রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

ভিক্টোরিয়ায় আট মাসে ৩০৭ ময়নাতদন্ত

ইফতি মাহমুদ

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২২  

 

# ৩৩৮ ধর্ষিতার আলামত সংগ্রহ
# লাশ সংরক্ষণের জন্য মরচুয়ারি কুলার সংযোজন : আরএমও   

 

নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেড়েছে বীভৎস, বিকৃত, রোমহর্ষক খুনের পাশাপাশি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা। এসকল ঘটনাগুলো উদঘাটিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করা হয় এবং ধর্ষিতার আলামত সংগ্রহ করে ধর্ষণের মূল ঘটনা উদঘাটিত হয়।

 


ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত খুন-ধর্ষণ আত্মহত্যা সড়কে মৃত্যুসহ বিভিন্ন ঘটনায় মারা যাওয়া ৩০৭ জনের মৃত্যের কারণ ময়নাতদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন হয় এবং ধর্ষণের ঘটনায় ৩৩৮ জন ধর্ষিতার আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদান করা হয়।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানা, ফতুল্লা থানা, বন্দর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, আড়াইহাজার থানা, সোনারগাঁ থানা, রূপগঞ্জ থানাসহ প্রতিটি থানার খুন, ধর্ষণ আত্নহত্যাসহ এসব ঘটনার শিকার সকল ভুক্তভোগীদের এই হাসপাতাল থেকেই মৃত্যু ও ধর্ষণের সঠিক ঘটনা উম্মোচিত হয়। একটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে প্রায়ই ঘটছে এমন ঘটনা।

 

আর এসব ঘটনাগুলো উদঘাটনের জন্য সারা বছরই কাজ করে যাচ্ছে মর্গে থাকা  ডোম এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ল্যাবে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকার কারণে ঘটনার মূল রহস্য বেড়িয়ে আসছে। আরও জানা যায়, হত্যা, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনার মতো যেকোনো অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম বা ময়না তদন্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমেই পুলিশ একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। অর্থাৎ মৃতদেহ কী অবস্থায় পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

 

এরপর মৃত্যু সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য ময়না তদন্ত করতে মর্গে পাঠানো হয়। ধর্ষণের ক্ষেত্রে যদি কোন ব্যক্তি ধর্ষিত হয় প্রথমে সেই এলাকার থানাকে অবহিত করতে হবে। কেননা স্থানীয় থানায় জিডি বা মামলা করতে হয়। থানা থেকে একজন পুলিশের ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে প্রোপার রিকুজিশন নিয়ে ফরেনসিক বিভাগে আসতে হয়। সেই সাথে ভিকটিমের ছবি ও স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়।

 

এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া  হাসপাতালের আরএমও ডা. এস কে ফরহাদ সাথে কথা হলে তিনি জানায়, আমাদের মর্গে তেমন কোন সমস্যা নেই এখন তবে নারায়ণগঞ্জ বাসীর জন্য একটি সুখবর আছে আমাদের হাসপাতালের মর্গে নতুন একটি মেশিন সংযোজন করা হচ্ছে  সে মেশিনটি হল মরচুয়ারি কুলার এই মেশিনটির মাধ্যমে ফ্রেশ ডেড বডিগুলো সংরক্ষণ করতে পারব।

 

অনেক সময় দেখা যায়, মর্গে আসা সবগুলো ডেড বডি একদিনে সবগুলো ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয় না ফ্রেশ ডেড বডিগুলো পড়ে থাকত এখন মরচুয়ারি কুলার সংযোজন করার কারণে ডেড বডিগুলো সেখানে রেখে যেকোন সময় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা মরচুয়ারি কুলার সংযোজন করব। ডোম থেকে শুরু করে সরঞ্জামসহ কোন কিছুর আমাদের এখন ঘাটতি নেই অত্যান্ত দক্ষ ডোমও চিকিৎসকদের দ্বারা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে।

 


তিনি আরও জানায়, ধর্ষণের শিকার যারা ভিকটিম তারা যদি অসুস্থ অবস্থায় থাকে তাদেরকে গাইনোলজী ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। এখানে যদি একটি ফরেনসিক বিভাগ থাকত তাহলে এই ধরণের ভিকটিম যারা আছে তাদের ভাল সেবা দেয়া যেত। এখন আমরা কমিটি করে বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার নিয়ে ধর্ষণের শিকার ভিকটিমদের সেবা দিচ্ছি।

এই বিভাগের আরো খবর