বুধবার   ১২ মে ২০২১   বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

যেন ঈদের মত ভিড়!

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২১  

 আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা আসার পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র। এর আগে বিভিন্ন অফিস আদালত সীমিত আকারে খোলা রেখে ৭ দিনের লকডাউন দেয়া হলেও তা মানা হয়নি পরিপূর্নভাবে। সীমিত আকার থেকে বেরিয়ে এবার সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় অগ্রিম কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন অনেকেই।  
শনিবার (১০ এপ্রিল) দিনজুড়ে শহরে ছিল কেনাকাটার আমেজ। শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে শুরু করে, কালিবাজার, দিগুবাবুর বাজার, ১ নং রেলগেইট, মিশনপাড়া সহ সর্বত্রই ছিলো ক্রেতাদের বাড়তি আনাগোনা। ক্রেতাদের এমন চাপ দেখে উপস্থিত অনেকেই বলেন, রোজা আসার আগেই ঈদের ভিড় শুরু হয়ে গেছে।
তবে ক্রেতাদের আগমনেও ছিল যৌক্তিকতা। তারা বলছেন, আসন্ন লকডাউন বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাড়তি কেনাকাটা করে বাসায় থাকার পরিকল্পনা সকলের। দৈনন্দিনের কেনাকাটা সহ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতেই আসা হয়েছে শহরে। মাঝে কয়েকদিন লকডাউন দিলেও সেবার প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়নি। এখন কিছুটা সময় পাওয়ায় কেনাকাটা সেরে নিতে হচ্ছে।
শহরের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, চাকরিস্থল থেকে আজই মাসের বেতন পেয়েছি। ১৪ তারিখ লকডাউন দেয়ার কথা শুনে এসেছি কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিতে। রোজার মাসে এমনিতেও কেনাকাটা করা কষ্টকর। তার উপর লকডাউন শেষে কবে দোকানপাট খুলবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই এখনই কেনাকাটা করে নিচ্ছি।
একই মন্তব্য করেন উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা। তিনি বলেন, বাচ্চার জন্য কিছু কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি। বাচ্চার বাবা বাজারে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে। আজকেই মোটামুটি ১৫ দিনের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছি। বার বার বের হলে করোনার ঝুঁকি আর ভোগান্তিও। আজ শনিবার একটু ভিড় কম হবে ভেবে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু অন্যান্য দিনের মতই ভিড়। আসলে সকলেই আমাদের মত চিন্তা করেই আজ বেরিয়েছে।
এদিকে শনিবার (১০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১১৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এনিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৩ জনে। আর মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৩৯৮ জন। নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতাল (খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল) সূত্র জানায়, বর্তমানে মোট ৭৮ জন করোনা রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন রয়েছে আইসিইউতে। করোনা পরিস্থিতি ভালো নয় বলে স্বীকার করেছেন খোদ চিকিৎসকরাও।  

এই বিভাগের আরো খবর