পাগলা-তালতলা রডের দোকানগুলোতে নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদ
সাদ্দাম হোসেন শুভ
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৮ পিএম
দেশের বৃহত্তম পাইকারি রড সিমেন্টের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের পাগলা-তালতলা ও মুন্সিখোলা। আর সেখানেই দীর্ঘদিন যাবত চলছে মানুষের সাথে বিশাল এক প্রতারণা। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আশা রড ক্রেতাদের মাপে ঠকিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছেন একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
তাদের সাথে জড়িত রয়েছে, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং বিশেষ পেশার ব্যক্তিরা। প্রতিনিয়ত মাসোহারা নিচ্ছেন তারা। সেই সুযোগেই দীর্ঘদিন যাবত চালিয়ে যাচ্ছেন এমন প্রতারণা। সেইসব দোকান থেকে এক টন রড কিনে অন্য কোথাও স্কেল করলে পাওয়া যায় ৭-৮'শ কেজি। এমন প্রতারণার বিষয়টি ক্রেতারা বুঝতেই পারে না। একটি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত সু-কৌশলে এই প্রতারণাটি করা হয় বলেও জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, মুন্সিখোলা ও তালতলা এলাকায় রড-সিমেন্টের দুই শতাধিক পাইকারি দোকান রয়েছে। তার মধ্যে পাগলা মুন্সিখোলা-তালতলার দোহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স বন্দর স্টীল হাউজ, মেসার্স কুমিল্লা স্টীল হাউজ, মেসার্স যমুনা এন্টারপ্রাইজ, মীরু এন্টারপ্রাইজ নামীয় দোকানগুলোতে মাপে কম দিয়ে গ্রাহকদের সাথে এমন চাঞ্চল্যকর প্রতারণা করে আসছে। এসব দোকান থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, উত্তরবঙ্গ, নর্থবেঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতারা রড-সিমেন্ট নিয়ে থাকেন। ক্রেতারাও জানেন না তাদের প্রতারণার ফাঁদের কথা।
অনেক ব্যবসায়ীরা আবার মনে করছেন, এইসব দোকানগুলোর কারণে পাগলা মুন্সিখোলা-তালতলা ব্যবসায়ীদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তাদের কারণে এখন ক্রেতারা আসতে চায়না। বেচাকেনায় চরম মন্দা নেমে এসেছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসানগুণতে হচ্ছে অনেক ব্যবসায়ীদের।
সূত্রে জানা যায়, পাগলা তালতলা এলাকায় এইসব রডের দোকানের সাথে জড়িত রয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের সিন্ডিকেটে প্রায় কয়েক শতাধিক ব্যক্তি কাজ করে। দোকান গুলোতে রড বিক্রি হলেই ধাপে ধাপে দিতে হয় টাকা। প্রথম ধাপে দিতে হয়, যে দালাল ক্রেতাদের কাছে রড বিক্রি করেছে। দ্বিতীয় ধাপে রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসন এবং বিশেষ পেশার কর্তা ব্যক্তিদেরকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাগলা মুন্সিখোলা-তালতলা এলাকায় এইসব দোকান থেকে টন প্রতি ২ হাজার টাকা নেন কুতুবপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরু এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা। প্রশাসন ও বিশেষ পেশার ব্যক্তিরাও নেন মাসোহারা। তাদের রয়েছে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদেরকেও দিতে হয় এই অবৈধ টাকা।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না। তাদের সিন্ডিকেট অনেক বড়। তারা দালালদের মাধ্যমে ক্রেতাদের কম দামে রড বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। তারপর তাদের রড মাপে কম দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে থানা পুলিশও জানে। সাংবাদিকরা প্রায় সময় আসে এখান থেকে মাসোহারা নিয়ে যায়। এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক একটি চক্র এই রড বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে। যারা মানুষের সাথে দীর্ঘদিন যাবত যাদের যোগসাজশে প্রতারণা করে যাচ্ছে, আমি তাদের সঠিক বিচার দাবি জানাচ্ছি।


