শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

বর্ষায় শীতলক্ষ্যা ফিরে পেয়েছে তার যৌবন

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২১  

চলছে বর্ষকাল। সাধারণ নদীর মতো শীতলক্ষ্যাও ফিরে পেয়েছে তার যৌবন। পানিও ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে এই নদীর পানি। নগরীর নিম্ন আয়ের বেশিরভাগ মানুষ নদীর পানিতেই গোসল করছেন। অথচ বছরের অন্য সময় এ পানিতে কেউ পা রাখতেও চায় না। শীতলক্ষ্যা দূষণের অন্যতম কারণ শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি ও শহরের ড্রেনের সমস্ত ময়লা আবর্জনাময় বিষাক্ত পানি মিশে যায় এ নদীর পানিতে।

 

ফলে শীতলক্ষ্যার পানি হয়ে ওঠে  প্রাণঘাতী। সারা বছর শিল্প- কলকারখানা ও ডাইংকের রং মেশানো বিষাক্ত বর্জ্য পানি শোষণ করে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নিজেই হয়ে পড়েছে বিশাল এক বিষাক্ত জলাধার। বছরের পুরো সময়ই শীতলক্ষ্যার পানির রঙ থাকে কালো ও দুর্গন্ধময়। পানির বিষাক্ত গন্ধে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এর কারণে নদীরপাড়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে বর্ষাকাল এলে শীতলক্ষ্যার তার পূর্ব রুপ অর্থাৎ পরিপূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। বর্ষাকাল এলেই নদীটি ফিরে পায় প্রাণ। পরিষ্কার পানিতে থইথই করে নদীর পানি।


 
সরেজমিনে নগরীর পাঁচ নং ঘাট হতে নিতাইগঞ্জ কেরাসিন ঘাট পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘেঁষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণ করা ওয়াকওয়েতে দেখা গেছে, নদীর বেঁড়িবাধে বসে মানুষ আড্ডা দিচ্ছেন। সবাই যেন মুগ্ধ চোখে শীতলক্ষ্যার পূর্ণ যৌবন অবলোকন করছেন। বর্ষাকাল এলেই শীতলক্ষ্যা সারা বছরের চিরচেনা রূপ পাল্টে যায়। শীতলক্ষ্যা পরিষ্কার পানি ছাড়া যেন এর আশপাশের মানুষের জীবন চলেই না। নিম্ন আয়ের মানুষেরা শীতলক্ষ্যা জলেই দৈনন্দিন স্নান করতেও দেখা যায়। নদীর পরিষ্কার টলমলে পানির সঙ্গে একদল কিশোর ঢেউয়ের তালে তালে খেলা করছে। কেউ কেউ আবার গোসল শেষে বাসার জন্য পাত্র করে পানি নিয়ে যাইতাছে।

 


শহরের সেন্টাল ঘাটের পাশেই শীতলক্ষ্যা পানিতে গোসল করছে বৃদ্ধা আজাদ, তিনি র‌্যালি বাগানে বসবাস করে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, নদীর পানিতে গোসল না করলে সাধ মিটে না। সাঁতার কাটতে ভালো লাগে। প্রায় ত্রিশ বছর আগে থেকে নদী গোসল করে আসছি। এখন করছি, মাঝে মাঝে শরীরটা ভালো না লাগলে বাসায় করি। আর নদীতে গোসল না করতে পারলে মনে শান্তি লাগে না। বর্ষাকাল এখন তো নদীর পানি খুবই পরিস্কার দেখতে ভাল লাখছে। বর্ষাশেষে পানি আবার কালো ও দুর্গন্ধময় হয়ে যাবে। তখন আবারও ওই পানিতেই গোসল করবো। কিছু তো আর বলার নাই।

 

শীতলক্ষা পাশে বসবাসকারী আশরাফ আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, শীতলক্ষ্যার কথা ভাবলে খারাপ লাগে।  ছোটবেলায় এ নদীতে কত সাঁতার কেটেছি। গরমের সময় তো সাঁতার কেটেই দিন গেছে। আর এখন গরমকালে শীতলক্ষ্যা দুর্গন্ধযুক্ত পানির জন্য আশপাশের লোকজনের থাকা দায় হয়ে পড়েছে। তবে বর্ষাকাল এলেই নদীটি ফিরে পায় হারানো যৌবন। নদীর পাড়ে বিকেলে হাঁটতে আসা সোহেল নামে এক যুবক বলেন, সারা বছর দূষিত বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে শীতলক্ষ্যা সয়লাব থাকে। সেই সঙ্গে পানি থাকে দুর্গন্ধ।খুব দরকার না পড়লে নদীর আশেপাশ দিয়ে কেউ যাতায়াত করতে চায় না। তবে বর্ষাকালে এলে শীতলক্ষ্যার চিরচেনা রূপ বদলে যায়। পরিষ্কার পানিতে টলটল করে নদী। এ পানি দেখার জন্যই প্রতিদিন অনেকেই আসেন নদীর পাড়ে।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে একটু উত্তরে গেলেই চোখের পড়বে একের পর এক ড্রেনের মুখ; যেগুলো শহর ও শহরতলীর ড্রেনগুলোর সাথে যুক্ত। শহরের নিমতলা ও খানপুর বরফকল মাঠ এলাকায় দিয়ে বর্জ্য পানি শীতলক্ষ্যা প্রবেশ করছে। এছাড়াও নদীরপাড় ঘেঁসে গড়ে ওঠা শিল্প-কলকারখানা ও ডাইংকের রং মেশানো বিষাক্ত বর্জ্য পানি পাইপ যোগে ফেলা হচ্ছে সরাসরি শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসকল দূষিত পানি নদীতে মিশলেও বর্ষার কারণে ময়লা পানি চোখেও পড়ছে না।

এই বিভাগের আরো খবর