মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১

মেয়াদহীন রুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রোগীদের

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৩  



নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের অবস্থার অবনতি যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ বানিয়ে দেয়। এর মধ্যে হাসপাতালের রন্ধনশালায় মান সম্মত খাবার পরিবেশন হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে রোগীদের কাছ থেকে।

 

 

হাসপাতালের চিকিৎসার সেবার মানে যেমন ঘাটতি রয়েছে তেমন খাবারের ক্ষেত্রেও রোগীরা মানসম্মত খাবার পাচ্ছেনা। সেখানে রোগীদের সকালের খাবার হিসেবে পাওরুটি, পাওডার দুধ ও কলা দেওয়া হয়। মেয়াদহীন পাওরুটি সরবরাহসহ ওইখানে যে কলা দেওয়া হয় তা খেয়ে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 এক কথায় থেতলে যাওয়া বাসি কলা  রোগীদেরকে দেওয়া হচ্ছে। দুপুর ও রাতে ভাত, তরকারিসহ, ডাল পরিবেশন করা হয়। তবে সেই তরকারি খাওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না বলে অভিযোগ রোগীদের।  

 


রোগীদের অভিযোগ এখানকার খাবারের মান ভালো না, মাছ রান্না করলে সেটাও নাকি ভালো করে রান্না করা হয় না যার জন্য তরকারিতেও গন্ধ পাওয়া যায়। সকালে যে দুধ টা দেওয়া হয় সেটাও নাকি একেবারে পাতলা পানি ঢালা। এ নিয়ে নার্সদের কাছে কিছু বলতে গেলে তারা রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।

 

 

আর খাবার পানির জন্যও সেখানে আলাদা কোনো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায়, তারা টয়লেটের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করেন। অন্যথায় তারা পানি কিনে বা পাশের মসজিদ থেকে পানি সংগ্রহ করে আনে। পানিতে দুর্ঘন্ধ ও ময়লাও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রোগীরা। এতে করে এখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের খাবারের সময় অনেকটাই বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হয়।

 


সেখানে এক ভর্তি রোগী বলেন, খাবার যা দেওয়া হয় তা মাঝে মাঝে খেতেও পারি না, ফেলে দেওয়ার উপক্রম। এখানে ডাল যা দেওয়া হয় একেবারেই পানি পানি। আর খাবার পানি তো পাওয়াই যায় না।

 


এখানে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া এক রোগী বলেন, নার্সদের সাথে কোনো বিষয় বলতে গেলে তারা অনেক দুর্ব্যবহার করেন। তাই খাবারের বিষয় তেমন কোনো অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এবিষয় জানানো হলেও তারা তেমন কোনো ব্যবস্থা নেন না।

 


এ বিষয়ে খানপুর হাসপাতালের উপ-পরচালক ডা. আবুল বাসার বলেন, হাসপাতালে প্রত্যেকটা রোগী যারা ভর্তি হয় তাদের জন্য খাবার রান্না করা হয়।  আমি খাবারটা নিজে খাই, নিজে খেয়ে টেস্ট করি। আর আমি সপ্তাহে ৩ দিন হাসপাতাল পরিদর্শন করি। আর আমি খাবারে তেমন দুর্গন্ধ পাই না।  এন. হুসেইন রনী /জেসি

এই বিভাগের আরো খবর