শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১০ ১৪২৮

ভ্যাক্সিনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পলাশ

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

# জেলায় ৫ লাখ টিকা দেয়া হয়েছে, হাজারখানেক ভুল হতেই পারে- সিভিল সার্জন
 

 

সহ-ধর্মিণীকে ভুল করোনা প্রতিষেধক ভ্যাক্সিন দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ জানাতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজকে অভিযোগ জানাতে যান তিনি।

 

কাউসার আহমেদ পলাশের সহধর্মিণী করোনা প্রতিষেধক প্রথম ধাপে নিবন্ধন করলেও গতকাল ১১  সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ৩০০শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে প্রথম ডোজ ভ্যাক্সিন নিতে যান। নিবন্ধন অনুযায়ী করোনা প্রতিষেধক কোভিশিল্ড দেবার কথা থাকলেও তাকে হাসপাতাল থেকে সিনোফার্ম ভ্যাক্সিন প্রদান করা হয়, কাউসার আহমেদ পলাশ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ডোজ ও এপ্রিলে দ্বিতীয় ডোজ নিলেও তার সনদে ভুল তারিখ দেওয়া এবং দুই জন শ্রমিক নেতার করোনা নিবন্ধন করে ভ্যাক্সিন না নেবার পরও তাদের মোবাইলে ভ্যাক্সিন সম্পূর্ণ করায় সনদ সংগ্রহের জন্য ম্যাসেজ আসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজকে জানান কাউসার আহমেদ পলাশ।

 


এসময় ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ কাউসার আহমেদ পলাশকে তার সকল অভিযোগের সমস্যার সমাধান দেবার প্রত্যয় ব্যাক্ত করে বলেন, আমরা আপনার প্রতিটি অভিযোগের সমাধান করে দেবার ব্যবস্থা করছি। এই বলে তিনি কাউসার আহমেদ পলাশের নিবন্ধন কার্ড, তার সহধর্মিণীর নিবন্ধন কার্ড এবং দুইজন শ্রমিক নেতার নিবন্ধন কার্ড নিয়ে তা ঠিক করে দিতে বলেন সিভিন সার্জন কর্মকর্তাদের।

 


কাউসার আহমেদ পলাশ তখন সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,আজ আমি সচেতন বলে আপনার কাছে এই সমস্যা গুলোর অভিযোগ নিয়ে এসেছি। এভাবেই একের পর এক অন্যায় হচ্ছে হাসপাতাল গুলোতে সাধারণ মানুষদের সাথে। আজ আমার সমস্যা আপনে সহজে করে দিলেন কিন্ত সাধারণ মানুষগুলো তো হয়রানির সম্মূখীন হচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো একটু সচেতন হলে এভাবে আমাদের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় না। আর সাধারণ মানুষগুলো তো আরো হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে আপনাদের একটু ভুলে।

 


পলাশের কথার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন,আমরা স্বাস্থ্য দপ্তরগুলো বর্তমান অনেকটা চাপের ও সমস্যার মুখে আছি। আর খানপুর হাসপাতাল আমাদের অর্ন্তর্ভূক্ত নয়। সেখানে কোন সমস্যা হলে আপনেরা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আছে তার সাথে গিয়ে যোগাযোগ করবেন। তখন খানপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেগুলো দেখবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কাছে আসলে আমরা খানপুর হাসপাতালকে অবগত করতে পারবো এর বেশি কিছু করার দায়িত্ব আমাদের হাতে নেই।

 


কোভিশিল্ড এর জায়গায় ভূল করে সিনোফার্ম টিকা দেওয়া হচ্ছে কেনো এর দায় কি হাসপাতাল কতৃপক্ষ বা যে টিকা দিচ্ছে সে নিবে?,নিবন্ধন করার পরও যারা এখন পর্যন্ত টিকা নেয়নি কিন্তু  মোবাইলে টিকা গ্রহণ করায় সনদ সংগ্রহের মেসেজ কেনো এসেছে ? এছাড়া যারা গত দেড় দুই মাস ধরে করোনা প্রতিষেধক ভ্যাক্সিন নেবার জন্য নিবন্ধন করেছে তাদের মোবাইলে কেনো টিকা নিতে মেসেজ আসতেছে না? সাংবাদিকদের এসকল প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, কোভিশিল্ড এর জায়গায় ভুল করে সিনোফার্ম টিকা দেওয়া হচ্ছে এর সম্পূর্ণ দায় প্রতিষ্ঠানের নয় ব্যক্তির। ব্যক্তি সঠিক টিকার বুথে না গিয়ে অন্য বুথে চলে যাচ্ছে তাই এ সমস্যা হচ্ছে। আর খানপুর হাসপাতালে যদি এমন ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই কারন এই হাসপাতাল আমাদের আওতার বাহিরে।

 

যারা আগে নিবন্ধন করেছে কিন্তু কোন কারণে যদি ভ্যাক্সিন নিতে না পারে তাহলে আগে নিবন্ধনের তারিখ অনুযায়ী ভ্যাক্সিন গণ্য করা হতো সেই হিসেবেই মোবাইলে মেসেজ এসেছে সনদ গ্রহণের জন্য। কিন্ত এখন স্ক্যানার করা হয়। কার মোবাইলে ম্যাসেজ গেছে কার মোবাইলে যায় নাই। নারায়ণগঞ্জে  এক লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছে ভ্যাক্সিন নিতে কিন্তু হাসপাতালে প্রতিদিন ৬০০ জন করে ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে সেক্ষেত্রে এই এক লাখ মানুষের মোবাইলে টিকা নিতে একটু দেরি হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি আরো বলেন, এই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫ লাখ মানুষ করোনার ভ্যাক্সিন নিয়েছে।  সেখানে ১ হাজার মানুষের ভুল হতেই পারে। সেক্ষেত্রে এর দায় তো প্রতিষ্ঠানের না। ব্যক্তির অবহেলার কারণেএই ঘটনাগুলো ঘটছে। তারা সময় মত ভ্যাক্সিন নিতে আসছে না।


 

এই বিভাগের আরো খবর