মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

‘নারী শক্তির উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে’

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৪  


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প ‘জাতীয় নগর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মসূচি’ নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল  সোমবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ‘শহর পর্যায়ে উত্তম চর্চা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালার’ আয়োজন করা হয়।

 


এই সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, মিনোয়ারা বেগম, প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা কেএম ফরিদুল মিরাজ, প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক ও পুষ্টি এক্সপার্ট শাহনাজ বেগম প্রমুখ।

 


প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এর অর্থায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্যবস্থাপনা ও ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় গত ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্রকল্প নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে চলমান রয়েছে।

 

 

সোমবার অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় এই প্রকল্পের কিছু কার্যক্রম টেকসই রাখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সার্বিক ফেইজআউট পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা হয়। এই সময় এই প্রকল্পের মাধ্যমে সফলতা পাওয়া নারীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এই প্রকল্পের সহযোগিতায় সাবলম্বী নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘এই প্রকল্পের একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগ বেড়েছে, নারীরা একত্রিত হয়ে কোনো কাজ করতে পারছেন। কেউ যখন নিজে থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের খরচ ও সন্তানদের খরচ নির্বাহ করতে পারেন, এই অর্থনৈতিক শক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। নিজে সাবলম্বী হয়েছেন এবং অন্যকে পথ দেখাতে পেরেছেন, এমন নারীদের অভিজ্ঞতাই বলে দিচ্ছে এই প্রকল্পের সফলতা। আগামীতেও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।’

 


তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, নারীশক্তির জাগরণ ঘটবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বাংলাদেশে যেভাবে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছে; এটি সত্যি অভাবনীয়। এটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের মধ্যে যে সূচক আছে তাতে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই ভালো। এই ধরনের অনেক ছোট ছোট প্রকল্প চলমান আছে যা নারীশক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নারী শক্তির উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

 


কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রন্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আমাদের আরও কাজ করে যেতে হবে। কিছু চ্যালেঞ্জ আমাদের রয়েছে, সেসব উতরে গিয়ে কাজ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন এক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

 


তিনি বলেন, ‘বিদায়ের একটা কষ্ট থাকে কিন্তু এরমধ্যে নতুন শুরুর স্পৃহা তৈরি করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাউন্সিলরদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।’

 


নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। সব দায়িত্ব কিন্তু সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের নয়, নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা বজায় রেখে সমাজের জন্য কাজ করতে হবে। নিজে ভালো কাজ করবো এবং অন্যকেও এই কাজে উদ্বুদ্ধ করবো।’    এন. হুসেইন রনী  /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর