সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

শামীম ওসমানকে ফোন করেছিলেন সাদরিল

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২১  

#  মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের মতো দাপুটে নেতাদের এলাকার বাসিন্দা ছিলেন মরহুমা তৌহফিজা বেগম, জানাজায় পেলেন না স্বামী ও পুত্রকে!


গত ১৪ জুলাই বুধবার মৃত্যুবরণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী এবং সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলের মা তৌহফিজা বেগম। কিন্তু পিতা গিয়াস উদ্দিন এবং পুত্র সাদরিল দুইজনেই বিভিন্ন মামলার আসামী। হেফাজতের হরতালের মামলায় তাদেরকে আসামী করা হয়। ফলে তারা মরহুমার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। 

 

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে মায়ের জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য কাউন্সিলর সাদরিল ফোন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান এমপি একেএম শামীম ওসমানকে। তিনি শামীম ওসমানকে অনুরোধ করেছিলেন, তিনি যেন প্রশাসনকে বলে দেন তারা জানাজায় অংশ নিলে যাতে প্রশাসন তাদেরকে গ্রেফতার না করেন। কিন্তু শামীম ওসমান সাদরিলকে বিনয়ের সহিত বলেন, ভাবি আমারও প্রিয় একজন মানুষ। তোমাদের বাড়িতে গেলে আমি ভাবির সাথে দেখা করে আসতাম। তার দোয়া নিয়ে আসতাম। তার মৃত্যুতে আমিও শোকাহত। কিন্তু প্রশাসনকে আমি বললে কোনো লাভ হবে না। প্রশাসন আমার কথা শুনবে না। ফলে এর মধ্য দিয়ে এই সময়কার ডাকসাইটে এমপি একেএম শামীম ওসমানের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

 


এদিকে এক সময় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। তিনি মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ফলে প্রয়াত জননেতা শামসুজ্জোহা এবং আলী আহম্মদ চুনকা দুইজনের সাথেই তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিলো। আর তখন আলী আহম্মদ চুনকার মেয়ের এবং মেয়র আইভীর ছোট বোন তথা আবদুল কাদিরের স্ত্রীর বিয়েতে উকিল দেন গিয়াসউদ্দিনকে। সেই সুবাদে গিয়াস উদ্দিন মেয়র আইভীর আত্মীয়। তাছাড়া কাউন্সিলর সাদরিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান কাউন্সিলর। ফলে মরহুমার মৃত্যুর সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে গিয়াসউদ্দিনের বাড়িতে ছুটে যান মেয়র আইভী। বাড়িতে গিয়ে তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শান্তনা দেন। কিন্তু তিনিও তাদেরকে জানাজায় অংশ নেয়ার ব্যাবস্থা করতে পারেননি। তিনিও প্রশাসনকে কোনো রকম অনুরোধ করেননি।

 

এদিকে মরহুমার এই মুত্যুতে তার স্বামী ও পুত্র অংশ নিতে না পারার বিষয়টি সারা নারায়ণগঞ্জে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়। নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষও হতাশা প্রকাশ করেন। অনেকে মন্তব্য করেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা তার স্ত্রীর জানাযায় অংশ নিতে পারেন না এর চেয়ে দুঃখের আর কিইবা হতে পারে। এটা এখন সকলেরই জানা হেফাজতের হরতালে গিয়াস উদ্দিন বা তার পরিবারের সদস্যদের কোনোই ভূমিকা ছিলো না। 

 

গিয়াস পরিবারের দাবি প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণও দিতে পারবে না। তার পরেও তাদেরকে মামলার আসামী করে হয়রানী করা হচ্ছে। আর প্রতিহিংসার রাজনীতি এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে মেয়র আইভী এবং শামীম ওসমানের মতো শক্তিমান নেতারা থাকতেও তাদের এলাকার একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের স্ত্রীর জানাজায় তার স্বামী এবং পুত্রকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। 

 
 

এই বিভাগের আরো খবর