রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১   চৈত্র ২৭ ১৪২৭

মামুনুল হক অনৈতিক কাজে জড়িত ছিল : মাহবুবুল আলম হানিফ

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১  

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মামুনুল হকের একটি নারী ঘটিত বিষয়ে সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, মামুনুল হক এখানে যখন রিসোর্টে উঠেছিলেন তখন রেজিস্টশনে তার নামের পাশে তার স্ত্রী হিসেবে নাম লিখেছিলেন, সে নামটি তার বৈধ স্ত্রীর নাম (আমিনা তৈয়বা)। এই নারী (যাকে নিয়ে রিসোর্টে অবস্থান করছিল) যদি তার বৈধ স্ত্রী হতো তাহলে সে তার আসল নাম জাহানারা ঝর্ণাই লিখতেন।

 

তার এই ঘটনায় প্রমাণিত যে, সে অনৈতিক কাজে জড়িত ছিল। সে এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় গাড়িতে উঠে তার এই মিথ্যাচারকে ঢাকার জন্য তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন যে, আমি জনগণের সামনে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়েছিলাম। আসলে আমার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। সে আমার বন্ধু শহিদুলের স্ত্রী। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়, আসলে ঐ মহিলা তার স্ত্রী ছিল না। সে একটা অনৈতিক কাজে ছিল।

 

বুধবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সোনারগাঁয়ে মামুনুলের ঘটনা ও এর জের ধরে পরবর্তী হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় তিনি আরো বলেন, মামুনুল হক এখানে একটি রিসোর্টে জনগণের কাছে ধরা পড়ে। সেই জনগণ যখন তার এই অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করে, সেই সময় তার অনুসারীরা এসে রিসোর্ট ভাঙচুর করে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি যে সমস্ত ব্যক্তি, মুসল্লী ও জনগণ এই অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করেছেন, তাদের উপর চড়াও হয়ে তাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর করে। এর পাশাপাশি আওয়ামীলীগের অফিসও ভাঙচুর করে। আমাদের যুবলীগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরসহ দোকানপাট ভাঙচুর করে। তাদের উপর নির্যাতন করে, এমনকি মহিলাগণও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাদের উপরও অত্যাচার করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আমি একজন মুসলমান হিসেবে অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে বলছি, যারা মুসলমান বা ইসলাম ধর্মের প্রচারক হিসেবে দাবিদার সেই ধর্ম ব্যবসায়ী, তিনি একটা অন্য নারীকে আরাম আয়েশ করার জন্য রিসোর্টে গিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী কালে এই ধর্ম ব্যবসায়ী সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে, এটা তার বৈধ স্ত্রী। নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছিলেন। তার অনৈতিক কাজকে রক্ষা করার জন্য তার হেফাজত নামের ধর্মভিত্তিক দলের নেতৃবৃন্দ তার পক্ষে সাফাই গাইলেন যে এটা তার বৈধ স্ত্রী।

 

মাহবুবুল আলম বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো এই ধর্মব্যবসায়ীরা প্রচন্ড মিথ্যে বলে, এদের কথায় এবং কাজে মিল নেই। এরা ধর্মের দোহাই দিয়ে এহেন কোন অপকর্ম নাই যে, এরা করতে পারে না। এরা ধর্মকে শ্রদ্ধা করে না, ধর্মকে এরা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে তারা যারা ধর্মান্ধ, যারা অল্প শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত মাদরাসাসহ বিভিন্ন ছাত্রদের প্রভাবিত করে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে যাচ্ছে। 

 

এ সময় তিনি হাটহাজারী, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করে না। এরা এখনো মনে প্রাণে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। এখনো পাকিস্তানের প্রেমে অন্ধ। তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, তাদের বিদেশী প্রভুদের নেতৃত্বে ব্যর্থ করার চক্রান্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি এ ধরণের সংগঠন বিশেষ করে জামায়াত ও হেফাজতকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চায়। আমরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা তাদেরকে আশ্বস্ত করি, আমরা চেষ্টা করবো দলীয়ভাবে সহায়তা করার জন্য পুনর্বাসন করার জন্য।

 

তিনি বলেন, হাটহাজারী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও সোনারগাঁয়ের এসব কমকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের নাম ঠিাকানা বের করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা কে কি করে, সব কিছু বের করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে খুজে বের করে আমরা তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করব। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এসব হামলায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মামলা করার জন্য। যারা মামলা করেন নাই তারাও মামলা করবেন। সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে আমরা বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য দুর করব।

 

তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সারা দেশের আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে বলতে চাই, এরপর থেকে এই ধর্ম ব্যবসায়ী, যুদ্ধপরাধী বা বিএনপি যারাই হোক না কেন, এই বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে যারা উন্নয়নকে বাধা সৃষ্টি করবে, ধ্বংসাত্মক কাজ করবে, এগুলোকে আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রত্যেক জেলায় উপজেলায় সরকার এবং প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সতর্ক থাকবে, প্রস্তুত থাকবে, এ সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য প্রশাসনকে সহায়তা করবে। জনগণকে নিয়েই কঠোরভাবে এদেরকে দমন করা হবে। হেফাজত কোন রাজনৈতিক দল না, একটি সংগঠন। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছাড়া রাজনীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আওয়ামী লীগের বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য মির্জা আজম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মীরা কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্য নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারাণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমসহ নেতৃবৃন্দ।
 

এই বিভাগের আরো খবর