বুধবার   ১২ মে ২০২১   বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

বাদল-শওকতের উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে নিজাম

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২১  

ফতুল্লায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম। থানা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, অনেকদিন ধরেই চলছে এই আধিপত্য বিস্তারের খেলা।

 

প্রথম দিকে সাইফউল্লাহ বাদল শাহ নিজামকে খুব একটা পাত্তা না দিলেও এখন তিনি বাধ্য হয়ে সবই মেনে নিয়েছেন। এছাড়া আরো আগেই মেনে নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীও। তাই এখন শাহ নিজামের হাতেই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু নিজামের এই প্রভাব মেনে নিতে পারছেন না ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী।কিন্তু সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভয়ে তারা প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। কেনোনা নিজামকে এখন এতোটাই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যে,তার কমান্ড না মানলে আওয়ামী লীগে টিকে থাকাই দায় বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা।

 

তারা আরো জানান, সম্প্রতি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে এই কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই হলেন শাহ নিজামের পছন্দের লোক। আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগে থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনও হয়েছিলো শাহ নিজামের নর্ম পার্কে। ফলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলির নেতাকর্মীদের মতে সাম্প্রতিক সময়ে এসে নর্ম পার্ক থেকেই পরিচালিত হচ্ছে থানা আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম। এতে সাইফউল্লাহ বাদল এবং শওকত আলী পরিণত হয়েছেন প্রতিকী নেতায়, আর শাহ নিজাম পরিণত হয়েছেন আসল নেতায়। যার ফলে বিভিন্ন কমিটির পদ পদবী পেতে এখন মাঠ পর্যায়ের নেতারা ধর্না দিচ্ছেন শাহ নিজামের কাছে।তারা বাদল ও শওকতের কাছে কম যাচ্ছেন। তবে সাইফউল্লাহ বাদল তার নিজের ইউনিয়ন কাশীপুরে কিছুটা নিয়ন্ত্রন বজায় রেখেছেন। কিন্তু শওকত আলী সেটাও পারছেন না। বক্তাবলীর নেতারা বেশিরভাগই শওকত আলীকে উপেক্ষা করে নিজামের কাছেই ধর্না দিচ্ছেন। মূলত: এভাবেই এখন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম হয়ে উঠেছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সব কিছুরই মূল অধিকর্তা। যদিও তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কেউ নন। তার রাজনৈতিক অধিক্ষেত্র হলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর। কিন্তু মহানগরের কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায় না

 


এদিকে নেতাকর্মীরা আরো জানিয়েছেন, ফতুল্লা থানার পাঁচটি ইউনিয়নে সামাজিক বিচার আচারেও শাহ নিজামকে নাক গলাতে দেখা যাচ্ছে। যদিও কোনো কোনো বিচারে সাইফউল্লাহ বাদল এবং শওকত আলীও উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু বিচারের রায় ঘোষনা হচ্ছে নিজামের ইচ্ছা অনুযায়ী। সেই বক্তাবলী থেকে কুতুবপুর পর্যন্ত সামাজিক বিচারে নিজাম একটি প্রভাব বলয় সৃষ্টি করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের নেতারা। তারা জানান অনেক বিচার নর্ম পার্কে নিয়ে করা হয়। সেখানে নিজাম যার পক্ষে থাকেন তারপক্ষেই যায় বিচারের রায়। তবে তিনি ন্যায় বিচার করেন কিনা সেটা জানেন তিনি নিজে। বিচার শেষে কারোই কিছু বলার থাকে না। বলার সাহসও থাকে না।

 


তবে অপর একটি সূত্র জানায়, সাইফউল্লাহ বাদল এবং শওকত আলী অসুস্থ্য হওয়ায় সুযোগ নিচ্ছেন শাহ নিজাম। তারা এখন আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না।এরই মাঝে সাইফউল্লাহ বাদল ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর শওকত আলী একবার ওপেনহার্ট সার্জারি এবং একবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিউতে ছিলেন। তবে তারা এখন পুরোপুরি সুস্থ্যও নন।কিছুটা অসুস্থ্যতা আর পরিবেশ পরিস্থিতির কারনেই তারা ব্যাক ফুটে রয়েছেন। সুযোগ নিচ্ছেন শাহ নিজাম।এখন তিনি ফতুল্লায় একাধিপত্য বিস্তারের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা সফল ও হয়েছেন। যদিও মাঠপর্যায়ের অনেক নেতা তার এই আধিপত্য মানতে রাজী নন। কিন্তু তাদের কোনো উপায়ও নেই। কারন শাহনিজামকে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রন কর্তা বানানোর পেছনে রয়েছে খোদ সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের হাত। ফলে নিজামের মতের বাহিরে গিয়ে কেউ কিছু বলার সাহসও দেখাচ্ছেন না। যদিও এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে অনেকের মনে।

 

তারা বলেন নিজাম হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের নেতা। তাই তাকে প্রয়োজনে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হোক। কেনো না ফতুল্লায় আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো নেতার কোনো অভাব নেই। এখানে তরুন প্রজন্মের এমন অনেকেই রয়েছেন যারা নাকি বিগত দিনে বেশ বলিষ্ঠভাবেই সাইফউল্লাহ বাদল ও শওকত চেয়ারম্যানের সাথে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তারা শাহনিজামের এই ছড়ি ঘোরানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলে জানা গেছে। কিন্তু তারা সংসদ সদস্যের ভয়ে কিছু বলতেও পারছেন না।
 

এই বিভাগের আরো খবর