শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ২ ১৪২৮

মামুনের বহিস্কার চান গোগনগরের নেতৃবৃন্দ

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২১  

নৌকা নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য করার জন্য সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে বহিস্কার করার জন্য দাবী তুলেছেন গোগনগর ইউনিয়নের তৃণমূল নেতারা। একই সাথে এই নেতার  বহিস্কার না হলে বিভিন্ন হুশিয়াররি প্রদান করেন। যারা আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে বক্তব্য প্রদান করে তাদের মত নেতা মানতে চাননা বলে জানান বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

 

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামীলীগের দলের জেলার শীর্ষ নেতার সামনে থানার নেতা নৌকাকে অবমাননা করে বক্তব্য দেয় আর আর জেলার নেতা ওই খানে বসে নিরব থাকে। এজন সচেতন রাজনীতিবিদদের থেকে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতা নাকি লেতা। জেলার শীর্ষ নেতা হয়ে কি করে নিরব থাকলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে গোগনগর চরসৈয়দপুর মাঠে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার নিহত শহীদদের স্বরনে আলোচনা  সভায় বিভিন্ন নেতারা এই বক্তব্য প্রদান করেন।

 


গোগনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, যে ব্যক্তি কমিটিতে নাই সে কিভাবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন। সদর থানার আল মামুনের এত বড় দুঃসাহস কি করে হয় তিনি নৌকার বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করেন। আমরা চাই তিনি তার বক্তব্যের জন্য নিঃশর্তে ক্ষমা চাইবেন। অন্যথায় আমরা দল থেকে তাকে বহিস্কার চাই। যারা নৌকার বদনাম করে কথা বলে এই ধরনের লোক আমরা চাই না। প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা মনোনয়ন দিবেন তৃনমূল নেতৃবৃন্দ তার পক্ষে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ পদপদবীর জোরে বাহিরে গিয়ে অন্য কিছু করবেন তা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতারা মেনে নিবে না। নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে সেই চেয়ারম্যান হবে।

 


গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, থানার সেক্রেটারি যদি বলেন, নৌকার দরকার নেই। নৌকা একটা মার্কা। তার এই বক্তব্যে আমরা ধিক্কার জানাই। তিনি নৌকাকে অবমাননা করে নেত্রীকে অবমাননা করেছেন। তাকে জেলা নেতাদের নিকট জবাব দিহি করতে হবে। তিনি ভূলেই গেছেন নৌকা প্রধামন্ত্রীর প্রতীক। নৌকা স্বাধীনতার প্রেরনা। আমি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হয়ে সদর থানার সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানাই। যারা নৌকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে দলের মাঝে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে। এমন নেতা আমরা চাই না। এদেরকে দলের বাহিরে রাখা হউক।

 


গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার বলেন, মোসলেহ উদ্দিন ভুয়া সভাপতি। ২০০৩ সালে এসএম মোসলেহউদ্দিনের বড়ভাই সদর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রয়াত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক হাজী মো.হায়দার আলী স্বাক্ষরিত গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিরউদ্দিন আহমেদ এবং প্রথম সহ-সভাপতি ছিলাম আমি আজিজ সরকার। গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিরউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পদটি শূন্য হয়। সিনিয়র হিসেবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাকে (আজিজ মাষ্টার) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত করা হয়।

 


জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, নৌকা দেয়ার মালিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। নেত্রী যাকে নৌকা দিবেন আমরা তার পক্ষে ঝাপিয়ে পরবো। আমরা কোন আম পাতা, তালপাতা, কলা পাতার পক্ষে নির্বাচন করবো না। আমরা আশা রাখি বসন্তকোকিল হাইব্রিড কাউয়াদের বাদ দিয়ে নেত্রী নৌকা দিবেন। আমি অবাক হয়ে যাই আমাদের জেলার কিছু নেতার সামনে থানার নেতা নৌকার বিরুদ্ধে কিভাবে বক্তব্য রাখেন। তিনিইবা তা নিরবে কি করে শুনেন। আমি দখলবাজ,চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে। এটা আমার নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। নেত্রী আমাকে জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্ব দিয়েছেন কোন হাইব্রিড ব্যক্তি যেন নৌকা না পান তা দেখার জন্য। আমরা কোন তালপাতা বা কাঠালপাতার ব্যক্তিকে নৌকা প্রতিক দিবোনা।

 


নাম প্রকাশ না করে নেতাকর্মীরা বলেন,গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যানারে ২৪ আগষ্ট  বিকালে পূরান সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ২১ আগষ্ট বোমা হামলার প্রতিবাদে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ আল মামুন।

 

উল্লেখ্য ২৪ আগষ্ট এক সভায় সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদকে আমরা অনেক আগে গোগনগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। নৌকার দরকার নেই। নৌকা একটা মার্কা। আম পাতা মার্কা নিয়ে হলেও আমরা ফজর আলীকে নির্বাচিত করবো। নৌকার প্রতীক মনোনয়ন দিবে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার। নৌকা দেয়ার মালিক শামীম ওসমান। তার এই  বক্তব্যের পর পুরো গোগনগর জুরে সমালোচনা তৈরী হয়েছে। যা জেলা কিংবা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছেছে। তার এই বক্তব্যের কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী উঠেছে। জেলার এবং কেন্দ্রীয় নেতারা কি সিদ্ধান্ত নেন তার অপেক্ষা আছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
 

এই বিভাগের আরো খবর