বুধবার   ১৯ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮

লঞ্চডুবির প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষা বাড়লো

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২১  

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ সাবিত আল হাসান ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। অথচ গত ১২ এবং ১৫ এপ্রিল দুটি সংস্থাই তাদের স্ব স্ব কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। চলমান লকডাউনের কারনে এই প্রতিবেদন গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান তারা। স¤প্রতি এই লকডাউন আরও ৭ দিন বৃদ্ধি করায় এই অপেক্ষার প্রহর আরও বাড়লো বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুটি তদন্ত প্রতিবেদনেই ২১ টি এবং ২৩ টি সুপারিশ করা হয়েছে নৌ দুর্ঘটনা রোধে। এসকল সুপারিশগুলো কি এবং কোন কোন সমস্যা এখনও বিদ্যমান তা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে এই নদী পথে যেসকল নৌ যান চলাফেরা করে তারা কতটা নিরাপদ ভাবে চলাফেরা করছে এবং কি কি ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে তা পুরোপুরি অজানা। তবে লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিক ভাবে দুটি প্রতিবেদনেই কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি ও নদী সংকুচিত হবার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর সাথে আর কি কি জড়িত তা জানতে আগ্রহী নদী সংশ্লিষ্ট সকলেই।

 

গত ১২ এপ্রিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের ২৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন নৌ সচিব মেজবাহ্ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে জমা দেন। এই প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করা হয় এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজটির বেপরোয়া গতি দূর্ঘটনার প্রধান কারণ। এছাড়া নদীর প্রশস্থতা কমে যাওয়া, চালকের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশ প্রতিবেদনে ভবিষ্যত দুর্ঘটনা রোধে ২৩টি সুপারিশ করা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নৌ পরিবহন মন্ত্রীর। এই প্রতিবেদনটি অনেক আগেই গণমাধ্যমে উঠে আসার কথা ছিলো। কিন্তু করোনা সংক্রমন ও লকডাউনের কারনে এটি আটকে গেছে। আমরা নির্ধারিত ৭ দিনের মাথায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হয়েছি। এখন ফাইলটি মন্ত্রীর কাছে রয়েছে। আমরা ধারনা করছি লকডাউন শেষ হবার পর খুব দ্রুতই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

 

একই ভাবে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের ২৬ পৃষ্টার একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন গত ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর নিকট জমা দেন। এই প্রতিবেদনে ২১টি সুপারিশ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান জেলা প্রশাসক। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্গো জাহাজটির বেপরোয়ার গতি ছিল, সিগনাল মানেনি, চালকের উদাসীনতা ছিল, সরু নদী পথ সহ তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের স্থাপনার ত্রুটি আছে। একই সাথে ভবিষ্যতে আর যেন দুর্ঘটনা না হয় সেজন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী এমন ২১ টি সুপারিশ।

 

তবে দুটি প্রতিবেদনে কি সুপারিশ করা হয়েছে তার কোনটিই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করায় অজানাই রয়ে গেছে কারনসমূহ। তদন্ত কমিটির আয়োজিত গণশুনানীতে ভুক্তভোগী, যাত্রী, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের সাথে প্রতিবেদন কতটা বাস্তবসম্মত হয়েছে তা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে না কেউই। একই সাথে যেসকল সুপারিশ করা হয়েছে তা কবে বাস্তবায়ন করা হবে, ইতিপূর্বে লঞ্চ দুর্ঘটনায় একই সুপারিশ করা হয়েছিলো কিনা? কিংবা আদৌও এসব সুপারিশ বাস্তবসম্মত কিনা তা বিবেচনার করার সুযোগ বন্ধ রয়ে আছে। চলমান লকডাউন বৃদ্ধির কারনে এর সময় আরও পিছিয়ে যাওয়ায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সকলেই।

 

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নৌ পুলিশের উপ পরিদর্শক জানান, প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টি যেহেতু সিক্রেট তাই এনিয়ে কোন মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না। এই ব্যাপারে কথা বলতে হলে আমার উপরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল বিকেল সোয়া ৬টায় মুন্সিগঞ্জগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ সাবিত আল হাসানকে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয় কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩। এ ঘটনায় ৩৪ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৬ এপ্রিল লঞ্চডুবির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ২ দিন পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার মেঘনা নদী থেকে এসকেএল-৩ নামের কার্গো জাহাজ ও জাহাজের ১৪ স্টাফকে আটক করে নৌ পুলিশ।
 

এই বিভাগের আরো খবর