রোববার   ২১ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

বয়কটের মুখে মাকসুদ চেয়ারম্যান

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৪  

 

 

রীতিমতো বয়কটের মুখে পরেছেন বন্দর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। জয়লাভ ও শপথের পর প্রথমবারের মতো বন্দর উপজেলা পরিষদের আয়োজিত উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় মাকসুদ হোসেন যোগদান করলেও সেদিন অনুপস্থিত ছিলেন উপজেলাধীন সবক’টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।

 

যদিও অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা বলছেন, শুধুমাত্র ব্যস্ততার কারণেই সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি তারা। তবে আলোচিত এ বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেমনভাবে ইসরায়েলী পণ্য হওয়ার কারণে সম্প্রতি বয়কটের মুখে পরেছে কোকাকোলা ঠিক তেমনিভাবেই ‘কুখ্যাত রাজাকারপুত্র’ হওয়ার কারণেই তাকে বয়কট করেছেন বন্দর উপজেলাধীন সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্দর উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের প্রথম সভা বয়কট করেছেন বন্দর উপজেলাধীন সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। গত ১০ জুন শপথ নেওয়ার পর চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় প্রথমবারের মতো যোগদান করেন চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। এরআগে, বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের প্রাঙ্গনে শোডাউন দিয়ে সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় যোগদান করেন তিনি।

 

উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণ হিসেবে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, সত্যি বলতে আমি মূলত ব্যস্ততার কারণে সেখানে উপস্থিত হতে পারিনি। ওইদিন আমি এমনিতেও সেখানে যেতাম না। আর অন্য কোন কারণ নেই। ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, আমার কিছু জরুরী কাজ ছিল। ঠিক সে কারণেই আমি ওই সভায় উপস্থিত থাকতে পারিনি।

 

এদিকে, মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধানের। অপরদিকে, একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম। ফলে, তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বন্দর উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপজেলা পরিষদের সভায় অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে ব্যস্ততার কথা বললেও আদৌতে তারা সেখানে উপস্থিত হননি ভিন্ন কারণে। অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় যে কারণ তা হলো; মাকসুদ হোসেন রাজাকারপুত্র। তার সাথে একই টেবিলে বসে কোনভাবেই সভা পরিচালনা করলে ব্যপক সমালোচনা হওয়ার সুযোগ তৈরী হবে।

 

 মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯টি গ্রাম জ্বালিয়ে কমপক্ষে ১৫ জন বাঙালিকে জবাই করে হত্যা করেছিল চেয়ারম্যান মাকসুদের বাবা কুখ্যাত রাজাকার রফিক হোসেন ও তার তিন ভাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শাসনামলে দালাল আইনে রাজাকার রফিকসহ তার ১৮ জন দোসরের যাবজ্জীবন সাজা হলেও খুনি খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা দখলের পর তাদের সাজা মাফ করেছিল। সেই কুখ্যাত রাজাকার পুত্রের এমন রাজস্বিক আগমন মেনে নিতে না পারার কারণেই হয়তো তারা সেই সভায় উপস্থিত হননি। ব্যস্ততার কথা বলে আপাতত তারা বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে গেলেও আগামী সভাগুলোতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উপস্থিত হন কি না এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এই বিভাগের আরো খবর