শনিবার   ২৮ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

প্রাথমিকের চেয়ে মাধ্যমিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২২  

 

# পড়াশুনায় মনোযোগ হারানো শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে
# ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে

 

করোনার মহামারিতে প্রায় দুই বছর সারাদেশের ন্যায় নারাণগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ ছিল। কিন্ত দীর্ঘ দিন বন্ধ কাটিয়ে এবার প্রতিষ্ঠান গুলো ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় আছে। তবে কতটুকু কাটিয়ে উঠতে পারবে তা শিক্ষাবিদরা বলতে পারবে। এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধের পর প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র ছাত্রীরা ফিরতে শুরু করেছে।

 

ইতিমধ্যে স্কুলে ফেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের চেয়ে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে। এছাড়া ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী উপস্থিতি বেড়েছে। কিন্তু তার মাঝে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বেশি কমেছে।‘নিরাপদ ইশকুলে ফিরি’ ক্যাম্পেইনের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ বিরতির পর স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসিক সুস্থতা পর্যবেক্ষণ করতে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

\
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৪৭ টি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১৩ সালে জাতীয়করণের পূর্বে ছিল ৪২৫ টি। বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে ১৩ টি। এছাড়া নতুন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১১ টি।

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক সংখ্যা ৪০৫০ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি তথ্য: ২০২০ সনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ২২৩ জন। তার মাঝে ২০২০ সনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫০ জন। ২০২০ সনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ৯৯.৯৫%।


জেলার শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগের মত মনোযোগ নেই। তাদেরকে পড়ায় এবং পাঠদানে মনোযোগী করে তুলতে হবে। এছারা দেখা গেছে শহর থেকে শুরু করে জেলার উপজেলা ইউনিয়নের বিদ্যালয় গুলোতে প্রাথমিকের চেয়ে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। তবে কি কারনে উপস্থিতি কমেছে তা আন্তাজ করলেও স্পষ্ট হতে পারছে না শিক্ষাবিদরা।


এক প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিত থাকার প্রাথমিক কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, বাল্যবিবাহ, পরিবারের অন্য এলাকায় স্থানান্তর, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অনাগ্রহ ইত্যাদি। গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে স্কুলে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ও।

 

সমীক্ষায় দেখা যায়, যে ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে মাস্ক পরে ও সামগ্রিকভাবে ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমীক্ষা চলাকালীন তিন সপ্তাহে স্কুলগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী অনুপুস্থিত ছিল। মেয়ে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল ১৪ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মাধ্যমিক স্তরে অনুপস্থিত ছিল ৩৪ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থী ও ২৮ শতাংশ থেকে ৪১ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী।


সমীক্ষা অনুসারে জানাযায়, শিক্ষার্থীরা লকডাউনের সময় খিটখিটে মেজাজ, একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ অনুভব করতো। যার কারণ হিসেবে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন- আর্থিক সংকট, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগ, পরিবারে সমস্যা বৃদ্ধি, অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত না হতে পারা ও পাঠ বোঝার অসুবিধার কথা উঠে আসছে।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার পরে যদিও এই সমস্যাগুলো হ্রাস পেয়েছে। তবে দেখা দিয়েছে কিছু নতুন সমস্যা। তার মাঝে  শেখায় অনাগ্রহ, পাঠ বুঝতে অসুবিধা ও অন্যদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারার চ্যালেঞ্জ। গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে স্কুলে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ও। সমীক্ষায় দেখা যায়, যে ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে মাস্ক পরে ও সামগ্রিকভাবে ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি রহিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোনকল কেটে দেন।শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন উদ্বোধনে এসে এক সভায় বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হবে।

 

যারা বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে একদম তৃণমূলে গিয়ে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা অবশ্যই পূরণ করা সম্ভব।

এই বিভাগের আরো খবর