বুধবার   ১২ মে ২০২১   বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযানের দাবী ভোক্তাদের

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২১  

রমজান আর লকডাউনের আতঙ্কে চড়া নিত্যপন্যের বাজার। রোজার আগে প্রতিবারই বাড়ে নিত্যপন্য দ্রব্যের দাম। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে আসন্ন লকডাউন। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্ত আর নিম্মবিত্তের মাথায় হাত। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তারা। একই সাথে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পন্য না কিনতেও পরামর্শ দিচ্ছেন ক্রেতাদের।
তবে বাজারের এই চড়া অবস্থা নতুন কিছু নয়। বছরের শুরু থেকেই চড়া  ছিল কিছু পণ্যের দাম। মাঝে কিছুটা কমলেও রমজানকে সামনে রেখে নতুন করে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় আগামী ১৪ই এপ্রিল থেকে আরো ১ সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের আগাম খবরে আরও অস্থির হয়ে শুরু করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের বাজার। মাঝে কিছুদিন ক্রেতা সমাগম কম থাকলেও শুক্রবার থেকে নিত্যপণ্যের বাজারে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
বাজারে আগত ক্রেতাদের অভিযোগ, ২-৩ দিন আগেও সবজিসহ কিছু পণ্যের দাম কমের দিকে ছিল। কিন্তু রমজান ও লকডাউনকে কেন্দ্র করে সেগুলোর দাম বাড়ানো হয়েছে। অপর দিকে ব্যবসায়ীদের দাবী, পন্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। এছাড়া লকডাউন ঘোষণার দিন থেকেই বাজারে ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কিনে নিচ্ছেন।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে প্রতিটি পন্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। লকডাউনে প্রতিদিন বাজারে বের হওয়া সম্ভব না। তাই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পন্য কিনে নিতে হচ্ছে। তাছাড়া লকডাউনের সময় সামনে বাড়ালে তখন আরও বিপাকে পেতে হবে সকলকে। তাই সকলেই বাড়তি বাজার করে নিচ্ছেন। দাম বেশী হাঁকলেও জীবন বাঁচানোর তাগিদে চড়া মূল্যেই কিনতে হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার কিংবা প্রশাসন যদি বাজারগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতো তাহলে কিছুটা নিস্তার পেতাম আমরা।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, আমরা রোজাকে সামনে রেখে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি। আজকেও (১০ এপ্রিল) সাইনবোর্ড ও জালকুড়ি এলাকায় আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। লকডাউনকে সামনে রেখে দাম বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, তবে আমরা জড়িতদের ছাড় দিচ্ছি না। আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দাম বাড়তির ব্যাপারে ক্রেতাদেরকেও কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পন্য না কিনেন সেই পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। বেশী পন্য মজুদ করলে বাজারে কৃত্তিম সংকট তৈরী হয়। তাই সকলেরই এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরী।

এই বিভাগের আরো খবর