শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

বন্দরে ওসমান পরিবারের চোখ চেয়ারম্যান-কাউন্সিলরে

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

# এবার পরিবর্তনের জোর পরিকল্পনা চলছে নীরবে-নিভৃতে


# বেশিরভাগ চেয়ারম্যানদের পুনরায় দেখতে চাননা স্থানীয়রা

 

# আওয়ামী লীগের ত্যাগীরা সুযোগ চান
 

 

ওসমান পরিবারের থাবা থেকে বের হতে পারছেই না জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বন্দরের আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটির ক্ষমতার এক যুগ পার হলেও বন্দরে এখনো গড়ে তুলতে পারেনি শক্ত কোন ভীত। ফলে দেশের অন্যান্য যেকোন উপজেলার তুলনায় এখানকার আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে। ওসমান পরিবারের প্রভাশালী সদস্য একেএম সেলিম ওসমান স্থানীয় সংসদ সদস্য হওয়ায় এবং তিনি জাতীয়পার্টি সমর্থিত হওয়ায় ওসমান পরিবার ও জাতীয়পার্টির ছায়ায় হারিয়ে গেছে এখানকার আওয়ামী লীগ। আর সে সুযোগে এখানকার হাইব্রীড, কাউয়া কিংবা সুবিধাবাদির সংখ্যা অন্যান্য যেকোন জায়গার তুলনায় অনেক বেশী।

 

তাই এক যুগ দল ক্ষমতায় থাকার পরও এখানকার নেতৃত্বের আলো জ্বালাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এখানকার সকল নেতাকর্মীদের তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয় ওসমান পরিবারের সদয় দৃষ্টির। আর তাদের যারা যত বেশী তোষামোদ করতে পারবে তারাই তত সহজে সেই দৃষ্টি লাভ করতে পারবে। এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বছরের পর আওয়ামী লীগের যেসব ত্যাগী, নিঃস্বার্থ নেতাকর্মী নিরবে নিভৃতে দলের জন্য কাজ করে গেছে, ওসমান পরিবারের লেজুর বৃত্তি করতে পারেনি বলে আজ তারা তিরস্কৃত হচ্ছে।  


 
শহরের মধ্যে ওসমান পরিবারের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও বন্দরে ঠিক তার উল্টো। সেখানকার একাধিক নেতাকর্মী তাদের নাম না বলার শর্তে জানান, আমাদের নেত্রী দেশের উন্নয়নে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণের সাথে এখানকার তৃণমূল আওয়ামী লীগের সে সম্পর্ক তৈরী হয়েছে তাতে এসময় এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করা কোন সমস্যাই না। তাহলে সমস্যাটা কোথায় জানতে চাইলে তারা জানায়, এখানে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো লোক কে আছে। ওসমান পরিবারের টাকা আছে প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে।

 

তাছাড়া বন্দর আওয়ামী লীগের যিনি প্রধান অর্থাৎ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলের কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকতে পারলেও ওসমান পরিবারের কোন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি কোন অবস্থায়ই মিস হয় না। ওসমান পরিবার কোন দল থেকে প্রার্থী দিবে সেটা তার কাছে কোন বিষয় না। কিন্তু ওসমান পরিবারের ইচ্ছা তার কাছে ঐশ্বরিক বানীর মতো কাজ করে। যেখানে ওসমান পরিবার আছে, সাংসদ আছে, উপজেলা সভাপতি আছে, সেখানে প্রশাসন তাদের পক্ষে থাকতে বাধ্য হবে। আমরা আওয়ামী লীগ করলে কি হবে, এতগুলো শক্তির বিরুদ্ধে দাড়িয়ে নির্বাচন করা আমাদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব হবে?


 
বন্দরের একাধিক সূত্র জানায়, বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন, বন্দর ইউনিয়ন ও মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের হাওয়া বওয়ার শুরু থেকেই এবার যেভাবেই হোক এসব ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য একটা প্রস্তুতি ছিল। সূত্র আরো জানায় দেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগের যে জনপ্রিয়তা আছে, স্থানীয় জনগণের কাছে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের যে ধরণে ইমেজ আছে, তাতে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকলে এসব এলাকায় জাতীয়পার্টি বা কিংবা অন্যদলের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না বলে অনেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

এর মধ্যে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বিএ, মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, ধামগড় আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ ভূইয়া, মদনপুর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রুহুল আমিন ও আব্দুল আজিজসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতার নামই শোনা যাচ্ছিল। এ ছাড়াও এলাকার তৃণমূলের অনেক নেতাই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।


 
কিন্তু ইতিপূর্বে বন্দরের বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানদেরই পুনরায় নির্বাচিত করতে চান। বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানগণ যে উন্নয়নের কাজ করেছেন সারা দেশের কেউই নাকি সেরকম উন্নয়নের কাজ করেননি বলে শনিবার বন্দরে সরকারী কদমরসুল কলেজে একটি ভবন উদ্বোধনের সময় সাংসদ বলেছেন। কিন্তু স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবী, এই পাঁচ বছরে স্থানীয় চেয়াম্যনরা কি উন্নয়ন করেছেন তার প্রকৃত চিত্রই সাংসদ জানেন না। বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়নের আওতাভূক্ত রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই নাজুক যে সাংসদ সেখানে না গিয়েই তাদের সার্টিফিকেট দিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক যে উন্নয়ন এর বাইরে এখানকার চেয়ারম্যানরা কোন উন্নয়নতো করেইনি বরং অবৈধ ইটভাটার ব্যবসা, অবৈধ ভরাট বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধান্দার মাধ্যমে তারা নিজেদের আখের ঘুছিয়েছেন বলে একটু নজর দিলে বুঝা যাবে বলে তারা মনে করেন।

 

এমনকি কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের টাকা আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। যার দায় সেসব এলাকার চেয়ারম্যানরাও এড়াতে পারে না বলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, সাংসদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্দরে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন, যা তার মহানুভবতার স্বাক্ষর। এখন তিনি তার এই মহানুভুবতাকে যদি স্থানীয় চেয়ারম্যানদের উন্নয়ন বলে থাকে তাহলে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু এর বাইরে চেয়ারম্যানরা চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়নই করেনি।
 



 

এই বিভাগের আরো খবর