রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১   চৈত্র ২৭ ১৪২৭

লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

নারায়ণগঞ্জের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। একদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম পাল্লা প্রতি (৫ কেজি) বেড়েছে আরও ৫০ টাকা।

আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দামও পাল্লা প্রতি ৩০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও ক্রেতাদের উপর এর কোন প্রভাব পরেনি। বরং ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির আশংকায় পেঁয়াজ কেনার অনেকটা হিড়িক পরে গেছে বাজারে। 

সরেজমিনে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শহরের দ্বিগুবাবুর বাজারে গিয়ে দেখায় যায়, দেশি পেঁয়াজ প্রতি পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকায়। যা গত মঙ্গলবারও ছিল ৪৫০-৫০০ টাকা। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৫০ টাকায়। যা মঙ্গলবারের তুলনায় ৩০-৫০ টাকা বেশি। 

দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই চট্টগ্রামের আড়ৎ থেকে এর দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়।

এরপর ঢাকার কারওয়ান বাজার এবং শ্যামবাজারেও এর দাম বৃদ্ধি করা হয়। তাই আমরাও বাধ্য হয়ে এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছি। তবে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় টন প্রতি গত দুই দিনে কতটাকা করে বাড়ানো হয়েছে, আর সে হিসেবে পাল্লা বা কেজি প্রতি কত টাকা বেড়েছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

শহরের গলাচিপা থেকে নিলুফা বেগম নামে এক গৃহবধূ দ্বিগুবাবুর বাজারে আসছেন দৈনন্দিন বাজার করতে। এর পাশাপাশি তিনি পেঁয়াজও কিনেছেন আট কেজি।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আপনি এত পেঁয়াজ কিনলেন কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মূলত পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনতে আসছি।

কিন্তু দাম বেশি থাকায় এবং ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির শংকায় আট কেজি কিনলাম। গৃহবধূ নিলুফা বেগমের মতো এভাবে বাজার করতে আসা অনেকে ভবিষ্যতের শংকায় প্রয়োজনের চেয়ে আরও বেশি কিনে রাখছেন। 

পেঁয়াজ আমদানির উপর আমদানি শুল্ক থাকছে না, ভারতকে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ এবং দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ আছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন-এরপরও আশ্বস্ত হতে পারছেন না অনেক ক্রেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ক্রেতা জানান, গতবারও এমনটা বলা হয়েছিল।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ আছে, শীঘ্রই আমদানি করা হচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-এমনটা বলা হয়েছিল। এরপরও কিন্তু পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩০০ টাকা উঠেছিল। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না শুনেই দাম বাড়ানো শুরু হয়ে গেছে। তাহলে আমরা কীভাবে আশ্বস্ত হবো বলেও জানান তিনি। 

এদিকে দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে এ বিষয়ে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার দুদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে। মানুষজন ভীত হয়ে পেঁয়াজ মজুত শুরু করে দিয়েছে।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় অস্তির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার। এতে বাজারে হুহু করে বাড়তে শুরু করে দাম। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে শতক হয়, দ্বিশতক হয়।

বাংলাদেশ চাহিদা মেটাতে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে। ভারত বন্ধ করে দিলেই কেবল ব্যবসায়ীরা অন্য দেশে পেঁয়াজ খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হয় পেঁয়াজ। পরে ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল গত মার্চ মাসে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর