বুধবার   ১৯ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮

লকডাউনে বাতাসের মানোন্নয়ন

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২১  

মাত্র ৫ দিনের লকডাউন চলছে দেশজুড়ে। জনজীবনে এর প্রভাব পড়ার সাথে সাথে বদলে গেছে আবহাওয়া। শুষ্ক মৌসুমে ধুলো বালির কারনে যেখানে বিশুদ্ধ বাতাসের উপস্থিতি ছিল অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় সেখানে মাত্র ৫ দিনে বাতাসের মাত্রা নেমে এসেছে মধ্যম অবস্থার কাছাকাছি। লকডাউনের ভেতর কলকারখানা চালু থাকলেও যানবাহন চলাচলের পরিমান কমে যাওয়ায় বাতাসের এমন উন্নতি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।


বাতাসে দূষনের পরিমান অত্যাধিক হারে বেড়ে যাওয়ায় শীত ও শুস্ক মৌসুমে প্রতিবার অবৈধ ইটভাটা বন্ধের তোরজোড় শুরু হয় সর্বত্র। অত্যান্ত অস্বাস্থ্যকর এই বাতাসের কারনে সাধারন মানুষে ফুসফুস ও শ্বাসনালি জনিত রোগ বৃদ্ধি পায়। করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি দূষিত বাতাস মানুষকে আরও বেশী রোগাক্রান্ত করে তোলে। বিষাক্ত বাতাসে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগেন জেলার বাসিন্দারা।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী এ সূচি অনুযায়ী বাতাসের মান ০-৫০ ভালো, ৫১-১০০ মধ্যম, ১০১-১৫০ সতর্কাবস্থা, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-৫০০ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। শনিবার নারায়ণগঞ্জ শহরের একিউআই মান ছিল ১১৬ যা বাতাসের সতর্কঅবস্থা হিসেবে বিবেচিত। বছরের অন্যান্য সময়গুলোতে বরাবরই অস্বাস্থ্যকর থেকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর মাত্রা বিরাজ করে জেলাজুড়ে।


নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশ ও বর্হিগমনের দুইটি সড়ক ঘুরে দেখা মেলে লকডাউনের সার্বিক চিত্র। দিনভর সড়কে যানবাহনের পরিমান অত্যান্ত কম। সড়ক জুড়েই ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার ছড়াছড়ি। আর এসব যানবাহন বাতাসের জন্য উপকারী হিসেবেই বিবেচিত। এরই মাঝে কিছু পন্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাফেরা করলেও তা একেবারেই হাতেগোনা। মূল শহরে যানবাহনের পরিমান কিছুটা বেশী থাকলেও শহরের বাইরে খুবই কম।


পরিবেশ অধিদফতরের সুত্র জানায়, বাতাসে দূষিত বায়ুর পরিমানের উপস্থিতির অন্যতম কারন হচ্ছে ইটের ভাটা। শুষ্ক মৌসুমে দেশের সবকয়টি ভাটা চালু হওয়ায় বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। ইটের ভাটা বন্ধ থাকলে বাতাসে দুষণের পরিমান অর্ধেকে নেমে আসে। বাকিটা বিভিন্ন কলকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোয়া, বর্জ্য পোড়ানো সহ বিভিন্ন বিষয় দায়ী।


করোনাকালে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের স্টেডিয়াম থেকে ভুইগড় পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে বন্ধ রয়েছে বর্জ্য পোড়ানো। এর ফলে বিপুল পরিমান পলিথিন ও প্লাস্টিক বাতাসে মিশ্রিত হওয়া বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য সময় এসব বর্জ্য পোড়ানোর গন্ধে যাত্রীদের নিঃশ্বাস নিতেও বেগ পেতে হয়। মাস্ক পড়েও বর্জ্য পোড়ানো ধোঁয়া থেকে নিস্তার পেতেননা কেউ। এই ভোগান্তির বিষয়টি  নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের সামনে একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও প্রতিবারই নিজেদের নিরুপায় হিসেবেই উপস্থাপন করেন তারা।


শহরের ফল ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান বলেন, শহরটা ফাঁকা হইসে গাড়িও কমছে। আগে রাস্তার ডিভাইডারে লাগানো গাছগুলার পাতা ধুলায় ভইরা থাকতো। এখন অনেক সবুজ লাগতাছে। পুরো শহরটা আগে থেকে সুন্দর লাগতাছে। যদিও করোনায় মানুষ মরতাছে অনেক, কিন্তু মানুষ যেমন দুনিয়ার উপর অত্যাচার করছে, দুনিয়াও ওই অত্যাচার ফিরায়া দিতাছে।


নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষক মাহবুব সুমন বলেন, আমরা যেই শহরে থাকি তার চারদিকেই কলকারখানা বিদ্যমান। এমন কারখানাপূর্ন আবাসিক এলাকায় বায়ু দুষন বেশী থাকবে এটিই বাস্তব। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারনে কিছুটা সাময়িক উন্নতি ঘটেছে। তবে এই উন্নতি দীর্ঘমেয়াদী ধরে রাখার জন্য পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো উদ্যোগ নিতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর