন্তী আমীন। সবশেষে সাধারণ সম্পাদক মাসুম সেকান্দার আগত সম্মানিত সকল অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে ‘রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী’ অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।